চয়ন বিকাশ ভদ্র    |    
প্রকাশ : ২২ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
বিলুপ্তপ্রায় কুম্ভি গাছ

কুম্ভি ছোট থেকে মধ্যম আকৃতির প্রচুর ডালপালা বিশিষ্ট পাতাঝরা গাছ। উচ্চতায় ১৫ থেকে ২০ মিটার। বৈজ্ঞানিক নাম : Careya arborea. এটি Lecythidaceae পরিবারের উদ্ভিদ। এর বাংলা ও স্থানীয় নাম কুম্ভি, ভাকাম্বা, কুমহি, কাম্বার, কুম্ভিপাতা, বিড়িপাতা, টেন্ডুপাতা, খাত্রাপাতা, গাডিলা বা গাডুলা (ঢাকা-ময়মনসিংহ) বল-ডিম্বেল বা গাম্বেল (গারো) ইত্যাদি। ইংরেজিতে Slow-match tree, Wild Guava, Ceylon Oak, Patana Oak ইত্যাদি নামে পরিচিত। কুম্ভি গাছ বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, লাওস ও মালয়েশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত। বাংলাদেশে কুম্ভি একটি বিপদাপন্ন দেশীয় প্রজাতির বিরল গাছ। ২০১২ সালের প্রণীত বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনে কুম্ভি গাছ রক্ষিত উদ্ভিদ হিসেবে অভিহিত।

বাংলাদেশে গাজীপুর, ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইলের পাতাঝরা শাল বনে এবং চট্টগ্রামসহ সিলেটের আদমপুর বনাঞ্চলে বিক্ষিপ্তভাবে জন্মানো কদাচিৎ কুম্ভি গাছ দেখা যায়। ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে লাগানো কিছু কুম্ভি গাছ রয়েছে। কুম্ভি গাছের গুঁড়ি কাণ্ড আঁকাবাঁকা, বাকল গাঢ় ধূসর বা বাদামি এবং বাকলের উপরিভাগ খাঁজ ও ভাঁজযুক্ত। পাতা সরল, ডিম্বাকার, লম্বায় ১৫ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার ও চওড়ায় ৭ থেকে ১৬ সেন্টিমিটার, কিনারা করাতের মতো খাঁজকাটা। ডালপালার অগ্রভাগে পাতাগুলো ঘনবদ্ধভাবে বিন্যস্ত। শীতকালে পাতা ঝরে পড়ার আগে কমলা-লাল রঙের হয়। ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে গুচ্ছাকার স্পাইক পুষ্পবিন্যাসে বড় আকারের হলুদ বা সাদা রঙের ফুল ফোটে। ফল বেরী জাতীয়, গোলাকার, ৫.০ থেকে ৭.৫ সেন্টিমিটার ব্যাসযুক্ত, মাংসল ও রসাল, দেখতে অনেকটা পেয়ারার মতো। ফলের শেষ প্রান্ত পানির কলসের মতো গহ্বরযুক্ত। জুন-জুলাই মাসে ফল পরিপক্ব হয়। প্রতিটি ফলে রয়েছে অসংখ্য বাদামি রঙের বীজ।

বন এলাকায় প্রাকৃতিকভাবে কুম্ভি বীজ থেকে গাছ জন্মায়। কাঠ হালকা থেকে গাঢ় লাল রঙের এবং মধ্যম শক্ত। কাঠের সংকোচন ক্ষমতা অধিক এবং পানিতে টেকসই। ঘর তৈরির খুঁটি, তক্তা, আসবাবপত্র, কেবিনেট এবং কৃষি সরঞ্জামাদি তৈরিতে কাঠ ব্যবহার করা হয়। বাকল থেকে ট্যানিন ও তামাটে রং পাওয়া যায়। বাকলের আঁশ দিয়ে মোটা দড়ি এবং ব্রাউন পেপার তৈরি করা হয়। ভারতে বাকল থেকে সংগৃহীত রস কাশি, ঠাণ্ডা, ফোলা নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া বাকলের রস দেহের উপরিভাগে মালিশ এবং কচি কোমল পাতা প্রলেপ দেয়ার কাজে ব্যবহৃত হয়। আমাদের দেশে এক সময় এ গাছের পাতা ধূমপানের বিড়ি বানানোর কাজে ব্যবহৃত হতো। ফল ভক্ষণযোগ্য, তবে বীজ সামান্য বিষাক্ত।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ, সরকারি গুরুদয়াল কলেজ, কিশোরগঞ্জ


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত