হাজী মোহাম্মদ মহসীন    |    
প্রকাশ : ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
ভেষজ উদ্ভিদ বাসক

বাসক মানুষের কাছে একটি পরিচিত গুল্মজাতীয় ভেষজ উদ্ভিদ। অন্যান্য ঋতুতে রোগ-বালাইয়ের প্রকোপ কম থাকলেও শীতঋতুতে বেড়ে যায়, বিশেষ করে ঠাণ্ডা-কাশি-শ্বাসনালির বিভিন্ন সমস্যা। ঠাণ্ডা-কাশি সারাতে গ্রামের মানুষের কাছে মহৌষধ হল বাসক পাতা। শুধু ঠাণ্ডা-কাশি নয়, বাসকের রয়েছে বহুবিধ গুণ। পাতা, কাণ্ড, ছাল, মূল, ফল সবকিছুই উপকারী। অম্লপিত্ত, কৃমি, রক্ত পরিষ্কারক, শ্বাসকষ্ট, সর্দি, হাঁপানি, হুপিং কাশি, খিঁচুনি, জণ্ডিস, যক্ষ্মা, গায়ে দুর্গন্ধ, খোস-পাঁচড়া, অর্শ, টিউমার এবং জীবাণুনাশে বাসক পাতা ব্যবহার করা হয়। বাসকে ইংরেজিতে বলা হয় Vasaka Malabar Nut. হিন্দিতে বলা হয় ‘আডুসা’, ‘বানসা’ অথবা ‘ভাসিকা’। বৈজ্ঞানিক নাম Adhatoda yeylanica Nees.

বাসক ভেজা ও সমতল জমিতে ভালো জন্মে। রাস্তার দু’পাশ, পুকুর-ডোবার পাড়, বসতবাড়ির আশপাশ বাসকের জন্য উপযুক্ত স্থান। কচি অবস্থায় বাসক গাছ সবুজ থাকলেও পরিণত হলে কিছুটা বেগুনি রঙ ধারণ করে। বাসক গাছ উচ্চতায় প্রায় ৫ থেকে ৬ ফুট লম্বা হয়। পাতার রঙ সবুজ। গাছের শাখা-প্রশাখা ছড়ানো। আষাঢ়-শ্রাবণে সাদা ফুলে গাছ ভরে ওঠে। ফুল দেখতে অসাধারণ। বাসক পাতায় ক্ষারীয় পদার্থ থাকায় ছত্রাক জন্মায় না এবং পোকামাকড় ধরে না বলে প্যাকিং এবং সংরক্ষণ করার কাজে ব্যবহার করা হয়। পাতায় সামান্য দুর্গন্ধ থাকে বলে পশুপাখিও মুখ দেয় না।

প্রথম দিকে গবাদিপশুর হাত থেকে জমির ফসল বাঁচাতে বেড়া এবং সৌন্দর্য বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে বাসক লাগানো হলেও এখন ধারণা পাল্টেছে। ঔষুধিগুণ থাকায় বাংলাদেশের কোনো কোনো অঞ্চলে বাসকের বাণিজ্যিক চাষ শুরু হয়েছে।

লেখক : প্রকৃতি ও পরিবেশবিষয়ক লেখক


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত