আকতার ফারুক শাহিন, বরিশাল ব্যুরো    |    
প্রকাশ : ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
দক্ষিণের ২১ আসন
জাতীয় পার্টির দেড় ডজন প্রার্থী মাঠে
বিএনপির সাবেক কয়েক এমপি যোগদানের জন্য যোগাযোগ করছেন!
রংপুর সিটি নির্বাচনে জয় ও পিরোজপুর-৪ আসনের স্বতন্ত্র এমপি রুস্তুম আলী ফরাজীর যোগদানে দুটি বড় চমক দেখানো হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির দেড় ডজন নেতা দক্ষিণে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ তালিকায় আছেন দলের বর্তমান মহাসচিব সংসদ সদস্য রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম মেম্বার সংসদ সদস্য নাসরিন জাহান রতœা আমিন ও সদ্য দলে যোগ দেয়া সংসদ সদস্য রুস্তুম আলী ফরাজী, সাবেক এমপি আরেক প্রেসিডিয়াম সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু। ভোটের ঘাঁটির প্রশ্নে দক্ষিণের অন্তত ৫টি আসনে শক্ত অবস্থানে থাকা জাতীয় পার্টি এককভাবে নির্বাচন করলেও বরিশাল বিভাগে ভালো ফলাফল ঘরে তুলতে পারবে বলে মনে করছেন দলটির সিনিয়র নেতারা। এছাড়া সংসদ সদস্য রুস্তুম আলী ফরাজীর পর বিএনপিরও কয়েকজন সাবেক এমপি জাতীয় পার্টিতে যোগ দেয়ার জন্য কেন্দ্রে যোগাযোগ করছেন বলে দাবি করেছেন তারা।
নির্বাচন প্রশ্নে এখানে দু’ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা। দলের চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দেয়া সাম্প্রতিক বক্তব্য অনুযায়ী এমন প্রস্তুতি চলছে বলে জানান বরিশাল জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব মীর জসিমউদ্দিন। তিনি বলেন, ‘বিএনপি যদি নির্বাচনে আসে তাহলে হয়তো আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটে থেকেই নির্বাচনে অংশ নেবে জাতীয় পার্টি। সেক্ষেত্রে আমরা আসন ভাগাভাগি করব বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে। আর কোনো কারণে বিএনপি নির্বাচনে না এলে বরিশাল অঞ্চলের ২১টি আসনেই প্রার্থী দেব আমরা। পুরো দক্ষিণাঞ্চলেই তেমন প্রস্তুতি রয়েছে আমাদের। এমনকি আসন্ন সিটি নির্বাচনেও মেয়র পদে আলাদা প্রার্থী দেবে জাতীয় পার্টি। রংপুরে যে বিপুল বিজয় পেয়েছি আমরা সেই বিবেচনায় দেশজুড়ে এরশাদের নেতৃত্বের প্রতি জনগণের বিপুল সমর্থন বাড়ার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। সরকার পরিবর্তনের বিষয়টি নির্ভর করে জাতীয় নির্র্বাচনের ওপর। তখন কী হবে বা না হবে তা ঠিক করবে কেন্দ্র। তবে তার আগে ভোট কিংবা জনসমর্থন যাচাইয়ের যে সুযোগ তা আমরা নষ্ট করব না।’
দক্ষিণের ২১টি আসনের সব ক’টিতে প্রার্থী দেয়ার কথা বলা হলেও বিভিন্ন এলাকার নির্বাচনী হালচাল আর প্রার্থীদের তৎপরতা বিবেচনায় এখন পর্যন্ত দেড় ডজন নেতাকেই মাঠে দেখা যাচ্ছে। যারা প্রার্থী হতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ তালিকায় আছেন- পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য জাপা মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার, বরিশাল-৬ আসনের সংসদ সদস্য দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য নাসরিন জাহান রতœা আমিন, দলে সদ্য যোগ দেয়া পিরোজপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ডা. রুস্তুম আলী ফরাজী, বরিশাল-৩ আসনের সাবেক এমপি প্রেসিডিয়াম সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু, বরিশাল-৫ আসনে দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও বরিশাল জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক অধ্যাপক মহসিন উল ইসলাম হাবুল, বরিশাল-৩ আসনে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজাদা মুন্সি, বরিশাল-৪ আসনে কেন্দ্রীয় নেতা মেজর (অব.) মহসিন ও নাসিরউদ্দিন সাথি, বরিশাল-২ আসনে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য অভিনেতা সোহেল রানা, বরিশাল-১ আসনে মালয়েশিয়া জাতীয় পার্টির নেতা পারভেজ মাহমুদ, ভোলা-১ আসনে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ক্যাপ্টেন সিদ্দিক, পটুয়াখালী-৪ আসনে সাবেক এমপি আবদুর রাজ্জাক খানের ছেলে হুমায়ুন কবির মাসুম ও একই আসনে আরেক নেতা আলহাজ আমজাদ হোসেন। এদের পাশাপাশি জাপার (কাজী জাফর) সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা জামাল হায়দার এরশাদ নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টিতে এসে পিরোজপুর-১ আসনে দলের প্রার্থী হতে পারেন বলে আভাস দিয়েছেন বেশ কয়েক নেতা।
জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগসহ নানা প্রচার প্রচারণার কাজও করছেন এসব নেতা। বরিশাল-৩ আসনে নিজের হারানো আসন পুনরুদ্ধারে নিয়মিত সাংগঠনিক কাজকর্ম করছেন সাবেক এমপি গোলাম কিবরিয়া টিপু। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে তার পরাজয়ের জন্য দায়ী করেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি বর্তমান বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেননকে। তিনি অভিযোগ করেন- তার (রাশেদ খান মেনন) নগ্ন হস্তক্ষেপ আর নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের কারণেই সেসময় জাতীয় পার্টির নিশ্চিত বিজয় ছিনতাই হয়ে গেছে। জয়ী হয়েছে ওয়ার্কার্স পার্টির টিপু সুলতান। যদিও এ অভিযোগ কখনোই স্বীকার করেনি ওয়ার্কার্স পার্টি। যুব মৈত্রীর কেন্দ্রীয় সহসভাপতি আতিকুর রহমান বলেন, ‘সাধারণ মানুষের ভোটেই জিতেছেন আমাদের প্রার্থী। বরং আমাদের নেতা রাশেদ খান মেনন চেষ্টা করেছেন যাতে নির্বাচন নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ হয়।’
পটুয়াখালী-৪ কলাপাড়া-রাঙ্গাবালীতে নিয়মিত গণসংযোগ এবং প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন হুমায়ুন কবির মাসুম। এছাড়া বর্তমান দুই এমপি রুহুল আমিন হাওলাদার ও রতœা আমিনের এলাকায়ও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় পার্টি। দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও বরিশাল জেলা আহ্বায়ক অধ্যাপক মহসিন উল ইসলাম হাবুল বলেন, ‘রংপুরে আমাদের বিপুল বিজয়ে দলের নেতাকর্মীরা এখন অনেক বেশি উজ্জীবিত। এক রুস্তুম আলী ফরাজী-ই শেষ নয়, বিএনপির আরও কয়েক সাবেক এমপি কেন্দ্রে যোগাযোগ করছেন জাতীয় পার্টিতে যোগ দেয়ার জন্য। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে আরও অনেক চমক দেখাব আমরা। আমাদের যেমন দেশের ৩শ’ আসনে নির্র্বাচন করার সাংগঠনিক শক্তি ও জনসমর্থন রয়েছে তেমনি জাতীয় পার্টিকে বাদ দিয়ে কোনো দলের ক্ষমতায় যাওয়ারও সুযোগ নেই। মহাজোট কিংবা একক যেভাবেই নির্বাচন করি না কেন দক্ষিণাঞ্চলে জাতীয় পার্টি কম করে হলেও ১০টি আসনে জয়ী হবে ইনশাআল্লাহ।’ বিএনপির কোন কোন সাবেক এমপি জাতীয় পার্টিতে আসতে চাইছেন জানতে চাইলে অবশ্য এখনই এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানাতে অস্বীকৃতি জানান তিনি। কেবল বলেন, ‘অপেক্ষা করুন। সময় হলে সবই জানতে পারবেন।’



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত