যুগান্তর রিপোর্ট    |    
প্রকাশ : ২১ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
বিবিএসের প্রতিবেদন
মৌসুমি দারিদ্র্যের শিকার ৭৪ লাখ মানুষ
ফসল তোলার মৌসুমের সঙ্গে পরিবর্তন হচ্ছে দেশের দারিদ্র্যহার। বছরের এক প্রান্তিকে দারিদ্র্যের হার সাড়ে ২২ শতাংশে নেমে এলেও একই বছরের অন্য সময়ে তা ২৭ শতাংশ ছাড়িয়ে যাচ্ছে। কখনও দরিদ্র আবার কখনও দরিদ্র অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসছেন প্রায় ৭৪ লাখ মানুষ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ প্রকাশিত খানা আয়-ব্যয় জরিপের খসড়া প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানা গেছে। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে প্রকাশ করা প্রতিবেদনটির ভুল সংশোধন করতে যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ড. মোস্তফা কে. মুজেরি যুগান্তরকে বলেন, এদেশে যে এখনও মৌসুমি দারিদ্র্য কমেনি, এটি তারই প্রমাণ। দারিদ্র্য পরিমাপের অন্যতম মাধ্যম হল আয়। এক্ষেত্রে যারা গ্রামে কৃষিকাজে বা অপ্রাতিষ্ঠানিক কাজে যুক্ত, বছরের কখনও কখনও তাদের হাতে কাজ থাকে না। ফলে তারা তখন দরিদ্রের কাতারে চলে যান। আবার যখন ধানকাটা বা অন্য কোনো কাজ আসে, তখন তাদের আয় বাড়ে এবং সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসে। এজন্য টেকসই দারিদ্র্য নিরসনে অফ সিজনে কাজের ব্যবস্থা করতে হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশের প্রায় ২৪ দশমিক ৩০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে অবস্থান করছে। সর্বশেষ হিসাবে দেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯ লাখ ৯৬ হাজার। এর ২৪ দশমিক ৩০ শতাংশ হিসাবে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা দাঁড়ায় ৩ কোটি ৯১ লাখ ২২ হাজারে। তবে মোট দরিদ্রের এ সংখ্যা বছরজুড়ে এক থাকেনি। বছরজুড়ে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ৩ কোটি ৬২ লাখ ২৪ হাজার থেকে ৪ কোটি ৩৬ লাখ ৩০ হাজারে ওঠানামা করেছে। বিবিএস সূত্র জানায়, এবারই প্রথমবারের মতো ত্রৈমাসিক হিসাবে সারা বছরের দারিদ্র্যহারের হিসাব পৃথকভাবে করেছে সংস্থাটি। গত বছরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত দারিদ্র্যের হার ছিল ২২ দশমিক ৫০ শতাংশ। আর চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে দারিদ্র্যের হার উঠেছে ২৭ দশমিক ১০ শতাংশে। দ্বিতীয় প্রান্তিক তথা গত বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরে দারিদ্র্যের হার দাঁড়ায় ২৩ শতাংশে। আর অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তৃতীয় প্রান্তিকে দারিদ্র্যের হার ছিল ২৬ দশমিক ১০ শতাংশ। এ তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪ দশমিক ৬ শতাংশ বা ৭৪ লাখ মানুষ মৌসুমে দরিদ্র থাকেন।
চরম দারিদ্র্যের হারেও বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে বছরজুড়ে। এক বছরে ১২ দশমিক ৩০ শতাংশ থেকে ১৪ দশমিক ১০ শতাংশে ওঠানামা করেছে নিম্ন আয়সীমায় দারিদ্র্যের হার। ফলে প্রায় ২৮ লাখ ৯৮ হাজার মানুষ দারিদ্র্য ও চরম দারিদ্র্যে ওঠানামা করছে।
বছরজুড়ে পল্লী অঞ্চলে দারিদ্র্যের হারে বেশি ওঠানামা করতে দেখা গেছে। গ্রাম এলাকায় ২৩ দশমিক ৬০ শতাংশ থেকে ৩০ দশমিক ৪০ শতাংশ পর্যন্ত দারিদ্র্যের হার ওঠানামা করেছে এক বছরে। এ হিসাবে পল্লীর দারিদ্র্য হারে ব্যবধান হয়েছে ৬ দশমিক ৮০ পয়েন্ট। প্রথম প্রান্তিকে ২৫ দশমিক ৩০ শতাংশ দারিদ্র্যহার দ্বিতীয় প্রান্তিকে নেমে আসে ২৩ দশমিক ৬০ শতাংশে। পরের প্রান্তিকে ২৭ দশমিক ৯০ শতাংশ ও শেষ প্রান্তিকে পল্লীর দারিদ্র্য হার ৩০ দশমিক ৪০ শতাংশে উন্নীত হয়।
পল্লী অঞ্চলের তুলনায় শহর অঞ্চলে দারিদ্র্যের হারে পরিবর্তন একটু কম। এক বছরে সাড়ে ১৫ শতাংশ থেকে ২১ দশমিক ২০ শতাংশ ওঠানামা করেছে শহরের দারিদ্র্যের হার। জরিপের প্রথম প্রান্তিকে শহর অঞ্চলে দারিদ্র্যের হার ছিল সাড়ে ১৫ শতাংশ। পরের প্রান্তিকে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২১ দশমিক ২০ শতাংশে। পরের প্রান্তিকে ২১ শতাংশে নেমে আসার ধারাবাহিকতায় তিন মাসে শহরের দারিদ্র্যহার সাড়ে ১৮ শতাংশে নেমে আসে।
নিম্ন আয়সীমায় চরম দারিদ্র্যের হার শহর অঞ্চলে ৬ দশমিক ৯০ শতাংশ থেকে ৮ দশমিক ২০ শতাংশ পর্যন্ত ওঠানামা করেছে। আর একই আয়সীমায় পল্লী অঞ্চলে দারিদ্র্যের হার ১৩ দশমিক ৮০ শতাংশ থেকে সাড়ে ১৬ শতাংশ পর্যন্ত ওঠানামা করেছে।
ফসল ওঠার পাশাপাশি বিভিন্ন দুর্যোগের কারণেও বিপুলসংখ্যক মানুষ সাময়িক দারিদ্র্যে পতিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করে জানা গেছে। এতে দাবি করা হয়েছে, দারিদ্র্যে পতিত হওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি করার মতো বিভিন্ন সংকটে পড়েছে শূন্য দশমিক ৮৬ শতাংশ মানুষ। মোট জনসংখ্যার বিচারে এর সংখ্যা দাঁড়ায় ১৩ লাখ ৮৫ হাজারে। সাময়িক সংকটে পরা এসব মানুষ সঞ্চয় ভাঙানো, স্বজনদের সহায়তা, প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক ঋণ, খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তনসহ বিভিন্ন উপায়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরেছেন বলে দাবি করা হয়েছে প্রতিবেদনে।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত