বিবিসি বাংলা    |    
প্রকাশ : ২১ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
প্রধান বিচারপতির কাজে ফেরার সুযোগ নেই
আবদুল মতিন খসরু
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা তার কাজে আর ফিরতে পারবেন না বলে মনে করেন আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবদুল মতিন খসরু। বৃহস্পতিবার রাতে চ্যানেল আই টেলিভিশনে প্রচারিত ‘বিবিসি প্রবাহ’ অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। মতিন খসরু বলেন, বিচারক যদি কখনও বিতর্কিত হন, দুর্নীতির অভিযোগ থাকে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গেই পদত্যাগ করতে হয়। অন্য বিচারপতিদের কাছে বিচারপতি সিনহা বলেছেন উনি রিজাইন করবেন। রিজাইন করার পরিবর্তে উনি একটা স্টেটমেন্ট দিয়ে চলে গেলেন। আবার এসে চেয়ারে বসতে চাচ্ছেন। অন্য বিচারপতিরা বলেছেন, তারা ওনার সঙ্গে আর বসবেন না। ওনার আসার আর সুযোগ নেই। আমার মনে হয়, এটা সুদূরপরাহত।
তবে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার আগে এক লিখিত বিবৃতিতে প্রধান বিচারপতি বলেছিলেন, বিচার বিভাগ যাতে ‘কলুষিত’ না হয়, সেজন্য তিনি ‘সাময়িকভাবে’ দেশ ছেড়ে যাচ্ছেন। প্রধান বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে ‘দুর্নীতির’ গুরুতর অভিযোগ তোলেন এই আওয়ামী লীগ নেতা। খসরু দাবি করেন, প্রধান বিচারপতি সিনহার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেন হয়েছে। ব্যাংকে পাঁচ-দশ কোটি টাকার লেনদেন কোত্থেকে হল- প্রশ্ন রাখেন তিনি।
প্রধান বিচারপতি অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার পর ১৪ অক্টোবর সুপ্রিমকোর্টের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে ১১টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সংবলিত কিছু তথ্য রয়েছে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের কাছে, যা হস্তান্তর করা হয়েছে আপিল বিভাগের অন্য পাঁচজন বিচারপতির কাছে। ওই বিবৃতির পর উত্থাপিত অভিযোগ সম্পর্কে প্রধান বিচারপতি সিনহার পক্ষ থেকে এখনও কোনো বক্তব্য দেয়া হয়নি। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা কিংবা অন্যদের উত্থাপন করা অভিযোগগুলো সম্পর্কেও তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। কিন্তু প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হল না কেন- বিবিসির এমন প্রশ্নে মতিন খসরু বলেন, আইনি ব্যবস্থা নেয়ার সময় চলে যায়নি। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। রাজনৈতিক দল বিএনপি মনে করে, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী রায়ের মাধ্যমে বাতিল করার কারণে সিনহার ওপর সরকার অসন্তুষ্ট ছিল। ওই রায়ের কিছু পর্যবেক্ষণ নিয়ে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা থেকে শুরু করে দলের অনেকেই প্রধান বিচারপতির কড়া সমালোচনা করেছেন। সরকারবিরোধী অনেক রাজনীতিকও মন্তব্য করেছেন, সরকারের চাপে প্রধান বিচারপতি ছুটিতে যেতে বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু মতিন খসরু বলেন, ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের সঙ্গে সিনহার ছুটির কোনো সম্পর্ক নেই। কারণ ওই রায় তিনি একা দেননি। অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার আগে প্রধান বিচারপতি নিজের শারীরিক সুস্থতা সম্পর্কে যে বক্তব্য দিয়েছেন, সে বিষয়ে মতিন খসরু বলেন, ‘২ অক্টোবর আপনি বললেন অসুস্থ লিখিতভাবে, এখন মুখে বলছেন সুস্থ। মানুষ কোনটি বিশ্বাস করবে।’ সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও আইনজীবী ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন বলেন, প্রেসিডেন্ট এটি সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে পাঠাতে পারতেন। সেটিতেও সুপ্রিমকোর্টের বিচারকরাই থাকতেন। কাউন্সিল হলেই চিফ জাস্টিস ডিসপিউটেড হয়ে যেতেন। তিনি আর কোর্টে বসতে পারতেন না। এটুকু করলেই তো হয়ে যেত। কিন্তু এ বিষয়ে মতিন খসরু বলেন, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল বর্তমানে বিদ্যমান নেই এবং এটা নতুন আইনের মাধ্যমে করতে হবে। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ আপিল বিভাগের অন্য বিচারপতিদের কাছে দিয়েছেন। অভিযোগগুলোর বিষয়ে অন্য বিচারপতিরা প্রধান বিচারপতির কাছে জানতে চাইলে তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি বলে উল্লেখ করেন তিনি।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত