যুগান্তর রিপোর্ট    |    
প্রকাশ : ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
বাপুসের সাধারণ সভায় ঘোষণা
নোট-গাইড বন্ধের আইন হলে কঠোর আন্দোলন
৮ খাতের ২৫ লাখ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে
বই প্রকাশক ও বিক্রেতারা অভিযোগ করেছেন, নোট-গাইডের নামে শিক্ষা আইনে অনুশীলনমূলক গ্রন্থ বন্ধের পাঁয়তারা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বিভাগে ঘাপটি মেরে থাকা সরকারবিরোধী অংশ প্রস্তাবিত আইনে এ ধরনের ধারা সংযোজনের ষড়যন্ত্র করছে। এর ফলে প্রকারান্তরে এ খাতে জড়িত ২৫ লাখ পরিবারকে ষড়যন্ত্রকারীরা সরকারবিরোধী আন্দোলনে উসকে দিচ্ছে। অবিলম্বে খসড়া আইন থেকে জনবিরোধী ধারাগুলো বাতিল না করলে সারা দেশে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি সব ধরনের গ্রন্থ প্রকাশ ও বাঁধাই বন্ধ করে দেয়া হবে।
শনিবার রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির (বাপুস) বার্ষিক সাধারণ সভায় এ হুমকি দেন তারা। এতে বক্তারা আরও বলেন, পুস্তক ব্যবসার সঙ্গে অন্তত ৮টি খাত জড়িত। এগুলো হচ্ছে- পুস্তক প্রকাশক, ব্যবসায়ী, কাগজ শিল্প, মুদ্রণ শিল্প, বাঁধাই শিল্প, কালি শিল্প, ব্যাংকিং খাত, উপন্যাস-গবেষণাসহ সৃজনশীল গ্রন্থ। তারা আরও বলেন, বর্তমানে সৃজনশীল শিক্ষা ব্যবস্থা চালু আছে। এ ব্যবস্থায় নোট-গাইড প্রকাশ করা সম্ভব নয়। কেউ তা প্রকাশও করছেন না। পাঠ্যবইয়ের আলোকে সহায়ক অনুশীলনমূলক গ্রন্থ প্রকাশ করা হচ্ছে। কিন্তু আইনে যে ‘নোট ও গাইড’ শব্দ যুক্ত করা হচ্ছে, তাতে প্রকারান্তরে অনুশীলনমূলক গ্রন্থকেই বোঝানো হচ্ছে। এটাই উল্লিখিত ৮ খাতের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের দুশ্চিন্তার কারণ। এ কারণেই তারা এ প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। পাশাপাশি বাপুসের সম্ভাব্য আন্দোলনে মুদ্রণ শিল্প সমিতি, জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি, বাংলাদেশ মুদ্রক ও বিপণন সমিতি, বাংলাদেশ পুস্তক বাঁধাই মালিক সমিতি, কালি শিল্প সমিতি, বাংলাদেশ পেপার মিলস অ্যাসোসিয়েশনসহ দশটি খাত একাত্মতা প্রকাশ করেছে।
ওই সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। সভা উদ্বোধন করেন এফবিসিসিআই সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম (মহিউদ্দিন)। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাপুস সভাপতি মো. আরিফ হোসেন ছোটন। এ সময় সমিতির সহ-সভাপতি মো. সালাহউদ্দিন, সাবেক সহ-সভাপতি ওসমান গণি, শ্যামল পাল, কামরুল হাসান শায়ক, ইঞ্জিনিয়ার মেহেদী হাসান, শামসুল ইসলাম বাহার, আলমগীর মল্লিকসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সমিতির সহ-সভাপতি শরীফ-উল আলম ও সাবেক পরিচালক নেসার উদ্দিন আইয়ুব। মুদ্রক ও বিপণন সমিতির সভাপতি শহীদ সেরনিয়াত, মুদ্রণ শিল্প সমিতির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম, ওয়ার্ড কাউন্সিলর দেলোয়ার হোসেন, সারোয়ার হোসেন আলোসহ অন্যরা বক্তৃতা করেন।
প্রধান অতিথি সাঈদ খোকন বলেন- ঢাকা শহর সবার। একজন আওয়ামী লীগ কর্মী যেমন এ শহরে বাস করেন, তেমনি বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ রাজনীতিসংশ্লিষ্ট সবার এ শহর। তাই এ শহরকে বাসযোগ্য রাখতে সবাইকে এগিয়ে আসার পাশাপাশি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। তিনি বলেন, আগে যথাসময়ে বই পেত না শিক্ষার্থীরা। এখন জানুয়ারির শুরুতে বই চলে যায় ছাত্রছাত্রীদের হাতে। বাপুসের এতে ভূমিকা রয়েছে।
এফবিসিসিআই সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম (মহিউদ্দিন) বলেন- শিক্ষিত ও সৃজনশীল জাতি গঠনে ভূমিকা রাখছে পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি। দেশে মানসম্পন্ন শিক্ষকের অভাব রয়েছে। তাই শিক্ষা ব্যবস্থায় অনেক রেফারেন্স বইয়ের প্রয়োজন রয়েছে। বাপুসের সঙ্গে অনেক শিল্প জড়িত। শিক্ষা আইনে সৃজনশীল অনুশীলনমূলক বই নিয়ে আমরা শিগগিরই শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় বসব।
সভাপতি আরিফ হোসেন বলেন, প্রস্তাবিত শিক্ষা আইনে সৃজনশীল অনুশীলনমূলক সহায়ক বই প্রকাশ ও বিক্রয় পরিপন্থী উল্লেখ করে যে ধারা-উপধারা আছে তা আইনে পরিণত হলে দেশের ২৮ হাজার বইয়ের দোকান বন্ধ হয়ে যাবে। ২৫ লাখ মানুষ বেকার হয়ে পড়বেন। এসব শিল্পে ব্যক্তিগত ও ব্যাংক খাতের হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ রয়েছে। যা প্রস্তাবিত শিক্ষা আইন বাস্তবায়িত হলে বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। সহায়ক বই বন্ধ হলে ছাত্রছাত্রীরা কোচিং ও প্রাইভেট টিউটরের ওপর নির্ভরশীল হবে। পণ্ডিত ব্যক্তিদের সৃজনশীল পুস্তক প্রকাশের সুযোগ বন্ধ হবে। এমনকি পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলে প্রভাব ফেলবে। কেননা, বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে- ৯৬ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী এই গ্রন্থ নির্ভরশীল।
জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি মাজহারুল ইসলাম বলেন, বইবান্ধব সরকারকে প্রশাসনের একটি অংশ বিপথে পরিচালিত করে শিক্ষা আইনে বিতর্কিত ধারা সংযোজন করছে। এতে আমাদের ব্যবসা বন্ধ হবে। আমরা এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি। পাশাপাশি আগামীর যে কোনো আন্দোলনে আমাদের সমিতি পাশে থাকবে।
বাঁধাই সমিতির সভাপতি মনিরুল ইসলাম বাদশা বলেন, আমরা শুধু অনুশীলনমূলক গ্রন্থই নয়- সৃজনশীল, পাঠ্যবইসহ সব ধরনের গ্রন্থ বাঁধাই করি। অনুশীলনমূলক গ্রন্থ প্রকাশের ওপর আঘাত এলে সব ধরনের বাঁধাই আমরা বন্ধ করে দেব।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত