হামিদ-উজ-জামান    |    
প্রকাশ : ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
চট্টগ্রামের সড়ক উন্নয়ন সংস্কার ও বিদ্যুতায়নে বিশেষ উদ্যোগ
একনেকে উপস্থাপন আজ * ব্যয় হবে ৬৩০ কোটি টাকা * চলন্ত সিঁড়িযুক্ত ফুটওভারব্রিজ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন
বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের সড়ক উন্নয়ন, সংস্কার ও বিদ্যুতায়নে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ জন্য ব্যয় ধরা হচ্ছে ৬৩০ কোটি টাকা। এর প্রধান লক্ষ্য সিটি কর্পোরেশন এলাকার অবকাঠামো উন্নয়ন ও আলোকায়ন। পাশাপাশি বন্যা, প্লাবন, বৃষ্টি ও জোয়ারের সময় সৃষ্ট দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসন করে জনভোগান্তির অবসান ঘটানো। এ জন্য ‘চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এবং ব্রিজসমূহের উন্নয়নসহ আধুনিক যান যন্ত্রপাতি সংগ্রহ ও সড়ক আলোকায়ন’ নামের একটি প্রকল্প হাতে নিচ্ছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এ কাজে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৫০৪ কোটি টাকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থা সিটি কর্পোরেশনের তহবিল থেকে ১২৬ কোটি টাকা ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পর ইতিমধ্যে প্রকল্পটির প্রক্রিয়াকরণ শেষ করেছে পরিকল্পনা কমিশন। আজ মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে। অনুমোদন পেলে আগামী জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে অনুমোদনের আগেই প্রকল্পের আওতায় শহরে চলন্ত সিঁড়িযুক্ত ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার ব্যাখ্যা চেয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নে দ্বৈততা পরিহার ও সঠিক ক্রয় পরিকল্পনা তৈরির তাগিদ দেয়া হয়েছে।
প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে- ১০৮ দশমিক ৫০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে ৮৯টি রাস্তার উন্নয়ন, ৩৬টি ব্রিজ নির্মাণ, ১৩৮ দশমিক ৭৪ কিলোমিটার বিদ্যুতায়ন, ৪টি রাস্তা রক্ষণাবেক্ষণ, ৪টি এসকেলেটর (চলন্ত সিঁড়ি)-সহ ফুটওভারব্রিজ স্থাপন, চারটি ড্রাম ট্রাক, একটি পানি বহনকারী ট্রাক, কোয়ালিটি নিয়ন্ত্রণের জন্য ল্যাব যন্ত্রপাতি ক্রয়, বিটুমিনাস বহনকারী গাড়ি সংগ্রহসহ একটি গ্রোটেবল অ্যাসফল্ট প্ল্যান্ট ক্রয়।
এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য জুয়েনা আজিজ কমিশনের মতামত দিতে গিয়ে বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। পণ্য পরিবহন সহজ হবে। এ ছাড়া কম কার্বন নির্গমন এবং শক্তি শোষণ সম্পর্কিত পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার করে ট্রাফিক ও পথচারীদের জন্য রাস্তায় আলোর সুবিধা নিশ্চিত হবে। তিনি জানান, এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্য উন্নত হলে আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। তাই প্রকল্পটি অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর। রাজস্ব আয়ের একটি বড় অংশ এ বন্দর থেকে আসে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাওয়ার জন্য পণ্যবাহী গাড়ি সিটি কর্পোরেশন এলাকার সড়ক ব্যবহার করে থাকে। তাই শহরের রাস্তাঘাট উন্নয়নসহ বন্দরের কার্যক্রম চালু রাখার পাশাপাশি বন্দরনগরীর সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম এলাকার অবকাঠামো উন্নয়ন, উন্নত সড়ক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক স্থাপন এবং শহর এলাকার পরিবেশগত উন্নতি, বিদেশি বিনিয়োগকারী ও পর্যটকদের আকৃষ্ট করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। কিন্তু বর্তমানে শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই খারাপ হয়ে পড়েছে। এদিকে শহরের জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং নাগরিকদের ক্রমবর্ধমান নগর সুবিধার চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়ন কার্যক্রম গত এক দশকে অনেক গুণ বেড়েছে। তাই নিজস্ব অর্থায়নে উন্নয়ন কাজ সম্পাদন করা সিটি কর্পোরেশনটির পক্ষে দুরূহ হয়ে পড়েছে। ফলে সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব তহবিলের সঙ্গে সরকারি তহবিলের অর্থায়নে বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় প্রস্তাবিত ৪টি চলন্ত সিঁড়িযুক্ত (এসকেলেটর) ফুটওভারব্রিজ স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন। এগুলোর প্রয়োজনীয়তাসহ কোথায় তা স্থাপন হবে এবং ব্রিজের ড্রইং ও ডিজাইন তৈরি করে সে অনুযায়ী ব্যয় নির্ধারণের সুপারিশ দিয়েছে সংস্থাটি। সেই সঙ্গে প্রকল্পের আওতায় সড়কের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ আলাদাভাবে উল্লেখসহ ব্যয় নির্ধারণের তাগিদ দেয়া হয়েছে। বাজার দরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যানবাহন ও যন্ত্রপাতির দাম নির্ধারণের জন্য বলা হয়েছে। জানতে চাওয়া হয়েছে প্রস্তাবিত ল্যাবের বিস্তারিত ব্যয় বিভাজনও। ক্রয় প্যাকেজের সংখ্যা যৌক্তিকভাবে কমিয়ে ক্রয় পরিকল্পনা যথাযথভাবে প্রণয়নের তাগিদও দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া চলমান অন্যান্য প্রকল্পের সঙ্গে প্রস্তাবিত প্রকল্পের যাতে কোনো দ্বৈততা তৈরি না হয় সে জন্য সতর্ক করে দেয়া হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনের পক্ষ থেকে।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত