উবায়দুল্লাহ বাদল    |    
প্রকাশ : ২১ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
সম্মাননা ক্রেস্ট জালিয়াতি
৩ বছর পার, আলোর মুখ দেখেনি তদন্ত রিপোর্ট
কমিটির প্রধান অবসরে
মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য বিদেশি বন্ধুদের সম্মাননা ক্রেস্টের স্বর্ণ চুরির ঘটনা নিয়ে তৎকালীন বাণিজ্য সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে কমিটির প্রতিবেদন তিন বছরেও আলোর মুখ দেখেনি। জিল্লার কমিটির রিপোর্টের পর অধিকতর তদন্তে বাণিজ্য সচিবের নেতৃত্বে ২০১৪ সালের ২ আগস্ট দ্বিতীয় কমিটি করা হয়। কমিটি তাদের প্রতিবেদন চূড়ান্তও করে। কিন্তু অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার কথা বলে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় মৌখিকভাবে প্রতিবেদন দাখিল না করার নির্দেশ দিলে সবকিছু থমকে যায়। কমিটির প্রধান হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন এরই মধ্যে অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) চলে গেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
তবে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন আইন ও বিচার বিভাগের সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক। তিনি ১২ অক্টোবর যুগান্তরকে বলেন, ‘বিষয়টি সঠিক নয়। মৌখিক নির্দেশে তদন্ত প্রতিবেদন আটকে থাকবে, তা বিশ্বাসযোগ্য নয়।’
৪ অক্টোবর সরকারি চাকরি থেকে পিআরএলে যান অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন। মহান মুক্তিযুদ্ধে অবিস্মরণীয় অবদানের জন্য বিদেশি বন্ধু ও সংগঠনকে দেয়া সম্মাননা ক্রেস্টে স্বর্ণ কম দেয়ার অভিযোগ অধিকতর তদন্তে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে আরেকটি কমিট করা হয়। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন যুগ্ম সচিব মোশারফ হোসেন (বর্তমানে একই মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব) এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ফয়েজ আহম্মদ (বর্তমানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব)। হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন পিআরএলে যাওয়ার আগে সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে বলেছেন, ‘অধিকতর তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।’ চিঠিতে বলা হয়েছে, মহান মুক্তিযুদ্ধে অবিস্মরণীয় অবদানের জন্য দেয়া ক্রেষ্টে স্বর্ণ কম দেয়ার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি অধিকতর তদন্তে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলা হয়েছিল। পরে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় বিষয়টি আরও অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না করার জন্য মৌখিকভাবে পরামর্শ দেয়া হয়। গত বছরের ২৫ জানুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে কিনা জানতে চেয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হলে তারও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
জানতে চাইলে কমিটির প্রধান হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন বলেন, যেহেতু বিষয়টি নিয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি তদন্ত করেছে এবং দুদকের তদন্ত চলমান, তাই আমাদের কমিটির প্রতিবেদন গ্রহণ করা হয়নি। যে কারণে প্রতিবেদন চূড়ান্ত হওয়া সত্ত্বেও আমরা জমা দিতে পারিনি। পিআরএলে যাওয়ার আগেই বিধি মোতাবেক বিষয়টি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সংসদীয় তদন্ত কমিটির একজন সদস্য যুগান্তরকে জানান, মন্ত্রণালয়ের কাজে অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠলে তা তদন্ত করার এখতিয়ার সংসদীয় কমিটিকে দেয়া আছে। যেহেতু এমপিরা জনগণের মাধ্যমে নির্বাচিত, তাই তাদের তদন্ত প্রতিবেদন প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তাদের তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর প্রাধান্য পাবে। বিষয়টি অধিকতর তদন্তের আর প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। জানা গেছে, ২০১৪ সালের প্রথমদিকে ক্রেস্টের স্বর্ণ জালিয়াতির অভিযোগ উঠলে তৎকালীন ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার জিল্লার রহমানকে (বর্তমানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব) প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটি ওই বছরই ৮ মে সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এবি তাজুল ইসলাম, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব কেএইচ মাসুদ সিদ্দিকীসহ ১৩ জন কর্মকর্তা এবং দুটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করে প্রতিবেদন দেয়। তবে বিভাগীয় কমিশনার পর্যায়ের কর্মকর্তাকে দিয়ে তার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। পরে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় থেকে অধিকতর তদন্তের অনুরোধ জানানো হলে তৎকালীন বাণিজ্য সচিবের নেতৃত্বে আরেকটি কমিটি গঠন করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
এছাড়া বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নামে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের উপপরিচালক শেখ আবদুস ছালামের নেতৃত্বে এখনও অনুসন্ধান চলছে বলে দুদক সূত্র জানিয়েছে। সংসদীয় কমিটিও তাদের তদন্ত শেষ করেছে।
প্রতিবেদনে তৎকালীন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী তাজুল ইসলামসহ অন্য কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ জিল্লার কমিটির প্রতিবেদনে প্রতিমন্ত্রী তাজুল ইসলামসহ অন্য কর্মকর্তাদের দায়ী করা হয়েছিল।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত