• বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯
যুগান্তর রিপোর্ট    |    
প্রকাশ : ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা
খালেদা জিয়ার খালাস দাবি
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন অব্যাহত রয়েছে। বুধবার চতুর্থ দিনের মতো যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন সিনিয়র আইনজীবী আবদুর রেজ্জাক খান। এরপর খালেদা জিয়ার অপর আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন। তার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ না হওয়ায় আদালত আজ যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য পরবর্তী দিন ধার্য করেন। এদিন জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার শুনানির জন্যও ধার্য রয়েছে। রাজধানীর বকশীবাজারে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান ওই দিন ধার্য করেন।
বুধবার দুই মামলায় হাজিরা দিতে খালেদা জিয়া বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে এজলাসে প্রবেশ করেন। বেলা ১১টা ১৯ মিনিটের দিকে বিচারক এজলাসে প্রবেশের পর অনুমতি নিয়ে তিনি নির্ধারিত আসন গ্রহণ করেন। এরপরই খালেদা জিয়ার পক্ষে চতুর্থ দিনের মতো যুক্তিতর্ক উপস্থাপন কার্যক্রম শুরু হয়।
যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে আবদুর রেজ্জাক খান বলেন, খালেদা জিয়ার জীবনে এ মামলা অন্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুদক কেন এ মামলাটি বেছে নিল? এ মামলায় ফাইনাল রিপোর্ট (এফআরটি) দিলে কী ক্ষতি হতো? দুদকের তরফ থেকে প্রশ্ন তোলা উচিত ছিল। কেন কমিশন তা গ্রহণ করল- বিষয়টি রহস্যজনকই রয়ে গেল। এ মামলায় দুদক প্রসিকিউশন সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণে। তাই এ মামলা থেকে খালেদা জিয়ার খালাস প্রার্থনা করছি।
তিনি বলেন, এ মামলায় একতরফাভাবে যা রেকর্ডে নেই, তা-ও নেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ ছাড়া আর একজন সাক্ষীও বলেননি যে খালেদা জিয়া অ্যাকাউন্ট খুলেছেন। মোস্তাফিজুর রহমান (তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী) রাস্তার লোক নন। আমরা দেখিয়ে দিয়েছিলাম কে এই খয়রাতি টাকা এনেছেন। সৌদি আরব থেকে টাকাটা এনেছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান। সৌদি আরবের অনেকেই হয়তো এমন দান-খয়রাত করেন। তবে রাষ্ট্র থেকে রাষ্ট্রে টাকাটা আসেনি। মোস্তাফিজুর রহমান টাকাটা গ্রহণ করেছেন, তা অনেক আসামিই বলেছেন। আসামি হলে তিনি হবেন। খালেদা জিয়া নন।
যুক্তিতর্কে খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থনের অনেক কথাই পুনরাবৃত্তি করা হলে এর তীব্র প্রতিবাদ জানান দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল। তিনি বলেন, আত্মপক্ষ সমর্থনে খালেদা জিয়া যা বলেছেন, তা-ও কি আমাদের ব্যাখ্যা করে শুনতে হবে! এ সময় খালেদা জিয়ার অপর আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া দুদক আইনজীবীর উদ্দেশে বলেন- জিয়ার নাম শুনলে গা জ্বলে কেন?
এরপর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিরতি দেন আদালত। বিরতির সময় খালেদা জিয়া নির্ধারিত চেয়ারেই বসে ছিলেন। তিনি কিছু খাননি। তবে আদালতে অন্য আইনজীবীদের রুটি-কলা খেতে দেখা গেছে। বিরতির পর দুপুর ১২টা ৫১ মিনিটের দিকে ফের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়।
যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে আবদুর রেজ্জাক খানের বক্তব্য শেষ হলে এরপর খালেদা জিয়ার অপর আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন দুপুর ২টা ১৬ মিনিটের দিকে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে তিনি বলেন, এটা একটা রাজনৈতিক মামলা। খালেদা জিয়াকে ‘চোর’ বানানোই এ মামলার উদ্দেশ্য। আমরা যাই বলি না কেন, সাক্ষ্য-প্রমাণে যাই হোক না কেন, আমাকে (খালেদা জিয়া) চোর বানাতে হবে। যা কিছু হারায়, কেস্ট বেটাই চোর। দুপুর আড়াইটার দিকে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন খালেদা জিয়া।
এর আগে চলতি বছরের ২০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন আবদুর রেজ্জাক খান। এরও আগে ১৯ ডিসেম্বর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াসহ সব আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে মর্মে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে দুদক প্রসিকিউশন।
বরাবরের মতো খালেদা জিয়ার হাজিরা উপলক্ষে এদিনও আদালত চত্বরে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। আদালতের প্রবেশমুখেই ছিল আর্চওয়ে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। এদিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আবদুল আউয়াল মিন্টু, রুহুল কবির রিজভী, মির্জা আব্বাস, আফরোজা আব্বাস প্রমুখ। এছাড়া খালেদা জিয়ার আইনজীবী হিসেবে ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন, সানাউল্লাহ মিয়া, মো. মাসুদ আহমেদ তালুকদারসহ শতাধিক আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রাজধানীর রমনা থানায় প্রথম মামলাটি দায়ের করা হয়। আর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট রাজধানীর তেজগাঁও থানায় দ্বিতীয় মামলাটিও করে দুদক।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত