যুগান্তর রিপোর্ট    |    
প্রকাশ : ২১ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
বৃষ্টিতে বেচাবিক্রি কম
নিম্নমুখী চাল, মাছ, কাঁচামরিচ ও মুরগির দাম

দিনভর বৃষ্টি। শুক্রবার এ বৃষ্টির প্রভাব পড়ে রাজধানীর বেশির ভাগ বাজারে। ক্রেতার অভাবে খুচরা ব্যবসায়ীদের বেচাবিক্রি ছিল কম। এদিকে দাম কম ছিল চাল, বিভিন্ন মাছ, কাঁচামরিচ ও মুরগির। সবজির দাম নতুন করে না বাড়লেও ৫০ টাকার ওপরই ছিল। শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, শেওড়াপাড়া বাজার, কলমিলতা কাঁচা বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে এ চিত্র। ব্যবসায়ীরা জানান, ক্রেতার অভাবে তাদের ব্যবসা জমেনি। কারণ বৃষ্টিতে মানুষ বাজারমুখী হয়নি। যাদের একেবারেই না এলে চলে না, শুধু এ রকম কাস্টমাররাই এসেছেন।

জানতে চাইলে কারওয়ান বাজারের সবজি ব্যবসায়ী জুয়েল বলেন, অন্যদিন সকালে যে বিক্রি হয় শুক্রবার তার অর্ধেকও হয়নি। মানুষ না এলে বেচব কার কাছে। চাল ব্যবসায়ী বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘দ্যাখেন না বাজার একেবারে ফাঁকা, মানুষ নাই। বেঁচাবিক্রির অবস্থা খুবই খারাপ। মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছে না।’

বৃষ্টিতে ভিজে শেওড়াপাড়া বাজারে এসেছেন বেসরকারি একটি সংস্থার কর্মকর্তা মো. জাফর আলী ও তার স্ত্রী। তারা জানান, ‘আজ রাতে তাদের বাসায় মেহমান আসবেন, তাই বৃষ্টি হলেও তাদের বাজারে আসতে হয়েছে। না হলে হয়তো বাজার করাই হতো না।’

বাজার ঘুরে দেখা যায়, কিছুটা নিম্নমুখী চালের দাম, মিনিকেট বিক্রি হয়েছে ৫৯-৬০ টাকা কেজিদরে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৬১-৬২ টাকা। বিআর-২৮ বিক্রি হয়েছে ৫২-৫৩ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ৫৫-৫৬ টাকা কেজি। পারিজাত বিক্রি হয় ৪৬-৪৮ টাকা কেজি, যা আগে ছিল ৪৮-৪৯ টাকা। নাজিরশাইল বিক্রি হয় ৬৫-৮০ টাকা কেজি, যা আগে ছিল ৬৬-৮২ টাকা কেজি। জিরাশাইল বিক্রি হয়েছে ৫৮ টাকা কেজি, আগে ছিল ৬০ টাকা। ভারতীয় স্বর্ণা বিক্রি হয়েছে ৪৪-৪৬ টাকার মধ্যে, যা আগে ছিল ৪৭-৪৮ টাকা কেজি।

কারওয়ান বাজারের চাল ব্যবসায়ী আবু রায়হান জগলু বলেন, বেশির ভাগ চালের দামই নিম্নমুখী। সামনের দিনগুলোতে দাম কমতে পারে বলে আভাস দেন তিনি। এ ব্যবসায়ী আরও বলেন, বাজারে ক্রেতা নেই। শুক্রবারের সাপ্তাহিক বাজারের জন্য আমরা অপেক্ষা করে থাকি। কিন্তু ক্রেতা না এলে বিক্রি করব কার কাছে।

ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ১২০ টাকা কেজিদরে। এছাড়া লাল লেয়ার প্রতি কেজি ১৪০-১৫০ টাকা এবং সাদা লেয়ার ১২০-১২৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। গরুর মাংস আগের দামেই অর্থাৎ ৪৮০ টাকা কেজি এবং খাসির মাংস ৭৫০ টাকা এবং বকরির মাংস ৬৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতাদের আনাগোনা কম। বিক্রেতাদের হাঁকডাক চলছে সমানতালে। ক্রেতা কম থাকায় হতাশা প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। কারওয়ান বাজারের মাছ ব্যবসায়ী শুকুর আলী বলেন, খুচরা মাছের বাজারে রুই ও কাতলা বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ২০০-২৭০ টাকা, চিংড়ি মাছ বিক্রি হয়েছে বড় আকারে প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৮৫০-৯০০ টাকা, মাঝারি আকারের ৬০০ টাকা, যা আগে ছিল ৭০০ টাকা এবং ছোট আকারের ৪০০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ছিল ৫০০ টাকা কেজি। এছাড়া তেলাপিয়া প্রতি কেজি ৯০-১০০ টাকা, সিলভার কাপ ৮০-৯০ টাকা, পাবদা ৩০০-৩৫০ টাকা, পাঙ্গাশ ৭০-১০০ টাকা এবং সরপুঁটি ৯০-১০০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হয়েছে।

সবজির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, নতুন করে দাম না বাড়লেও এখনও বেশির ভাগ সবজির দামই ৫০ টাকার ওপরে। এ ছাড়া কাঁচামরিচের দাম কমে বিক্রি হয়েছে ১০০ টাকা কেজিদরে, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৬০-১৮০ টাকা কেজি। এছাড়া সবজির মধ্যে ঝিঙ্গা বিক্রি হয়েছে ৫০-৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০ টাকা, টমেটো বিক্রি হয়েছে ১১০-১২০ টাকা, ফুলকপি ছোট আকারের ৩৫ টাকা পিচ, বাঁধাকপি ৪০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, শসা ৫০ টাকা কেজি, বরবটি ৬০ টাকা কেজি, ধনেপাতা বিক্রি হয়েছে ১২০-১৩০ টাকা কেজি, এছাড়া সিম ১২০ টাকা, কাঁকরোল ৫০ টাকা, পটোল বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকা, আলু ২০-৩০ টাকা, কচুমুখী ৩৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৫৫ টাকা কেজি, আমদানি পেঁয়াজ ৫০ টাকা। আমদানি রসুন প্রতি কেজি ৮০ টাকা, দেশি রসুন ৯০-১০০ টাকা কেজি এবং আদার দাম কিছুটা বেড়ে বিক্রি হয়েছে ১৩০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ছিল ১১০ টাকা। এছাড়া সয়াবিন তেল, চিনি, ডালের দাম রয়েছে আগের মতোই।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত