পঞ্চগড় প্রতিনিধি    |    
প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
যৌন নির্যাতনের গ্লানিতে পঞ্চগড়ে স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা

তেঁতুলিয়া উপজেলায় ‘ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে তিন মাস ধরে শারীরিক সম্পর্কের শিকার’ এক ছাত্রী ‘আত্মহত্যা’ করেছে। সদর ইউনিয়নের কালারাম জোত গ্রামে মঙ্গলবার এ ঘটনা ঘটে। পরিবারের দাবি শারীরিক সম্পর্কের ভিডিও ধারণ ও ভয়ভীতি দেখানোয় অপমানে নবম শ্রেণীর ছাত্রী রহিমা আক্তার সোনিয়া (১৪) আত্মহত্যা করেছে। দিনমজুরের মেয়ে সোনিয়া তেঁতুলিয়া কাজী শাহাবুদ্দিন বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজে পড়ত।

সোনিয়ার মামা ফারুক অভিযোগ করেন, তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ওয়ার্ড বয় রাজন এবং তেঁতুলিয়া বাজারের বিকাশ এজেন্ট আতিক সোনিয়ার মৃত্যুর জন্য দায়ী। প্রায় তিন মাস আগে সোনিয়া তার অসুস্থ মায়ের জন্য ওষুধ কিনতে বাজারে যাচ্ছিল। এ সময় সহায়তার কথা বলে মনসুর আলম রাজন মোটরসাইকেলে তুলে সোনিয়াকে উপজেলা সদরে আতিকুর রহমান আতিকের বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে তারা জোর করে সোনিয়ার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করে তা ভিডিও ধারণ করে এবং তা প্রকাশ করার ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে ব্ল্যাকমেইল করে আসছিল। এ ঘটনা কাউকে জানালে অনলাইনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ভিডিও ফুটেজ প্রচার করার ভয় দেখিয়ে তারা তিন মাস ধরে সোনিয়াকে শারীরিক সম্পর্ক করতে বাধ্য করেছিল। সোমবার সোনিয়া ঘটনাটি তার মা ও মামাকে জানায়। সোনিয়ার মা সেলিনা বেগম ও মামা ফারুক ওই দুইজনের সঙ্গে কথা বলেন। এতে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে সোনিয়াকে নানা রকম হুমকি দেয়। এ অপমান সইতে না পেরে মঙ্গলবার সোনিয়া আত্মহত্যা করে। বুধবার ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে সোনিয়ার মরদেহ হস্তান্তর করে পুলিশ। ঘটনার পরপরই রাজন ও আতিক গা ঢাকা দিয়েছে। রাজন তেঁতুলিয়া উপজেলা সদরের মোমিনপাড়া এলাকার সোলেমান আলীর ছেলে এবং আতিক ক্ষণিয়াভিটা এলাকার বাছির উদ্দিনের ছেলে।

সেলিনা বেগম জানান, রাজন ও আতিক তার মেয়েকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য করে। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। সোনিয়ার বাবা জাহেরুল ইসলাম জানান, থানা তাদের মামলা নেয়নি। তেঁতুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সরেস চন্দ্র জানান, এ বিষয়ে ইউডি মামলা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কারও বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন স্থানীয়রা। তেঁতুলিয়া কাজী শাহাবুদ্দিন বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক নাজিমউদ্দিন জানান, রাজন ও আতিক ব্ল্যাকমেইল করে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক সম্পর্ক করে আসছিল। সোনিয়া সে পথ থেকে সরে আসার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু বারবার ভিডিও ফুটেজ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে রাজন ও আতিক তাকে বাধ্য করেছে আত্মহত্যা করতে। পুলিশ এ ঘটনায় কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার সাইফুল ইসলাম জানান, যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের বিচার চাই।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত