শিহাব খালেদীন    |    
প্রকাশ : ০৮ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
দুর্লভ পাতা কাছিম

বন্যপ্রাণী নিয়ে কাজের খাতিরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায়ই যেতে হয়। তবে দেশের উত্তরপূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণপূর্বাঞ্চলে যাওয়া পড়ে বেশি। গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে এমনই একটি কাজে কক্সবাজার গিয়েছিলাম। উদ্দেশ্য ছিল হিমছড়িসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতে বন্যপ্রাণী পর্যবেক্ষণ। কলাতলী থেকে মেরিন ড্রাইভ ধরে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে দরিয়ানগর পর্যটন কেন্দ্র। এখান থেকে ভেতরের দিকে প্রায় দশ মিনিট হাঁটলেই দেখা মেলে বড়ছড়া নামক অঞ্চল। বেশ দীর্ঘ একটি পাহাড়ি ছড়া থাকার কারণেই অঞ্চলটির নাম হয়েছে বড়ছড়া। বছরজুড়েই ছড়ায় পানি থাকে। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল ছড়ার এক পাশ দিয়ে ঢুকে অন্য পাশ দিয়ে বের হয়ে আসা। স্থানীয় একজনকে আমাদের গাইড হিসেবে নিয়ে নিলাম। পরে জানলাম লোকটি পাখিবিষয়ক একটি গবেষণা দলের মাঠ পর্যায়ের সহকারী হিসেবে কাজ করেন। শুনে ভালো লাগল। বড়ছড়া দিয়ে পাঁচ ছয় জন মিলে নীরবে হাঁটছি আর আশপাশ দেখছি নতুন কিছু দেখা যায় কিনা। আমাদের সঙ্গে থাকা গাইড হঠাৎ ছড়ার পানিতে কি যেন খুঁজে পেলেন। কাছে গিয়ে দেখি একটি ছোট পাতা কাছিম ছড়ার পাশে পাথরের ওপর বসে রোদ পোহাচ্ছে। কাছে গিয়ে ছবি তুলতে যাব, এমন সময় ভয় পেয়ে ছড়ার পানিতে নেমে গেল। কিছুদূর পানিতে ভেসে আবার একটি পাথরের পাশে গিয়ে থামল। এবার আর ছবি তোলার সুযোগ হাতছাড়া করিনি।

বাংলাদেশে দুর্লভ কাছিমগুলোর মধ্যে পাতা কাছিম অন্যতম। বৈজ্ঞানিক নাম Cyclemizs gemeli. ইংরেজিতে Asian Leaf Turtle নামে পরিচিত। আবার অনেকে Indian Leaf Turtle নামেও চেনে। আমাদের দেশের উত্তরপূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি অঞ্চলে এ কাছিমের বাসস্থান। সাধারণত পাহাড়ি ছড়া, পানি জমে থাকে এমন স্থানে ও এর আশপাশই বেশি দেখা যায়। পাহাড়ি অঞ্চলের নদীগুলোতে দেখা গেলেও খুব কম। বাংলাদেশ ছাড়াও ভুটান, ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চল এবং মিয়ানমারের দক্ষিণে পাতা কাছিমের দেখা মেলে।

পাতা কাছিম আকারে বেশ ছোট, মাত্র ২৪ থেকে ২৬ সেন্টিমিটার। শরীর চ্যাপ্টা প্রকৃতির। পিঠের খোলস বা ক্যারাপেস বুকের খোলসের চেয়ে বড়। অল্পবয়স্ক অবস্থায় ক্যারাপেস বাদামি রঙের থাকে, মরা পাতার রঙের সঙ্গে অনেকটা মিল আছে। যার ফলে বিপদের সময় পাতার আড়ালে সহজেই লুকিয়ে পড়তে পারে। ক্যারাপেসের বাইরের দিকে খাঁজকাটা। এরা ছোট ছোট বুনোফল খেতে পছন্দ করে। তবে পোকামাকড়ও এদের খাদ্যতালিকায় আছে। স্ত্রী কাছিম মাটিতে গর্ত করে বাসা বানায় এবং ২ থেকে ৪টি লম্বাটে ডিম পাড়ে। ডিম ফুটে বাচ্চা বের হতে সময় লাগে প্রায় আড়াই মাস।

লেখক : বন্যপ্রাণী গবেষক


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত