ইমরান মাহফুজ    |    
প্রকাশ : ১৪ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
শুধু শব্দ দিয়ে কবিতার অবয়ব তৈরি হয় না : আল মাহমুদ

নগরীর আকাশে মেঘ। দুধসাদা বৃষ্টি- মালিবাগ থেকে মগবাজারের রাস্তার অবস্থা খুব একটা ভালো নেই বর্তমানে। একটু বৃষ্টিতে পথচারী ও যানবাহন কাদাজলে নাস্তানাবুদ। তাই হেঁটে কবির বাসায়। কলিংবেল চেপে বাসায় ঢুকলাম। ঘরের দরজা খুলে দেয়া মেয়েটির কাছে জানতে পারলাম- শুয়ে আছেন কবি। মিনিট দুয়েক পর কবির শোয়ার ঘরে যাওয়ার অনুমতি পেলাম। চোখ মেলে দেখলাম খাটের এক পাশে কাঁথা জড়িয়ে বসে আছেন তিতাসের পার থেকে পালিয়ে আসা সেই গ্রাম্যবালক। ভাঙা স্যুটকেস নিয়ে শহরে আসা স্বপ্নবাজ বালক ত্রিকালদর্শী বাংলাসাহিত্যাকাশের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র আজ। তিনি সমকালীন বাংলা ভাষার অন্যতম প্রধান কবি আল মাহমুদ। সৃজনশীল সৃষ্টিকর্মের মাধ্যমে সাহিত্যের কিংবদন্তিতে পরিণত হয়েছেন তিনি।

কবির আসল নাম মীর আব্দুস শাকুর। খ্যাতি পেয়েছেন আল মাহমুদ নামে। ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই বি.বাড়িয়ায় মীর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পড়াশোনা এবং বেড়ে ওঠা কুমিল্লা শহর ও চট্টগ্রামে। সাহিত্য জীবন শুরু করেন ঢাকায়। প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘লোক-লোকান্তর (১৯৬৩)’। ‘লোক-লোকান্তর’ ও ‘কালের কলস’ মাত্র এ দুটি কাব্যগ্রন্থের জন্য ১৯৬৮ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে যান ১৯৭৩ সালে ‘সোনালী কাবিন’ প্রকাশ করে। পরবর্তী সময়ে সাহিত্যপ্রতিভার স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি একুশে পদকসহ বিভিন্ন সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। এর মধ্যে ফিলিপস সাহিত্য পুরস্কার, অগ্রণী ব্যাংক শিশুসাহিত্য পুরস্কার, ফররুখ স্মৃতি পুরস্কার ও জীবনানন্দ দাশ স্মৃতি পুরস্কার অন্যতম। গত ১১ জুলাই কবির ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর সঙ্গে বাংলাসাহিত্যের নানা দিকসহ সাম্প্রতিক বিষয়াদি আলাপ করেন তরুণ কবি ইমরান মাহফুজ। সে আলোচনার অংশবিশেষ পত্রস্থ হল- বি.স.



ইমরান মাহফুজ : কবিতা আসলে কী? বাংলা-ইংরেজি উভয় সাহিত্যেই এ নিয়ে দ্বন্দ্ব অনেক। সুধীন দত্ত বলেছেন- শব্দ দিয়েই কবিতা তৈরি হয়। আপনি কি মনে করেন?

আল মাহমুদ : এ কঠিন প্রশ্ন। কবিতা এক অমীমাংসিত শিল্প। এর সংজ্ঞা আজ পর্যন্ত নিরূপণ সম্ভব হয়নি। আমি বলি কবিতা পরিশ্রুত চিন্তা যা উৎকৃষ্ট শব্দের মাধ্যমে বেরিয়ে আসে। শুধু মাত্র শব্দ দিয়ে কবিতার অবয়ব তৈরি হয় না।

ই.মা : চোখ শিরোনামের একটি কবিতায় লিখেছেন- ‘এখন চোখ নিয়েই হল আমার সমস্যা। /যেন জন্ম থেকেই/অতিরিক্ত অবলোকন শক্তিকে ধারণ করে আছি...।’ মূলত চোখ নিয়ে কি সমস্যার কথা বুঝিয়েছেন?

আল মাহমুদ : আমি আসলে অতিরিক্ত দেখি। সাধারণ মানুষ যা দেখতে পায় না আমি তা দেখতে পাই। তুমি পোশাক পরে আছো আমি পোশাক দেখি না, আমি ভেতর দেখি। এটাই একজন কবির দেখা। কবির অবলোকন শক্তি।

ই.মা : আপনার বিখ্যাত কবিতার বই ‘সোনালী কাবিন’। এ নামের কবিতায় বলেছেন- সোনার দিনার নেই, দেনমোহর চেয়ো না হরিণী/ যদি নাও দিতে পারি, কাবিনবিহীন হাত দুটি’। কবিরা আসলে সব সময় সাময়িক অর্থের পরোয়া না করে ভালোবাসা দিতে আগ্রহী? কবিদের এ আগ্রহে কি নারীর সব পাওয়া যায়?

আল মাহমুদ : না। কারণ, কাবিনবিহীন এই নয় যে, কোনো মূল্য না দিয়ে প্রেম কেনা যায়। এটা ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। নিশ্চয়ই তার মূল্য দিতে হয়। চাওয়া-পাওয়ায় মিল করে নিতে হয়। বিনে প্রেমছে নাহি মিলে নন্দলালা।

ই.মা : সমালোচকদের দৃষ্টিতে কবি আল মাহমুদ, কবি জীবনানন্দ পরবর্তী সময়ের শক্তিশালী কবি। পাঠক আল মাহমুদ হিসেবে আপনিও কি তাই মনে করেন?

আল মাহমুদ : হয়তো কথাটার মধ্যে সত্য আছে। লোকে যখন বলছে তা হলে তো কথাটা ঠিকই আছে। অমি আর কী বলব।

ই.মা : সমকালে অনেকে আধুনিক কবিতা লিখতে গিয়ে, কবিতার মূল জায়গা থেকে সরে যায়। এতে কি পাঠকের সঙ্গে কবির দূরত্ব তৈরি হয় না?

আল মাহমুদ : কবি যদি আধুনিক কবিতা কী, তা না বোঝেন তা হলে তো কবিতা হল না। কবির কবিতা কমিউনেকেট করতে হবে পাঠকের হৃদয়ের সঙ্গে। তা না হলে কবি ফেইল করল। আমরা তো সারা বছর কবিতা লিখেছি। কই কেউ কখনও অভিযোগ করেনি।

ই.মা : একটি কবিতায় আপনি লিখলেন যে- ‘তোমার চোখ যেন রাজা মহিপালের জোড়া দীঘির মতো।’ এ জোড়া দীঘি কি ফেনী মহিপালকে বুঝিয়েছেন?

আল মাহমুদ : না, মনে পড়ছে না। লিখেছি যখন কোথাও আছে। স্মৃতি ধরে রাখতে পারি না। বয়স তো আর কম হয়নি। আসছে ১১ জুলাই বিরাশি হবে।

ই. মা : জন্মেছেন কুমিল্লায়। একসময় চষে বেড়িয়েছেন কুমিল্লা শহর। কান্দিরপাড়, শাসনগাছা, বিদ্রোহী কবির শ্বশুরবাড়ি ঘুরেছেন অনেক। এখন মনে পড়ে, সর্বশেষ কবে গেলেন?

আল মাহমুদ : হ্যাঁ যেতে মন চায়; কিন্তু যেতে পারি না। মাঝে মাঝে স্মৃতিরা আন্দোলিত করে। এক বছর আগে কারা যেন নিয়ে গেছিল। যতদূর দেখলাম খুব সুন্দর মনে হয়েছে। পাল্টেছেও অনেক।

ই. মা : আল্লামা রুমি, হাফিজ, জামিসহ এদের অনেক লেখা পড়েছেন, আপনার লেখা পড়ে বোঝা যায়। তাদের নিয়ে কিছু বলা যায়?

আল মাহমুদ : এরা খুবই অসাধারণ কবি ছিলেন। তাদের লেখা আমি ইংরেজিতে পড়েছি। তাদের কিছু লেখা আমার মনে ছায়া ফেলেছে। যা কবিতার জন্য খুব কাজ দিয়েছে। আর ভালো কবির কবিতা পড়লে প্রভাব পড়েই, এটা স্বাভাবিক।

ই.মা : লেখক সালমান রুশদী বলেছেন- লেখকদের অধিক স্বাধীনতা থাকা দরকার। আপনি কি তাই মনে করেন?

আল মাহমুদ : লেখকরা তো জন্ম থেকেই স্বাধীন। তারা কাউকে জিজ্ঞাস করে লেখেন না। মনের আনন্দে লিখে যান অবিরত। স্বাধীনতার প্রশ্ন আসবে কেন?

ই.মা : আপনি আপনার একটি বইয়ের উৎসর্গপত্রে লিখেছেন, আমাদের কাব্য হিংসা অমর হোক- শামসুর রাহমান, ফজল শাহাবুদ্দীন, শহীদ কাদরী। সাহিত্যের ভালোবাসা কি এমনই হয়?

আল মাহমুদ : সত্যিকার অর্থে আমাদের মধ্যে তখন এ বিষয়টাই কাজ করত। আর কাব্য হিংসা বলতে আমরা একে অন্যের সৃষ্টির প্রতি চরম ঈর্ষাকাতর হতাম। আমি, শামসুর রাহমান, ফজল শাহাবুদ্দীন, শহীদ কাদরী তিনজন ভালো বন্ধুও ছিলাম। এরা প্রত্যেকে বড়মানের কবিও।

ই. মা : আমরা দেখি কবিরা গান লিখলে সেটা বেশ ভালো হয় এবং আলোচনায় আসে। পঞ্চাশের অনেক কবিই গান লিখেছেন। সে ক্ষেত্রে আপনি ভিন্ন। কেন লিখেননি? না আগ্রহ হয়নি?

আল মাহমুদ : হ্যাঁ গান আমি লিখিনি। আমার কেন যেন মনে হয় আমার কবিতার মধ্যে সঙ্গীত আছে। আর আমি মূলত লিরিক্যালধর্মী কবি। আমার কবিতায় গীতিময়তার ফলে গান লিখতে আগ্রহী হইনি। লিখলে হয়তো লিখতে পারতাম। যে শহরে জন্ম আমার, সে শহরকে সঙ্গীতের শহর বলা হতো। সঙ্গীতের সব যন্ত্র এখানে তৈরি হতো। আমি দেখতাম যে সিরিজ কাগজ দিয়ে সেতার, এশরাজ ঘষছে। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখতাম। আমি অনেকবার বলেছি যে আমি কবি না হলে সঙ্গীতজ্ঞ হতাম।

ই.মা : কবিরা কখনও কখনও লক্ষ্যহীন চলে বা লিখে। একজন কবির কি কোনো চূড়ান্ত লক্ষ্য থাকা উচিত?

আল মাহমুদ : প্রকৃত কবিরা শুধু লেখে না, তারা পরিশ্রম করে পড়ে, ঘোরে, কবিতার ছন্দ মিল রেখে জায়গায় পৌঁছাতে চায়। একটা কবিতাকে সার্থক করে তুলতে চায়। এটাই কবির লক্ষ্য হওয়া উচিত।

ই. মা : অনেককে বলতে শুনি ‘সোনালী কাবিন’ নোবেল পাওয়ার যোগ্য। আপনি এ বিষয়ে কিছু বলবেন?

আল মাহমুদ : ‘সোনালী কাবিন’ নিয়ে এ কথা আমি বলতে পারি না। দেশ-বিদেশে অনেক কবি, সাহিত্যিক আছেন যারা নোবেল পেয়েছেন, যাদের নাম আমরা নোবেল পাওয়ার আগে শুনিনি। সে হিসেবে নয় প্রকৃত বিচার-বিবেচনায় যদি ‘সোনালী কাবিন’ আসে তাহলে দেবে।

ই. মা : কবি ফররুখ ও জসীমউদ্দীন আপনার প্রিয় কবি। এরা গুরুত্বপূর্ণ হলেও অনেকটা আলোচনার বাইরে বা আড়ালে মনে হয়। বিষয়টা কেন, বলতে পারেন?

আল মাহমুদ : আলোচনার বাইরে বা আড়ালে বিষয়টা একদম ঠিক নয়। এই যে তোমার মনে আছে তাহলে আড়াল হল কী করে? তাছাড়া এরা বাংলাভাষার মৌলিক কবি। বাংলা কবিতার কথা বলতে গেলে এদের নাম উচ্চারণ করতেই হবে। তাদের কবিতায় আছে নতুনত্ব এবং ভাবনার উপাদান। কবিদের তালিকায় এদের নাম অপরিহার্য।

ই. মা : একসময় জেল খেটেছেন আপনি। চোখে দেখেন না বললেই চলে এখন। আপনার চোখ জেল থেকে নষ্ট হয়েছে বলে লিখেছেন। বিষয়টা খুলে বললে ভালো হয়-

আল মাহমুদ : লিখেছি ওই সময় থেকে আমার চোখ নষ্ট হওয়া শুরু করেছে। তখন জেলে ডাক্তার দেখানোর সুযোগ হয়েছে বলে তাই বিষয়টা ধরিয়ে দিয়েছে চোখের অবস্থা। তাছাড়া জীবনে চোখের ওপর অনেক চাপও পড়েছিল।

ই. মা : ভাষা আন্দোলনের সময় অপনি কোথায় ছিলেন? কী করছেন?

আল মাহমুদ : ভাষা আন্দোলনের সময় আমি মফস্বলে ছিলাম। তখনও ঢাকায় আসিনি। তবে এ আন্দোলনের ছোঁয়া আমাদের ওখানেও লেগেছিল। আমরা যথেষ্ট আবেগ-আকুল ছিলাম। সাপোর্টও করেছি। আমাদের ওখানে ভাষা আন্দোলনের একটি কমিটিও করা হয়েছিল। তাদের লিফলেটে আমার একটি কবিতা ছাপা হওয়ার দায়ে বাড়ি ছাড়তে হয় আমাকে।

ই.মা : কাব্যজীবনে আপনাকে বাংলাভাষা ছাড়া অন্য ভাষার সাহিত্য টাচ করেছে কি?

আল মাহমুদ : সব ভাষার সাহিত্যই টুকটাক পড়েছি। সামান্য যা জেনেছি তা দিয়েই কবিতার সঙ্গে যোগাযোগ করে একটা সম্পর্ক দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছি। পরে বিশ্বসাহিত্যের সঙ্গে ভালো সম্পর্কও তৈরি হয়েছে। যা আমার লেখায় এসেছে।

ই. মা : মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা ‘পদ্মা নদীর মাঝি’। বাংলাসাহিতের আলোচিত উপন্যাসের একটি। আপনার এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন এতে একটি খুঁত আছে। সেটি কী?

আল মাহমুদ : প্রথম কথা হচ্ছে, মানবিক শিল্প নির্ভুল হয় না। তবু লেখকের চেষ্টা থাকে পারপেকশনের জন্য। কিন্তু এ উপন্যাসে দেয়া হয়েছে মুসলমানদের ব্যাপারে অন্য ধারণা। উপন্যাসে একটা চরিত্র আছে কুবের মাঝি। নতুন কোনো দ্বীপে দরিদ্র মানুষদের নিয়ে যাচ্ছে সে। সেটা হল ময়না দ্বীপ। এই যে চিন্তা। এটাই তো অস্বাভাবিক। এখানে ভালো করে পড়ে দেখো বুঝবে।

ই.মা : ‘যেভাবে বেড়ে উঠি’ আপনার এ বইটি নিয়ে একবার বাংলাদেশ টেলিভিশনে মনজুরে মাওলার সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়েছিল। বিষয়টা কী এবং কেন হয়েছে?

আল মাহমুদ : টেলিভিশনে উনি আমাকে বলল- লোকে বলে আপনার ‘যেভাবে বেড়ে উঠি’ বইটি পঞ্চাশভাগ সত্য আর পঞ্চাশভাগ মিথ্যা। কথাটা শুনে আমি খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। বললাম আমি কবি মানুষ। একটা আত্মোপন্যাস লিখেছি। আপনি নিজেও ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র। পঞ্চাশভাগ সত্য আর পঞ্চাশভাগ মিথ্যা যখন বললেন, তাহলেই আমার বইটি সার্থক। তারপর তিনি আর কোনো কথা বলেনি।

ই.মা : ‘পানকৌড়ির রক্ত’ পড়লেই বুঝা যায় কবির কথাশিল্প কতটা শক্তিশালী। বুনন ও রচনাশৈলীর দিক থেকেও চমৎকার। কোন সময়ের লেখা?

আল মাহমুদ : অনেক আগের লেখা, আমার প্রথম দিকের। গল্প লেখক হিসেবে প্রথম জীবনে ভালোই প্রস্তুতি ছিল। সে সময় প্রচুর ঘুরতাম। আর বুঝতে চেষ্টা করতাম প্রকৃতিকে। আর এভাবেই লেখক সত্তা জন্মায়।

ই. মা : অনেককে বলতে শুনি ‘শিল্পই হল বাস্তবতা’। আসলেই কি তাই?

আল মাহমুদ : সব বাস্তবতা দিয়ে হয় না। কিছুটা স্বপ্ন, কল্পনা আর বাস্তবতার মিশেলে তৈরি হয় শিল্প।

ই. মা : আপনার গল্প ‘জলবেশ্যা’ থেকে কলকাতায় ‘টান’ নামে নির্মাণ করা হয়েছে বাংলা সিনেমা। এ বিষয়ে কিছু বলেন মাহমুদ ভাই-

আল মাহমুদ : অসাধারণ একটি গল্প। তারা গল্পটি পছন্দ করে সম্মানী দিয়ে অনুমতি নিয়ে গেল। নির্মিত চলচ্চিত্রটি উদ্বোধন করার কথাও বলে ছিল। কিন্তু আমার বয়স হয়ে গেছে, সেরকম চলাফেরা করতে পারি না। বললাম যে, যেতে পারব না।

ই. মা : ‘ফুরফুরে পাঞ্জাবি পরে সাহিত্য হয় না’ একবার এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন। সহজ করে কথাটা বললে কী বলবেন?

আল মাহমুদ : ‘বিনে প্রেমছে নাহি মিলে নন্দলালা’, ঠিক এমনই। পরিশ্রম ছাড়া কোনো কিছুই অর্জন হয় না। প্রচুর পড়া, ঘোরা, লেখা সবই করতে হবে। অলস হয়ে বসে থাকলে চলবে না।

ই. মা : বয়স আপনার আশির কোঠায়। এখন শুরু করেছেন ‘এ গল্পের শেষ নেই শুরুও ছিল না’ শিরোনামে মহাকাব্য। শেষ করতে পারবেন কি?

আল মাহমুদ : দোয়া করো ইনশাহআল্লাহ শেষ করব। অনেক আগেই মহাকাব্য লেখার ইচ্ছা থাকলেও হয়ে উঠেনি। এটি শুরু করেছি গত বছর থেকে। দেখি কতটুকু লিখতে পারি। শরীরটা যদি আল্লাহ সুস্থ রাখেন।

ই. মা : আপনি বাংলাভাষার প্রধানতম কবি বর্তমানে। বিষয়টা কেমন উপভোগ করেন?

আল মাহমুদ : ভালোই লাগে। আমি তো এখনও লিখে চলছি। জীবনে বহু পরিশ্রম করেছি। সাহিত্যে এসে ফাঁকি দেয়ার চেষ্টা করিনি। সবকিছু অর্জন করেছি কাজের মাধ্যমে। সর্বোপরি সাহিত্যকে ভালোবাসার জন্যই আমার এ অবস্থান। আর কবিতাই আমার বাড়িঘর। তাই সম্পদ নেই আছে খ্যাতি।হ


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত