• মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯
যুগান্তর রিপোর্ট    |    
প্রকাশ : ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
নানা আয়োজনে বড়দিন পালিত
রাজধানীর একটি হোটেলে সোমবার বড়দিন উপলক্ষে শিশুদের মধ্যে উপহারসামগ্রী বিতরণ করেন সান্তাক্লজ -যুগান্তর

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা আয়োজনে সোমবার পালিত হয়েছে খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিন। খ্রিস্ট ধর্মের প্রবর্তক যিশু খ্রিস্ট এ দিনে ফিলিস্তিনের বেথেলহেমে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন, সৃষ্টিকর্তার মহিমা প্রচার এবং মানবজাতিকে সত্য ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত করতে যিশুর এ ধরায় আগমন ঘটেছিল। বাংলাদেশের খ্রিস্ট ধর্মানুসারীরা যথাযথ ধর্মীয় আচার, আনন্দ উৎসব ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করেন।

ধর্মীয় এ উৎসব উপলক্ষে সোমবার ছিল সরকারি ছুটির দিন। দিনটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে পৃথক বাণী দিয়েছেন। বড়দিন উপলক্ষে রাজধানীর গির্জা ও হোটেলগুলো সাজানো হয়। গোশালা স্থাপন এবং রঙিন কাগজ, ফুল ও আলোর বিন্দু দিয়ে দৃষ্টিনন্দনভাবে সাজানো হয় ক্রিসমাস ট্রি। গির্জা ও অভিজাত হোটেলগুলোতে শিশুদের জন্য নানা ধরনের আয়োজন থাকে। প্রধান আকর্ষণ হিসেবে ছিল সান্তা ক্লজ। তিনি শিশুদের নানা উপহার দেন।

বড়দিন উপলক্ষে সোমবার বঙ্গভবনে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। সবাইকে বড়দিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, খ্রিস্ট ধর্মের প্রবর্তক মহামতি যিশু খ্রিস্ট ছিলেন মুক্তির দূত, আলোর দিশারী। পৃথিবীকে শান্তির আবাসভূমিতে পরিণত করতে তিনি খ্রিস্ট ধর্মের সুমহান বাণী প্রচার করেন।

পোপ ফ্রান্সিসের বাংলাদেশ সফরের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এ বছর বাংলাদেশে বড়দিন উদযাপন অন্য বছরের তুলনায় আরও বেশি আনন্দময় ও তাৎপর্যপূর্ণ। পোপ ফ্রান্সিস প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সফর করেছেন। তিনি এ দেশের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের জনগণের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তাদের অনুভূতি জেনেছেন। আমার বিশ্বাস, তার এই সফর বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্যকে আরও সমুজ্জ্বল করবে।

বাংলাদেশের কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি রোজারিও, ডিপ্লোম্যাটিক কোরের ডিন ভ্যাটিকানের রাষ্ট্রদূত জর্জ কোচেরিসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এ অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন রাষ্ট্রপতি ও তার স্ত্রী। অনুষ্ঠানে একটি সঙ্গীত দল বড়দিনের গান পরিবেশন করে। বড়দিন উপলক্ষে বঙ্গভবনের দরবার হলে কেকও কাটেন রাষ্ট্রপতি।

এছাড়া দিনটি উপলক্ষে রাজধানীর তেজগাঁও ক্যাথেলিক গির্জায় বড়দিনে বিশেষ প্রর্থনার আয়োজন করা হয়। গির্জার মূল ফটকের বাইরে প্রতিবারের মতো এবারও বসে মেলা। স্টলগুলোতে বড়দিন ও ইংরেজি নতুন বছরের কার্ড, নানা রঙের মোমবাতি, সান্তা ক্লজের টুপি, জপমালা, ক্রিসমাস ট্রি, যিশু-মাতা মেরি যোসেফের মূর্তিসহ নানা আকর্ষণীয় দ্রব্যাদি বিক্রি হতে দেখা গেছে। রাজধানীর গির্জাগুলোর পাশাপাশি পাঁচতারকা হোটেল সোনারগাঁও লা মেরিডিয়ান, রেডিসন ও ওয়েস্টিনসহ বিভিন্ন হোটেলে সুসজ্জিত ক্রিসমাস ট্রি স্থাপন করা হয় এবং কেক কাটা হয়। দিনটি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কীর্তনের পাশাপাশি ধর্মীয় আসর বসে। গির্জায় গির্জায় অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ প্রর্থনা।

চট্টগ্রামে বড়দিন উদযাপন : চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, সোমবার সকাল থেকে চট্টগ্রাম নগরী ও জেলার বিভিন্ন গির্জায় বড়দিনের প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। বড়দিনের প্রার্থনায় শরিক হয়েছেন নারী-পুরুষ, শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ। তারা অভিন্ন কণ্ঠে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেন। এ উপলক্ষে গির্জাগুলোকে আলোক সজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে। গোশালা স্থাপন, রঙিন কাগজ, ফুল ও আলোর বিন্দু দিয়ে ক্রিসমাস ট্রিসহ নানা আয়োজনে গির্জাগুলোকে সাজানো হয়। নগরীর পাথরঘাটা গির্জায় সবচেয়ে বেশি লোকসমাগম হয়েছে। এদিকে বড়দিন উপলক্ষে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) পক্ষ থেকে নগরীর গির্জাগুলোয় নেয়া হয়েছিল বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত