মেজবাহ উদদীন    |    
প্রকাশ : ১৪ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
বৃত্তের ভেতরে
একজনের বিপক্ষে একশ’ জনের লড়াইয়ে একজনের হারে যুক্তি আছে কিন্তু আকর্ষণ নেই; অন্যদিকে একজনের বিপক্ষে একশ’ জনের লড়াইয়ে একজনের জয়ে যুক্তি নেই; কিন্তু আকর্ষণ আছে। সমাজে কেউ কেউ এমন থাকে যারা এ অযৌক্তিক অথচ আকর্ষণীয় নেশাকেই বানিয়েছেন নিজেদের পেশা। এ বছর সাহিত্যের সম্মানজনক ম্যান বুকার আন্তর্জাতিক পুরস্কার বিজয়ী ডেভিড গ্রসম্যান তাদেরই একজন। শুধু কিছু ভিন্নমতই ইসরাইলি কথাসাহিত্যিক ডেভিড গ্রসম্যানকে অন্যদের চে’ আলাদা করে তোলেনি বরং জীবনের নিষ্ঠুরতম অধ্যায়টির সঙ্গে তার মোকাবেলা কিংবা বোঝাপড়া, তাকে সাহিত্যিক হিসেবে, মানুষ হিসেবে এবং পিতা হিসেবেও দান করেছে অনন্যতা। গ্রসম্যান যেসব কারণে নিজ দেশের অনেকের কাছেই নিন্দিত এবং বহির্বিশ্বে নন্দিত তার কারণ ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরাইলি পলিসির সমালোচনা, ইসরাইল অধিকৃত গাজা স্ট্রিপ আর পশ্চিম তীরে বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের জীবনের ওপর লেখা ‘ইওলো ওয়াইন্ড’ নামের রচনাটি এবং রাষ্ট্র হিসেবে ফিলিস্তিনের স্বীকৃতির পক্ষে তার অবস্থান।
ডেভিড গ্রসম্যানের পুরস্কারপ্রাপ্ত ‘আ হর্স ওয়াকস ইন টু আ বার’ বইটিতে দেখা পাওয়া যায় জীবনযুদ্ধে ক্লান্ত একজন কমেডিয়ান ডোভালেহের সঙ্গে। যে মাত্র ১৪ বছর বয়সেই মুখোমুখি হয় কঠিন জীবনের সঙ্গে। সে বয়সেই ডোভালেহকে ইসরাইলের একটি জুনিয়র আর্মি ক্যাম্পে পাঠানো হয়েছিল, যেখানে তাদের দৈনিক শেখানো হতো হত্যাকাণ্ড এবং অপমানের উপায়গুলো। সেখানেই একদিন বয়স্ক এক সৈনিকের মাধ্যমে সে জানতে পারে, তাকে একটি পরিবারের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগদান করতে হবে; কিন্তু একটি আমলাতান্ত্রিক তত্ত্বাবধানে তার পিতামাতার মধ্যে কে মারা গেছে তা তাকে বলা হয়নি। দেশটির দক্ষিণ থেকে জেরুজালেম পর্যন্ত দীর্ঘ যাত্রায় সেনা চালকের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্নভাবে কৌতুকপূর্ণ আলাপ তরুণ ডোভালেহকে এমন একটি জগতে নিয়ে যায় যেখানে হাস্যরস সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্রশস্ত্র। তবে শেষ পর্যন্ত এটি তাকে রক্ষা করে না এবং অন্য কেউই তাকে রক্ষা করে না। ডোভালেহকের গল্পটি সেসব পাঠকের সহ্য ক্ষমতার জন্য অনেক বড় একটি পরীক্ষা যারা এখানে বিনোদনের জন্য এসেছেন, কারণ একটি বিভক্ত, দ্বন্দ্বপ্রবণ দেশে জীবনের সত্যতা উপলব্ধির একটি বিরল সুযোগ থাকতে পারে; কিন্তু বিনোদন কোথায়?
ডোভালেহ নিজের কষ্টকে প্রকাশের জন্য কমেডিকেই মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছেন। একজন ভঙ্গুর মানুষ স্টেজের ওপরে হেঁটে হেঁটে ১৯৪ পাতার কৌতুক রচনা করেছেন। ডেভিড গ্রসম্যানের নতুন উপন্যাস ‘আ হর্স ওয়াকস ইন টু আ বার’ এক কথায় দারুণ। এখানে ইহুদি হিউমার উদযাপন করা হয়েছে, যেটা আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি প্রয়োজনীয়। এটা হচ্ছে কবরের কিনারা থেকে ঠাট্টা, নিজের পাঁজর মধ্যে বন্দুক আটকে হাস্যরস, একটি ম্যাচ এবং পেট্রুলের একটি ক্যান থেকে আর বেশি কিছু না। তবে গ্রসম্যানের নায়ক, আত্মনির্ভরশীল ডোভালেহ জিকে সেই অগ্নিশিখার জন্য প্রস্তুত মনে হয়।
ডোভালেহের আত্মনিপীড়নের কর্মের জন্য শ্রোতারা ইসরাইলি সমাজের একটি ক্রস বিভাগ: সৈন্য, বাইকার, জঘন্য লিকুদনিক, সংবেদনশীল যুবতী এবং তার শৈশবের দুজন বিশেষ অতিথির পরিচয় পায়। তার এক বন্ধু সাবেক বিচারক, যিনি ডোভালেহের শৈশব অপমানের সাক্ষী ছিলেন; কমিক এবং তার শ্রোতাদের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনে আশ্চর্য হয়ে পড়েন,কীভাবে এত অল্প সময়ের মধ্যে তিনি শ্রোতাদের তার দিকে নিয়ে আসেন? যেন শ্রোতাদের দীর্ঘ সময়ের জন্য জিম্মি করে রাখেন। শ্রোতাদের উদ্দেশ করে বলা তার বাক্যগুলো অপেক্ষা কর, তোমরা কি বসতিগুলো থেকে এসেছ? কিন্তু তাহলে আরবদের মারার জন্য থাকল কারা?’ উপন্যাসের কেন্দ্রস্থলে খুব দীর্ঘ কাহিনী ছড়িয়ে দিতে শুরু করে। আর এভাবেই গ্রসম্যান তার চিন্তাগুলোকে একটি নতুন স্তরে নিয়ে এসেছেন। যেখানে তিনি পৃষ্ঠার ওপর রক্ত এবং ঘামের একটি ট্রেল তৈরি করে গেছেন যার শেষ গন্তব্য পাঠকের অনুভূতির মোহনা। হ
সূত্র : দি নিউইউর্ক টাইমস অনলাইন



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত