• বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯
কানিজ কবির    |    
প্রকাশ : ২২ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
ভরা নদীর সুরের ধারা

ভরা বর্ষায় চারপাশের প্রকৃতি হয়ে ওঠে সজীব সতেজ। গ্রীষ্মের দাবদাহে পুড়ে, ধুলোবালি গায়ে মেখে প্রকৃতি বর্ষাকালের অপেক্ষায় থাকে। আকাশে ঘুরে ঘুরে তৃষ্ণা মেটাতে চাতক ডাকে। চারপাশ কালো আঁধার করে চাতকের প্রার্থনায় বর্ষা আসে। প্রকৃতির পোড়া অঙ্গে লাগে শীতল স্পর্শ। চাতকের তৃষ্ণা মেটে। কখনও অবিরল বারিধারা, আবার কখনও রোদের প্রচণ্ড তাপে তাও পোড়ে প্রকৃতি। মেঘ বৃষ্টি আর রোদের খেলা চলে ষড়ঋতুর বর্ষাকালে। তবে বর্ষার জলে ুান করে প্রকৃতি ফিরে পায় মোহনীয় এক øিগ্ধতা। সবুজ প্রকৃতির পাশাপাশি নদ-নদীগুলো হয়ে ওঠে পরিপূর্ণ। তের’শ নদীর বাংলাদেশের প্রধান তিনটি নদী- পদ্মা, মেঘনা, যমুনা। এ নদীগুলো থেকে সৃষ্ট অসংখ্য ছোট-বড় নদ-নদী বর্ষায় ফিরে পায় হারান যৌবন। প্রতিটি নদ-নদীই আপন বৈশিষ্ট্যে অনন্য হয়ে ধরা দেয়। উথাল-পাথাল নদীর বয়ে চলা স্রোত হয়ে ওঠে এক উপভোগ্য দৃশ্য। এ যেন চঞ্চলা বন হরিণী, নতুন ছন্দে মাতোয়ারা, আকুল করা, পাগল হওয়া দিশেহারা। ভরা নদীর বুকে রং-বেরঙের পাল উড়িয়ে মাঝি ভাটিয়ালী গান গেয়ে বৈঠার তালে তালে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার দৃশ্য যে কোনো মানুষকেই মুগ্ধ করে। আর পূর্ণিমায় চাঁদের আলোতে ভরা নদীর রূপ এক অপার্থিব জগৎ নেমে আসে মানুষের কাছে যা কখনওই লিখে বর্ণনা করা যায় না। চাঁদের নরম রুপালি আলো নদীর জলে দেখলে মনে হয় কে যেন তরল সোনা ঢেলে রেখেছে। রাতের নীরবতা আর জ্যোৎস্নামাখা ভরা নদী রূপসী বাংলারই রূপ চিত্রিত করে। কখনও কখনও ঝিরিঝিরি বৃষ্টিতে নদীর বুকে মৃদুমন্দ ছন্দের পাশাপাশি শিল্পীর তুলির আঁচড়ে আঁকা বিচিত্র ছবি ফুটে ওঠে। কখনও চপল ছন্দের চকিত চমকে ধেয়ে চলে নদী, কখনও বৃষ্টি আর স্রোতের টানে উত্তাল, উদ্দাম হয়ে ওঠে পাগলা হাতির মতো। তখন দু’পাড়ের ফসলের ক্ষেত, বন-বনানী, হাট-বাজার, স্কুল-কলেজ ভেঙে নিয়ে যায়। নদী খেলে ভাঙনের খেলা। মানুষের কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। একদিকে যেমন নদীর পাড় ভেঙে উদ্বাস্তু করে দেয় মানুষদের, অন্যদিকে গ্রামের পর গ্রামে নদীর কূল ছেপে বন্যার সৃষ্টি হয়। মানুষের বসতভিটায় জল ঢোকে। চারদিকের জল দূষিত হয়ে ওঠে। এক অবর্ণনীয় কষ্টের মধ্যে মানুষ দিন কাটায়। আবার বন্যার ভালো দিকও রয়েছে। বন্যার জলই বয়ে নিয়ে আসে পলিমাটি যা যুগ যুগ ধরে এদেশের কৃষি জমি করে চলেছে উর্বর।

বর্ষাকাল আমাদের জন্য যেমন আশীর্বাদ বয়ে আনে তেমনি বয়ে আনে অভিশাপও। শুকনো মৌসুমে আমাদের নদীগুলো জলশূন্য থাকে। চাষাবাদের জন্য অনেকাংশে নির্ভর করতে হয় ভূগর্ভস্থ জলের ওপর। অনেক নদ-নদী ভরাট হয়ে গেছে। কোনো কোনো জায়গায় দখল করে মানুষ নদীকে হত্যা করছে। নদীর গভীরতা, দখল, পার্শ্ববর্তী দেশের জল না দেয়া মনোভাবসহ বহুবিধ কারণে নদীর দেশে নদী হারিয়ে যাচ্ছে। একটি দেশকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে বাঁচিয়ে রাখতে হবে সে দেশের নদ-নদী। আমরা নদীর দেশের মানুষ। নদীকে ভালোবাসি। নদীকে বাঁচিয়ে রাখতে চাই। নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাই প্রাণ ভরে।

লেখক : প্রকৃতিবিষয়ক লেখক


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত