কানিজ কবির    |    
প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
স্নিগ্ধ শরতের মুগ্ধতায়

‘শরৎ তোমার অরুণ আলোর অঞ্জলি,

ছড়িয়ে গেল ছাপিয়ে মোহন অঙ্গুলি।’

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছন্দে ছন্দ মিলিয়ে শরৎ বন্দনায় পুরো বাঙালি নিমগ্ন। পরিষ্কার নীল আকাশ, সাদা মেঘের ভেলা, শিউলি ফুলের গন্ধ, কাশফুলের শুভ্র সতেজতা নিয়ে শরৎ আসে তার সবটুকু পূর্ণতা নিয়ে, চলেও যায় সবাইকে পূর্ণতা দিয়ে। এসময় সূর্য ওঠে সোনার বরণ রূপ নিয়ে। নির্মল সোনার আলোয় ভরে থাকে চারদিক। বর্ষার বৃষ্টিভেজা লগ্ন শেষে শরৎ আসে প্রকৃতিতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সজীবতার পরশ বুলিয়ে। হঠাৎ বৃষ্টি শরতের পরিবেশকে করে তোলে আরও সজীব, স্নিগ্ধ। শিউলি ফুলের অপার সৌন্দর্য এসময়ের প্রকৃতির প্রধান অনুষঙ্গ। ভোরে শিউলি তলায় ঝরে পড়া শ্বেতশুভ্র শিউলি ফুল আর ভেজা সবুজ দূর্বাঘাস প্রকৃতিপ্রেমীর মনকে দোলা দিয়ে যায়। আছে কাশ ফুলের শুভ্র আহ্বান। নদী তীরে ফুটে থাকা রাশি রাশি কাশ ফুলের সৌন্দর্য শরতকে করে তোলে অনন্য। ফসলের ক্ষেতে এখন অমিত সম্ভাবনা। সবুজ ধানের চারা কদিন পরেই সোনালি রং পাবে। আমন ধানের সবুজ চারার ওপর ঢেউ তোলে উদাসী হাওয়া। ফসলের মাঠের একপাশ দিয়ে বয়ে চলা নদীর রুপালি ধারায় সূর্যের আলো ঝলমল করে। স্বচ্ছ জলে পুঁটি, খলসে, চান্দা মাছের রুপালি শরীরের আভা ভেসে উঠার অপেক্ষায় থাকে ধ্যানরত মাছরাঙা। বিলের জলে অগণিত ফুটে থাকা সাদা, গোলাপি ও লাল শাপলা যেন জড়াজড়ি করে আছে। কী যে তার অপার সৌন্দর্য! হাসনাহেনার সুরভিত সৌরভ মানুষের মন হারানোর জন্য যথেষ্ট। ছাতিম, জবা, মালতি, মল্লিকা, জুঁই তো আছেই।

শরতের স্নিগ্ধ মনোরম দৃশ্য সবাইকে মোহিত করে। কৃষকের অফুরন্ত অবসর আর নতুন ফসল ঘরে তোলার অপেক্ষা। রুপালি ইলিশের সমাগম এসময়ও অব্যাহত থাকে। সব মিলিয়ে শরৎ যেন রূপের রানী। শরতের অনিন্দ রূপ দেখে কবি গুরু তাকে স্বাগত জানিয়েছেন- ‘আমরা বেঁধেছি কাশের গুচ্ছ, আমরা গেঁথেছি শেফালি মালা/ নবীন ধানের মঞ্জুরি দিয়ে সাজিয়ে এনেছি ডালা/ এসো গো শারদও লক্ষ্মী, তোমার শুভ্র মেঘের রথে/ এসো নির্মল নিলপথে...’। আর মাত্র কদিন পরই শরৎকে বিদায় জানাতে হবে। শরতের দুটি মাস যেন দেখতে দেখতে চলে গেল। সবার হৃদয়ে দিয়ে গেল স্নিগ্ধতা আর ভালো লাগার দোলা।

লেখক : প্রকৃতিবিষয়ক লেখক


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত