ড. মো. শহীদুর রশীদ ভূঁইয়া    |    
প্রকাশ : ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
শীত ঋতুর রঙে রঙিন ফুলগুলো

শীত ঋতুতে জড়সড় হয়ে থাকে প্রকৃতি। এরপরও আড়মোড়া ভেঙে জেগে ওঠে শীতের ফুল। আকার-আকৃতিতে এরা বৈচিত্র্যময়। বর্ণ-বৈচিত্র্যও নজরকাড়া। রঙে রঙে রঙিন হয়ে ওঠে চারপাশ। শীতের অধিকাংশ ফুল বিদেশি হলেও এদেশের জলবায়ুর সঙ্গে খাপ খাইয়ে বিস্তার লাভ করছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- ডালিয়া, ক্রিসেন্থেমাম, বাটন, হলিহক, এস্টার, সুইটপি, ফ্লকস্, পর্টুলেখা, ভার্বেনা কারনেশন, জিনিয়া, কসমস, পিটুনিয়া ইত্যাদি। তবে কোনো কোনো ফুলের চমৎকার বাংলা নাম রয়েছে। যেমন ক্রিসেন্থেমামকে বলা হয় ‘চন্দ্রমল্লিকা’, বাটনকে বলা হয় ‘বোতাম’। ডালিয়া, কসমস, পিটুনিয়া নিজেদের নামেই পরিচিত। তবে শীত ঋতুতে বাংলারও ফুল রয়েছে- কৃষ্ণকলি, গাঁদা, দশবাইচণ্ডী ইত্যাদি।

শীত ঋতুকে উজ্জ্বল করে তোলে বাহারি রঙ আর আকৃতি গাঁদা ফুল। কোনোটা ঝলমলে হলুদ তো কোনো কোনোটা হলদে কমলায় মেশানো, কোনোটা দেখতে একেবারে কমলা রঙের, আবার হলুদ পাপড়ির থোকার মধ্যে খয়েরি রঙের পাপড়িও কিছু রয়েছে তেমন গাঁদাও দেখা যায়। ফুলের আকার আকৃতির পার্থক্যও একেবারে কম নয়। কোনোটা ছোট তো কোনোটা বড়। তবে হাইব্রিড গাঁদার গাছগুলো মাঝারি আকৃতির আঁটোসাঁটো গড়নের। ফুলগুলো বড় আর জীবনকালও খানিকটা বেশি। ডালিয়া শীতের আরেক বৈচিত্র্যময় ও নজরকাড়া ফুল। এদের পাপড়ির ঔজ্জ্বল্য আর চমৎকার বিন্যাস সহজেই মানুষকে মুগ্ধ করে। ফুলের মঞ্জুরির আকার-আকৃতি ভেদে ডালিয়ার কমপক্ষে দশটি প্রজাতি রয়েছে। বাংলাদেশে ডেকোরেটিভ, ক্যাকটাস আর পম্পন প্রজাতির ডালিয়ার চাহিদা বেশি।

ক্রিসেন্থেমামের বাংলা নাম চন্দ্রমল্লিকা। এর শত শত জাত রয়েছে। আর এমন কোনো রং নেই যা চন্দ্রমল্লিকার জাতে ধরা দেয়নি। রঙ বৈচিত্র্যেও এরা অতুলনীয়। এদেশে সহজেই জন্মে মেক্সিকোর ফুল কসমস। তিন চার ফুট লম্বা সুদৃশ্য চিকন ফালিযুক্ত পাতা বিশিষ্ট এ ফুল গাছটিতে একটি করে ফুল ফোটে। জাতভেদে এদের কোনোটার রং সাদা, কোনোটার রঙ মেজেন্টা আবার কোনোটার রঙ গোলাপি। মেক্সিকোর আরেক ফুল হল সালভিয়া। ভালোই মানিয়ে নিয়েছ এদেশের প্রকৃতির সঙ্গে। এক একটি লম্বা দণ্ডের ওপর এক একটি ফুল। জাতভেদে ফুলের রং বৈচিত্র্যও অনেক। শীতের আরেক ফুল এস্টার। এদের রয়েছে বহুজাত। রং বৈচিত্র্যও কম নয়। বাংলার নিজস্ব ফুল হল কৃষ্ণকলি। হাত দেড়েক উঁচু গাছে সাদা-গোলাপি ছোট ছোট ফুল ধরে। আরেক ফুল হল দশবাইচণ্ডী। নামটা বিদঘুটে হলেও দৃষ্টিনন্দন ফুল। ছোট ছোট গাছে প্রজাপতির মতো এক একটি ফুল ফোটে। ফুলের রং সাধারণত নীল। তবে হলুদ-গোলাপি রঙের ফুলের জাতও রয়েছে।

কুয়াশার চাদর মুড়ি দেয়া শীতের হিমেল হাওয়ায় এসব ফুল হেসে ওঠে। পরিকল্পিতভাবে বিদেশি ফুল চাষ করা গেলে যেমন অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া যাবে তেমনি মনও থাকবে প্রফুল্ল।

লেখক : ফসল উন্নয়ন গবেষক, উদ্ভাবক ও লেখক


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত