শওকত আলী বাবু, বাগেরহাট থেকে    |    
প্রকাশ : ২১ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
জয় ধরে রাখতে চায় আ’লীগ বিএনপি চায় পুনরুদ্ধার

‘দড়াটানা-ভৈরবপাড়, নদীর তীরে বসত যে হাট তার নাম বাগেরহাট।’ ‘আবার কেউ কেউ বলেন পান-সুপারির হাট তার নাম বাগেরহাট।’ নামকরণ যেভাবেই হোক কথিত আছে- হজরত খানজাহানের (রহ.) পুণ্যভূমি বাগেহরহাট সদর ও হজরত শাহজালালের (রহ.) সিলেট সদরে যে দল বিজয়ী হয় তারাই সরকার গঠন করে। ফলে আসনটি সব দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। ১৫ আগস্টের পর ১৯৭৯ সালে এমপি নির্বাচিত হয়ে শহীদ জিয়া সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পান আসম মোস্তাফিজুর রহমান। ১৯৯১ সালে জয়ী হওয়ার পর খালেদা জিয়া তাকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব দেন।

১৯৯৬ সালের ১২ জুনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মীর সাখাওয়াত আলী দারু এমপি হন। আবার ২০০১ সালে বিএনপির এমএএইচ সেলিম বিজয়ী হন। ২০০৮ ও ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে দারুর ভাই মীর শওকাত আলী বাদশা এমপি হন। আগামী নির্বাচনে এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের অনেকেই প্রার্থী হতে আগ্রহী। মর্যাদার এ আসনে শওকাত আলী ছাড়াও আর যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তাদের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ভ্রাতুষ্পুত্র বাগেরহাট-১ আসনের এমপি শেখ হেলাল উদ্দিন, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক ও বাগেরহাট পৌর মেয়র খান হাবিবুর রহমান, সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ও সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা শেখ আলী আহমেদ খোকন, কচুয়ার গোপালপুর গ্রামের সন্তান বাংলাদেশ মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শেখ মাহবুবুর রহমান, বর্তমানে অসুস্থ মীর সাখাওয়াত আলী দারুর সহধর্মিণী বঙ্গবন্ধুর নিকট-আত্মীয় ফরিদা আক্তার বানু লুচি, সাংবাদিক আহাদ উদ্দিন হায়দার প্রমুখ।

এছাড়া বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন বাগেরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ সালাম এবং ঢাকা মহানগর বিএনপির সাবেক সহদফতর সম্পাদক ও বাগেরহাট জেলা বিএনপির সহসভাপতি মনিরুল ইসলাম খান। জাতীয় পার্টির হাজরা জাহিদুল ইসলাম বাবলু, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের পক্ষে সুপ্রিমকোর্টের অ্যাডভোকেট শেখ আতিয়ার রহমান আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে কোণঠাসা হয়ে পড়ে আওয়ামী লীগ। তখন দুঃসময়ের কাণ্ডারি হয়ে ২০০৪ সালে বাগেরহাট পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন তৎকালীন জেলা যুবলীগের সভাপতি খান হাবিবুর রহমান। পরে তাকে কেন্দ্র করেই আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু হয়ে পরে শক্ত অবস্থানে পৌঁছায়। তিনি বেশ কয়েক দফা বাগেরহাটের মেয়র নির্বাচিত হন। সদ্য সমাপ্ত পৌর নির্বাচনে তিনি জয়লাভ করলেও নিজ দলের কয়েকজন নেতার চরম বিরোধিতার মুখোমুখি হন খান হাবিবুর রহমান। এর ধাক্কায় তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত গিয়ে ঠেকে। আগামী নির্বাচন পর্যন্ত যদি বিরোধ চলে তার সুফল ঘরে তুলবে বিএনপি।

যুগান্তরকে মীর শওকাত আলী বাদশা বলেন, ‘২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোটের জয়লাভের পর আওয়ামী লীগের অসংখ্য নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়। চার্জশিটেও তাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে।’ তিনি বলেন, ‘শেখ হেলালের নির্দেশে এই অঞ্চলের উন্নয়নের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। সর্বত্রই শেখ হাসিনার উন্নয়নের ছোঁয়া।’

দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দলের নেতাদের মধ্যে পদ পাওয়ার প্রতিযোগিতা, কোনো কিছুর বিরোধিতা করাই দূরত্ব নয়।’ পৌর নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হাবিবুর রহমানের বিরোধিতার বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘এটা নিছক তার ভ্রান্ত ধারণা। নেতাকর্মীরা কাজ করেছে বলেই তিনি জয়ী হয়েছেন।’ তিনি বলেন, ‘দল আমাকে যোগ্য মনে করলে মনোনয়ন দেবে। এছাড়া দল যদি অন্য কাউকে মনোনয়ন দেয় তা তিনি সানন্দে গ্রহণ করবেন।’

কথা হয় আওয়ামী লীগ প্রার্থী শেখ আলী আহমেদ খোকনের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, গত কয়েক দফায় দলের কাছে মানোনয়ন চেয়েছি। ওয়ান-ইলেভেনের সময়ে আমার ভূমিকা ছিল দৃশ্যমান। ভোটাররা উচ্চশিক্ষিত ক্লিন ইমেজের প্রার্থী চায়। আগামী সংসদ নির্বাচনে আমি মনোনয়ন প্রত্যাশী। আমাকে নমিনেশন দিলে বিজয়ী হয়ে নেত্রীকে আসনটি উপহার দিতে সক্ষম হব।

আওয়ামী লীগের আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী শেখ মাহবুবুর রহমান মিঠু বলেন, আগেও মনোনয়ন চেয়েছিলাম। বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে দেশ ও এলাকার উন্নয়নে কাজ করছি। তরুণ রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে চাই। আগামী নির্বাচনে দল আমাকে এ আসনে মনোনয়ন দেবেন বলে আশা করি।

বাগেরহাট জেলায় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে শেখ হেলাল উদ্দিন এখন কেন্দ্রে। আওয়ামী লীগের মধ্যকার বিরোধসহ বিরোধীদের শক্তি-সামর্থ্যরে বিষয়টি মাথায় নিয়ে বাগেরহাট-২ আসনে শেখ হেলাল উদ্দিনকে মনোনয়ন দেয়া হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। ২০০১ সালেও বাগেরহাট-১ এবং বাগেরহাট-২ আসন থেকে শেখ হেলাল নির্বাচন করেছিলেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ কামরুজ্জামান টুকু বলেন, ‘দলীয় সভনেত্রী শেখ হাসিনা যাকে মনোনীত করবেন তিনিই প্রার্থী হবেন। বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরেশোরে চলছে।’

আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী বাগেরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ সালাম বলেন, আসনটি বিএনপির শক্ত ঘাঁটি। সাংগঠনিক কাজ করতে গিয়ে পদে পদে বাধা পাচ্ছি। জেলা মহিলা দলের কর্মী সভা খুলনায় গিয়ে করতে হয়েছে। মামলা-হামলায় দলের নেতাকর্মীরা কাবু। পুলিশ প্রশাসন তাদের কথামতো চলছে- কোনো ন্যায়-অন্যায় মানছে না। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন।

বিএনপির অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা বিএনপির সহসভাপতি মনিরুল ইসলাম খান বলেন, ১/১১-এর অবৈধ সরকারের প্রলোভন, নির্যাতন উপেক্ষা করে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার অন্যতম আসামি হই। ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার সহকারী একান্ত সচিব হিসেবে আট বছরের অধিক সময় দায়িত্ব পালন করেছি। বেকার যুবকদের চাকরি থেকে শুরু করে ব্যাপক উন্নয়ন কাজ করেছি এলাকায়। আগামী নির্বাচনে দল নিশ্চয়ই আমার ত্যাগ, দলীয় ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা বিবেচনা করে মনোনয়ন দেবেন বলে আশা করি। বাগেরহাট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী রেজা বাবু বলেন, বিএনপি বড় দল তাই দলের মধ্যে বিরোধ থাকাটা স্বাভাবিক। তবে মনোনয়ন প্রত্যাশীর মধ্যে এমএ সালাম দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের কাছে অনেক বেশি পরীক্ষিত ও গ্রহণযোগ্য। দলের সাংগঠনিক অবস্থা অত্যন্ত মজবুত। বাগেরহাট-২ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী এমএ সালাম নিশ্চিত ধরেই দলের নেতাকর্মীরা কাজ করছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের কথা বললেও তা মানে না। রাস্তা বন্ধ করে তারা দলীয় সমাবেশ করলেও বিএনপির ঘরোয়া কার্যক্রমেও পুলিশের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হয়। কেন্দ্র ঘোষিত কার্যক্রম পার্টি অফিসের গেটের মধ্যেই করতে বাধ্য করা হয়। শুধু তাই নয়, ৫০ থেকে ১০০ জনের অধিক নেতাকর্মী জড়ো হলে পুলিশি হয়রানি শুরু হয়। তখন নাশকতার অজুহাত দেখিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের আটক করা হয়। দলীয় কার্যক্রম স্তিমিত করতে তার নামে ৭টি নাশকতার মিথ্যা মামলা ইতিমধ্যে হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত