আ ন ম আমিনুর রহমান    |    
প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
গায়ক পাখি তিলা মুনিয়া

কালোবুক বাবুইয়ের খোঁজে রাজশাহীর পদ্মার চরের লম্বা ঘাস ও নলখাগড়ার বনে হাঁটছি তো হাঁটছি। বিভিন্ন প্রজাতির পাখির দেখা পেলেও কালোবুক বাবুইয়ের কোনো খোঁজ নেই। পড়ন্ত বিকালে নদীরপাড়ে ধানক্ষেতে নামতেই চোখ ছানাবড়া। পুরো ধানক্ষেতজুড়েই বাবুইয়ের রাজত্ব। দল বেঁধে পাকা ধানে ঠোঁট চালাচ্ছে। পরক্ষণেই উড়ে যাচ্ছে, আবার ফিরে আসছে। কালোবুক বাবুইয়ের আসা-যাওয়ার মাঝে ধানক্ষেতে আরও ৫-৬টি ছোট্ট পাখিকে ধানে ঠোঁট চালাতে দেখলাম। এরা আমার খুব পরিচিত। বাবা-মার সঙ্গে বাচ্চাগুলো ধানক্ষেতে এসেছে। হঠাৎ চোখে পড়ল বাচ্চাগুলোর মধ্যে একটির পালকের রং একেবারেই আলাদা। গাঢ় কালচে-খয়েরি রঙের এ ধরনের পাখি আমি কোনোদিন দেখিনি। মূলত আলাদা পাখিটি হল গায়ক পাখি তিলা মুনিয়া। ইংরেজি নাম : Scally-breasted Munia. জিনগত পরিব্যক্তি বা জেনেটিক মিউটেশনের কারণে মেলানিজম (Melanism) বা মেলানোসিস (Melanosis) নামক অবস্থার জন্য পালকে অতিরিক্ত পরিমাণে মেলানিন (Melanin) নামক রঞ্জক পদার্থ জমা হওয়ায় পালকের রং পুরোপুরি কালো বা খয়েরি হয়ে গেছে। Ploceidae পরিবারের তিলা মুনিয়ার বৈজ্ঞানিক নাম : Lonchura punctulata.

তিলা মুনিয়া লম্বায় ১১.৫ সেন্টিমিটার। ওজনে ১৩.৫ গ্রাম। মাথা থেকে লেজের ডগা জলপাই-বাদামি, গলাও তাই। চিবুক গাঢ় রঙের। বুকের ওপরটা খয়েরি। পেট কালচে-বাদামি, তাতে সাদা ফোটা থাকে। স্ত্রী-পুরুষ দেখতে একই রকম। বাচ্চাগুলোর দেহের ওপরটা বাদামি ও নিচটা লালচে-হলুদ। বুকে কোনো ফোটা নেই।

চঞ্চল তিলা মুনিয়া সচরাচর দৃশ্যমান আবাসিক পাখি। এরা ডাল থেকে ডালে, ফসলের ক্ষেতে, মাঠে, নল-খাগড়ার বনে, বাগানসহ বিভিন্ন স্থানে ঝাঁকে ঝাঁকে বিচরণ করে। ধান বা অন্যান্য শস্যদানা মুখে রেখেই তা থেকে শক্ত খোসা ছাড়িয়ে নিতে পারে। ঘাসবীচি ও কীটপতঙ্গও খায়। মে-সেপ্টেম্বর তিলা মুনিয়ার প্রজননকাল। স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে খেজুর গাছের মথির ঘন পাতার আড়ালে, লতা-ঝোপে, বাবলা, ঝাউ, কেয়া, কান্তা, দেবদারু ইত্যাদি গাছে গোলাকৃতির বাসা বোনে। স্ত্রী মুনিয়া ৪ থেকে ৮টি ধবধবে সাদা ডিম পাড়ে। স্বামী-স্ত্রী মিলে ১৩ থেকে ১৫ দিনে তা দিয়ে বাচ্চা ফোটায়।

শহুরে মানুষের কাছে পোষা পাখি হিসেবে মুনিয়া জনপ্রিয় হওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এদের ধরে এনে পেট শপে বিক্রি করা হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আজকের সহজলভ্য তিলা মুনিয়া প্রকৃতি থেকে একদিন হারিয়ে যাবে।

লেখক : বন্যপ্রাণী জীববিজ্ঞানী ও প্রাণিচিকিৎসা বিশেষজ্ঞ, বন্যপ্রাণী প্রজনন ও সংরক্ষণ কেন্দ্র, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত