যুগান্তর রিপোর্ট, সাভার    |    
প্রকাশ : ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
সাভারে সম্পত্তি রক্ষায় হিমশিম খাচ্ছে বন বিভাগ
সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নে বন বিভাগের শতকোটি টাকার সম্পত্তি রক্ষা করতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে দলিল সম্পাদন ও রেকর্ডের কারণে কোর্ট অব ওয়ার্ডস বন বিভাগের সম্পত্তি রক্ষার্থে বড় বাধা হয়ে আছে। চলতি বছর জুনে বিরুলিয়া ইউনিয়নের শ্যামপুর কুমারখোদা মৌজার বঙ্গাব্দ ১৩৭৯ থেকে ১৪১৫ সন পর্যন্ত ১১ লাখ ৮৭ হাজার টাকা খাজনা পরিশোধসহ বন বিভাগের বিরুলিয়া ইউনিয়নের ২৫ একর ভূমির জন্য এক কোটি টাকা খাজনা পরিশোধ করেও তাদের সম্পত্তি রক্ষা করতে পারছে না। ২০ ডিসেম্বর বন বিভাগের সশস্ত্র কর্মীরা শ্যামপুর কুমারখোদা এলাকায় শতাধিক ফাঁকা ছোড়ে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করলেও স্বস্তিতে নেই বন বিভাগ। স্থানীয় প্রভাবশালী মহল ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের ছত্রচ্ছায়ায় আবারও ওই সম্পত্তি দখলের পাঁয়তারা করা হচ্ছে বলে বন বিভাগ আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
এরই মধ্যে অবৈধ দখলদারদের পক্ষে শ্যামপুর কুমারখোদা এলাকায় কোর্ট অব ওয়ার্ডসের লিজ গ্রহীতাদের বাড়িঘর ভেঙে দেয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে এলাকাবাসী। শুক্রবার বিকালে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাসেম সন্দ্বীপ সড়কে সাভার প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন তারা। গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও শ্রমিক নেত্রী মোশরেফা মিশু মানববন্ধনে বলেন, ২০ ডিসেম্বর শ্যামপুর কুমারখোদা এলাকায় স্থানীয় ভূমিহীনদের বাড়িঘর লক্ষ করে প্রায় ১০০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে গাজীপুর বন বিভাগের কর্মকর্তারা। অপরদিকে বন বিভাগের অভিযোগ, তাদের জমি দখল করে স্থানীয়রা বাড়িঘর নির্মাণ করে বসবাস শুরু করে। পরে বন বিভাগ কর্তৃপক্ষ ওই জমিতে থাকা কাঁচাপাকা বাড়িঘর ভেঙে দেয়। অবিলম্বে তাদের বাড়িঘর নির্মাণ করে দেয়ার জন্য বন বিভাগের প্রতি আহ্বান জানান মোশরেফা মিশু। তা না হলে তিনি কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি উচ্চরণ করেন।
শনিবার সকালে বন বিভাগের বিট অফিসার আবদুল জলিল যুগান্তরকে জানান, ২০০৯ সালে সাভার উপজেলা পরিবেশ ও বন উন্নয়ন কমিটির সভায় সামাজিক বনায়ন বিধিমালা মোতাবেক মুক্তিযোদ্ধাদের অগ্রাধিকার দিয়ে তাদের সঙ্গে বন বিভাগ চুক্তিবদ্ধ হয় এবং কয়েক বছর ধরে তারা বনায়ন কর্মসূচি পালন করছেন। এ অবস্থায় কোর্ট অব ওয়ার্ডস তাদের সম্পত্তি ভূমিহীনদের বরাবর লিজ দেয় বলে জানা গেছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। এ কারণেই বন বিভাগ অবৈধভাবে তাদের সম্পত্তিতে ঘরবাড়ি নির্মাণ করলে তা উচ্ছেদ করা হয়েছে। তিনি জানান, সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের ৫টি মৌজায় তাদের ৩৪১.৬১ একর জমির খাজনা বাবদ চলতি বছর জুনে এক কোটি টাকার খাজনা পরিশোধ করেছেন। তার মধ্যে ঝুমকা মৌজার ৭৮.৯৬ একর, কুমারখোদা মৌজার ৪২.১৭ একর, ছোট কালিয়াকৈর মৌজায় ১৩৭.১৭ একর, দামপাড়া মৌজায় ৬২.০২ একর এবং চৌবাড়ীয় মৌজায় ২১.৩৫ একর জমির খাজনা পরিশোধ করেছেন। তারপরও এসব জমি নিয়ে কোর্ট অব ওয়ার্ডস এবং স্থানীয় প্রভাবশালী মহলগুলো বন বিভাগ ও তাদের উপকারভোগীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ও দেওয়ানি ২৯টি মামলা দিয়েছে। ২০ ডিসেম্বরের উচ্ছেদ ঘটনায়ও একটি অভিযোগ কোর্ট অব ওয়ার্ডসের মাধ্যমে আদালত বরাবর দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে সাভার মডেল থানার ওসি মহসিনুল কাদের জানান, সাভার মডেল থানায় ২০ ডিসেম্বরের ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। বন বিভাগ নিজ ক্ষমতা বলে মামলা গ্রহণ, গ্রেফতার ও চার্জশিট দিতে পারে। বন বিভাগ পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের অধীনে এবং কোর্ট অব ওয়ার্ডস ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকায় দুই মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রচেষ্টায় এ বিষয়টি সমাধান করা যেতে পারে। ঢাকা বন বিভাগ কালিয়াকৈর রেঞ্জর ফরেস্ট অফিসার ফরেস্টার আবদুল জলিল ১৩ ডিসেম্বর সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর স্বাক্ষরিত লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করেন, অবৈধভাবে তাদের ভূমি জবরদখলের অপচেষ্টায় লিপ্ত বনদস্যু ও ভূমিদস্যুদের হাত থেকে সরকারি অর্থে সৃজিত বন বাগান রক্ষা ও সরকারি স্বার্থ অক্ষুণœ রাখার অনুরোধ জানান। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, সাভার উপজেলার সিএস/এসএ জেএল নং ৬৮৮ কুমার খোদা মৌজার সিএস/এসএ দাগ নং ১৬ এর ৫৮.৫০ একর ভূমি বনভূমি গেজেটভুক্ত এবং বন বিভাগ ভোগদখলরত অবস্থায় আছে। ভূমি গেজেট নোটিফিকেশন নং ৪৮৩৬ এলআর ও ৪৮৪৯ এলআর অনুসারে সব একোয়ার্ড ও ভেস্টেড বনভূমি সরকারের কর্তৃত্বাধীন ন্যস্ত করা হেয়েছে।
এদিকে বন বিভাগ তাদের সম্পত্তি রক্ষার্থে আদালতে সিআর মামলা নং ৮২০, ৮২১, ৮২২ এবং ৮২৩ করেছে। এসব মামলায় কোর্ট অব ওয়ার্ডসের পক্ষে বেলায়েত হোসেন সিকদার, জসিমউদ্দিন পাটোয়ারী, মো. সাবু মোল্লা, মো. আবদুল বারেক, মো. বাছের, মো. শাজাহান, জাহাঙ্গীর উদ্দিন পাটোয়ারী, মো. ইব্রাহীম, দেলায়ার হোসেন, আবদুল হালিম ও মো. খোকনের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন। কোর্ট অব ওয়ার্ডসের পক্ষে জসিমউদ্দিন শনিবার সকালে মুঠোফোনে জানান, তারা কয়েকজন এ মামালায় জামিন নিয়ে এসেছেন। তারা বিধিসম্মতভাবে কোর্ট অব ওয়ার্ডস থেকে অস্থায়ী ভিত্তিতে এক বছরের জন্য ভূমি লিজ নিয়ে ঘরবাড়ি নির্মাণকাজ শুরু করলে বন বিভাগ তাতে বাধা দেয়। সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিতে সেখানে মোতায়েন রয়েছে।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত