ফরহাদ আহাম্মেদ    |    
প্রকাশ : ০৮ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
কৃষি বনায়ন

কৃষি বনায়নের ধারণা বাংলাদেশে নতুন হলেও অন্যান্য দেশে পুরনো। দেশের আবাদি জমি কমছে, জনসংখ্যা বাড়ছে কিন্তু উৎপাদন বাড়ছে না। যেখানে ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন সেখানে আছে ৯ থেকে ১০ ভাগ। এ জন্য একই ভূমিতে ফসল, পশু-পাখি ও মাছ পর্যায়ক্রমে বৃক্ষ রোপণ করাই হচ্ছে কৃষি বনায়ন। এতে পরিবেশ ভালো থাকে। মাটির ভৌত, রাসায়নিক ও জৈবিক গুণ উন্নত হওয়ার ফলে ফসল উৎপাদনে সার কম লাগে এবং ফসল উৎপাদনে ঝুঁকি কমে। ফসল, গাছ, পশু-পাখি ও মাছের আন্তঃক্রিয়ায় পরস্পর উপকৃত হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে ফসল রক্ষা পায়।

দেশের সব অঞ্চলেই ধান, পাট, গম, শাক-সবজি, ডাল, আখসহ প্রায় সব ফসলের জমিতে ও আইলে বহুবর্ষজীবী গাছ রোপণ করা যায়। এ সব জমিতে কম ছায়াদানকারী, কম শিকড় বিস্তারকারী, মাটির গভীরে প্রবেশকারী শিকড়সম্পন্ন বৃক্ষ রোপণ করা হয়। যেমন- নিম, খেজুর, বাবলা, বেল, বাঁশ ইত্যাদি। বসতবাড়ির আঙিনায়- নিম, বহেড়া, হরীতকী, তুলসি, আম, কাঁঠাল ইত্যাদি গাছ রোপণ করা যায়। দেশে পতিত ও প্রান্তিক জমি আছে প্রায় ১.৩ মিলিয়ন হেক্টর। এ সব জমিতে প্রায় সব ধরনের গাছ রোপণ করা যায়। এ সব গাছের ছায়ার নিচে আদা ও হলুদ চাষ করা যায়। পুকুর, নদী, নালা, খাল-বিল, হাওর, বাঁওড়সহ বিভিন্ন জলাশয়ের পাড় দিয়ে পেঁপে, লিচু-পেয়ারা, বেল, শাক-সবজি চাষ করা যায়।

কৃষির সঙ্গে বৃক্ষের সমন্বয়সাধন করে একই জমিতে কৃষি বনায়ন করায় কিছু সমস্যাও আছে। যেমন- সঠিক পদ্ধতিতে বৃক্ষ ও ফসল চাষাবাদ না করলে স্থান, সূর্যরশ্মি, পানি ও পুষ্টি নিয়ে প্রতিযোগিতা হবে। এতে ফসল কম হবে। এ ক্ষেত্রে সূক্ষ্ম দৃষ্টি দিয়ে বৃক্ষ ও ফসল নির্বাচন করতে হবে। নিয়মিত বৃক্ষ ও ফসলের রোগবালাই পরস্পরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বৃক্ষ বৃদ্ধিতে বিলম্ব হতে পারে। সেচের পরিমাণ বেশি লাগে। নিচু জমিতে বন্যার পানিতে বৃক্ষ মারা যেতে পারে। জমি চাষ ও ফসল পরিচর্যায় অসুবিধা হয়।

ফসলের চাষাবাদ স্বাভাবিক নিয়মে করতে হবে। গাছের চারা রোপণ একটু সতর্কতার সঙ্গে করতে হবে। গাছ মাটির গভীরে রোপণ করতে হবে। প্রতিবছর জমির ফসল কাটার পর গাছের ডালপালা ছেঁটে দিতে হবে। এ ছাড়াও কোনো ডালপালা রোগাক্রান্ত হলে ছেঁটে দিতে হবে। সাধারণত ফলদ গাছে ফল ধারণের পর এবং বনজ বৃক্ষ ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে ছাঁটাই করলে গাছের জন্য উপকার হয়। শিকড়ের বেশি বিস্তার হলে শিকড় ছাঁটাই করা যেতে পারে। যে সব ডালপালা ছায়া দেয় সে সব ডালপালা ছেঁটে দিলে গাছের কোনো ক্ষতি হবে না।

আন্তর্জাতিক কৃষি বনায়ন গবেষণা কাউন্সিল সারা বিশ্বে কৃষি বনায়ন করতে সহযোগিতা করছে। বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি বেশকিছু প্রতিষ্ঠান কৃষি বনায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এ জন্য বিভিন্ন দাতাসংস্থা আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতা করছে। দেশে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা কৃষি বনায়ন কর্মসূচিতে ব্যয় হচ্ছে। ইতিমধ্যে ফরিদপুর, যশোর, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর, বগুড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর, রংপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়সহ বেশকিছু জেলায় কৃষি বনায়নের আওতায় আনা হচ্ছে।

লেখক : কৃষিবিদ


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত