প্রকাশ : ১৪ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
কবিতা

রাতের কাসিদা
জাহাঙ্গীর ফিরোজ

তখনও আলো ছিল, মরা আলো গাছের ছায়ায় দাঁড়িয়ে
একটি অস্পষ্ট রাত্রির ছিপ নাও
বিলের আমন ধান বিনিকেটে স’স’শব্দ নিয়ে বাটে ফিরে আসে
সন্ধ্যা তখন ম্লান রোদের মাথায় ঘোমটা তুলে দিয়ে
সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে দিল রাত্রির;
ভাটিখানা থেকে টলতে টলতে ঘরে ফেরে একটি কুটুম পাখি
পিলসুজে রাখা কুপির কামনা শিখা কেঁপে ওঠে দমকা বাতাসে
মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে নীল আলোর জোনাকি;
কুপি নিভে গেলে রাত বিছানায় হুমড়ি খেয়ে পড়ে।
জোনাকিটি জ্বলে নেভে
তারপর নীলআলো লেপ্টে দিয়ে স্থির
যেন অন্ধকারের সিঁথিতে এয়োতি চিহ্ন এঁকে দিল।
একটি চাপা গোঙানির শব্দ ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হলে
দূরে কুকুরের কান্নায় উদ্বিগ্ন নবতি ধুর ধুর করে
কাকে যেন তাড়ায় একাকী।


স্নেহ
রাব্বী আহমেদ

যে কোন নারীই ডাক দিলে কেন যাবো,
তার কাছে কি কবিতার স্নেহ পাবো,
তার নখে কি পাঁচটি আকাশ আছে,
পানি ঢালে রোজ বেদনার চারাগাছে?

যে কোন নারীই ডাক দিলে যেতে পারি,
যদি থাকে তার কবিতার জামদানি,
অতঃপর তার অতল গভীরে গিয়ে,
কিছু কবিতার উপাদান তুলে আনি।

যে কোন নারীই ডাক দিলে চলে যাবো,
কবিতা না হোক অন্যকিছুতো পাবো।
সেই কিছু কি মেঘের মতো ক্ষত?
জর্জেটে ঢাকা অভিমান, অবিরত
যদি বিষাদবৃষ্টি নামে, একটা জীবন
লিখে দেব তাকে, কবিতার দামে।


এ শহরে তুমি নেই
অর্ণব আশিক

এ শহরে তুমি নাই
কি করে বুঝাই
এ শহর যন্ত্রণার।

এ শহরে তুমি নাই
কি করে দেখাই
অশ্রুজলে ভাসে এ শহর।

এ শহরে তুমি নাই
কি করে বলি
ভালোবাসা সারারাত কাঁদে
বুকের ভিতর।


বিচ্ছেদ
সজল সমুদ্র

দাঁড়-বিস্মৃত নৌকায় একদিন নিজেকে ভাসিয়ে দিয়েছি

তারপর বহু দূরদেশ ঘুরে সে ফিরে এসেছে দরজায়
তার মাথায় আজকাল অনর্গল পাখি বসে, মুখে দেখা যায়
বারোমাসি মেঘ। অস্পষ্ট হাতের লেখার সাথে তাকে
তুলনা করছে কেউ। কারো কারো সন্দেহ, তার জন্ম
ইকারুসের ডানায়! যদিও সে ডিডেলাসের নাম শোনেনি,
যদিও তার আর আমার মাঝখানে এখন শুয়ে থাকে
নীলাভ ও বেগুনি রঙের দু’কোটি আলোকবর্ষের স্তব্ধতা!

আপাতত, বন দিবস সামনে রেখে সবুজ-গোলাপি মিলিয়ে
আমি একটি কাগজের খরগোশ বানাচ্ছি।
বলাবাহুল্য, খরগোশটি দৌড়াতে পারে...

বেহেশতি বেদানার রূপ
ফারজানা সিদ্দিকা

শৈশবে মক্তবে জেনেছিলাম খেজুর, আপেল, আঙুর আর বেদানা বেহেশতি ফল।
সেই থেকে দেখি প্রতি রমজানে বাড়িতে খেজুর থাকে। বছরের বাকি এগারো মাস
কেউ আর খেজুর কেনে না। মধ্যবিত্তের সংসারে কেবল অসুখ হলেই আপেল, আঙুর,
বেদানা আসে। এরা দামি আমদানি ফল। আমাদের মতো ধানের দেশে এ সব ফলের
গাছ হয় না। যদিওবা বহু যত্নে দু-একটা জন্মায়, তাতে থাকে না মিষ্টি স্বাদ।

এদের মধ্যে বেদানাকেই আমার প্রকৃত বেহেশতি ফল বলে মনে হয়। টুকটুকে লাল
মসৃণ খোলস তবু এক কামড়ে খাওয়া যায় না। খোলস ছাড়ানোও যায় না সহজে!
বহু কসরতে ফলটি দু’ভাগ হলে মাঝে পাতলা ঘিয়ে রঙের তেঁতো দেয়ালের খাঁজে খাঁজে
আটকে থাকে রক্তবর্ণা স্বচ্ছ সুমিষ্ট কোষ। খুব সাবধানে একটা একটা কোষ তুলে
মুখে দিলে সামান্য রসে শিহরিত হয় জিভ! তার পরই আবার একটা ছোট্ট শক্ত বীজ!
আমি বুঝি না বেহেশতি ফলে মানবজীবনের এমন রহস্য-রূপ কেন দিলেন ঈশ্বর!



মন্দ্র জুটমিলের ছাদে
নাঈম ফিরোজ

একক চাঁদের গাছ সুবাস বাড়ায় রাতের। আজ মাইলস্টোন পেরোবে বীতশোক জিপসির কারাভাঁ। নৃমাতৃক স্নেহের দণ্ডে কেঁদে নিও, ম্যামথ! সাঁই লালনের পোনা মাছ কবে কে গুনে দেবে ঐভাবে। পয়মন্ত রিস্টওয়াচের সসীম শোক মেডিসিন ঘুচিয়ে দিচ্ছে খুব। বাতাস ও ব্যাটালিয়ন। চা মজুদ নেই? নিঃসাড় গোয়ালার কাঁধে চাপা পাটের গ্লানিহীন ঝোলায় আমি বেজায় ফুরিয়ে যেতে দেখি বকপালকের পাল্কি, অনাঘ্রাত মায়ার দলছুট। কী ভেবে টিকে আছে মুদ্রাভূক সাপ আর বেহুলার ভাসান একখানা এনগ্রেভড মেমেন্টোয় বাক্সবন্দি। মন্দ্র জুটমিলের ছাদে, সেতুর পর সেতু আঁকা আছে, জমা হয়ে আছে আমাদের প্রপিতামহীর ক্রোমোজোম।



মধু মহাকবি
পৃথ্বীশ চক্রবর্ত্তী

তোমারই কথা বলে যায় কল কল
করে, প্রবাহিত সেই কপোতাক্ষ নদ
তোমার পরশ পেয়ে ধন্য এর জল
সাগর দাঁড়ির মাটি; শ্যাম-জনপদ-
শৈবালরূপ ইংরেজি ত্যাগে মনোবল
কমল কানন পেলে স্বাদুজল হ্রদ
প্রিয় বাংলা ভাষাতেই পেয়েছিলে ফল
লিখেছিলে মহাকাব্য ‘মেঘনাদ বধ’।

অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক তুমি
আধুনিক কবিতার স্বপ্নদ্রষ্টা রবি
তুমি চতুর্দশপদী কবিতার কবি
তোমার চরণ ছুঁয়ে যায় চুমি চুমি
কপোতাক্ষ; স্মরে যায় মাতা বঙ্গভূমি
মধু মহাকবি তুমি হৃদয়ের ছবি।


‘নাই’
জোবায়ের মিলন

যেতে যেতে যেতে...
দেখি-
নাই।
নাই? নাই;
সত্যিই তো নাই!

অসীমের কাছে প্রশ্ন করি, আছে?
উত্তর আসে, নাই...
নাই?
নাই;
সত্যিই তো নাই!!



একোরিয়ামে রাখার মতো দিন
সরকার মুহাম্মদ জারিফ

অতিলিপ্সু মোরগমনের দাবি, তুমি নাভির তিন চার আঙুল নিচে জিন্স পরায় এই চিরায়ত মেঘযানজট। কোটরেই থাকতে হবে তাই থাকছে রাস্তার মানুষের চোখগুলো। দেখে নিক, এভাবে ভেজা নমকিন, তারা হয়ত আর দেখতে পারবে না তোমাকে কোনদিন। তখনো ‘রিকশার পর্দার চেয়ে মায়াবী পর্দা কই পাওয়া যায়’ শীর্ষক সেমিনারে মগ্ন কলাকৈবল্যবাদীরা। তুমিও কি কবিতার মার্কামারা সেই ‘তুমি’ হবা বা ময়ূরটয়ূর বলব আমিও তোমাকে? নাহ্ তোমার চেয়ে যুঁতসই কোন প্রাণীই তো দেখিনি। তোমার চেয়ে সুন্দর শুধু বিশেষ কিছু অন্ধকার হয়। ট্রেন থেকে দেখা যায় মাঝে-সাঝে দীর্ঘভ্রমণে, সেগুলাও তো কিছু বুঝায় বলা সম্ভব না।




আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত