একরাম তালুকদার, দিনাজপুর    |    
প্রকাশ : ২৩ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি সিন্ডিকেটের কবলে
কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিতে একদিনেই ৩২ হাজার টন কয়লা বিক্রি! * মূল্য বৃদ্ধিতে ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ

দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিএমসিএল) কয়লা বিক্রি নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় এই কয়লা খনিটি সিন্ডিকেটের কবলে পড়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কতিপয় কর্মকর্তা এবং কোম্পানির কয়েকজন অসাধু ঠিকাদার এর সঙ্গে জড়িত। নিয়মনীতি উপেক্ষা করে সিন্ডিকেটের কাছে কয়লা বিক্রির প্রতিবাদে শনিবার দুপুরে বড়পুকুরিয়া কয়লা ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা সমাবেশ করে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তারা প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও লুটপাটের অভিযোগ করেন। প্রকল্পের গাড়ি ভাড়া নিয়েও রয়েছে অভিযোগ।

জানা যায়, নির্ধারিত ব্যবসায়ীদের বাদ দিয়ে গত ১৭ জুলাই সিন্ডিকেট সদস্যদের অনৈতিক সুবিধা দিতে আকস্মিকভাবে ৩২ হাজার টন কয়লা সরবরাহ করার পরই হঠাৎ কয়লা বিক্রি বন্ধ করে দেয়া হয়। কয়লার বিশাল মজুদ থাকার পরও বিক্রি বন্ধ করে বাজারে এ পণ্যটির কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়। ফলে সাধারণ ক্রেতারা বাধ্য হয়ে বেশি দামে সিন্ডিকেটের কাছ থেকে কয়লা ক্রয়ে বাধ্য হচ্ছেন। উল্লেখ্য, খনিতে কয়লার মজুদের পরিমাণ ৩ লাখ টনেরও বেশি। দিনে উত্তোলন হচ্ছে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার টন।

সাধারণ ক্রেতাদের আবেদন উপেক্ষা করে যাদের কাছে ৩২ হাজার টন কয়লা বিক্রি করা হয়, তাদের মধ্যে আমীন ব্রিকসের স্বত্বাধিকারী রুহুল আমীন অন্যতম। তাকে ৪টি ডিও’র (বিলি আদেশ) মাধ্যমে ১০ হাজার টন, ইশান ফুডের স্বত্বাধিকারী ইশতিয়াক আহমেদের কাছে একটি ডিও’র মাধ্যমে ২ হাজার ৫০০ টন কয়লা বিক্রি করা হয়। একজন ক্রেতার কাছে সর্বনিন্ম ১শ’ টন থেকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টন কয়লা বিক্রির নিয়ম থাকলেও এখানে তা মানা হয়নি। প্রতি টন কয়লার খনিমূল্য ১২ হাজার ৫১১ টাকা হলেও কৃত্রিম সংকটের কারণে বাজারে প্রতি টন কয়লা এখন বিক্রি হচ্ছে প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার টাকা। বাড়তি এ অর্থ যাচ্ছে সিন্ডিকেটের পকেটে।

সিন্ডিকেটের কাছে কয়লা বিক্রি করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির প্রতিবাদে শনিবার দুপুরে স্থানীয়ভাবে সভা করে বড়পুকুরিয়া কয়লা ব্যবসায়ী সমিতি। আগাম ঘোষণা ছাড়াই সিন্ডিকেটের কাছে কয়লা বিক্রির প্রতিবাদ জানানো হয় সভায়। সমিতির সভাপতি মজিবর রহমান, সাধারণ সম্পাদক রায়হান আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক রাজ্জাক আলীসহ অনেকেই বক্তব্য দেন। তারা জানান, প্রায় ৪শ’ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান লিখিত আবেদন করলেও কয়লা দেয়া হয় বেছে বেছে কয়েকজনকে। তাদের অভিযোগ, কোম্পানি সচিব আবুল কাশেম প্রধানিয়াসহ কয়েকজন কর্মকর্তার যোগসাজশেই খনিতে সিন্ডিকেটের রাজত্ব কায়েম হয়েছে। সভায় স্মারকলিপি প্রদানের মাধ্যমে গোটা বিষয়টি জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের সিদ্ধান্ত হয়।

হঠাৎ কয়লা বিক্রি বন্ধের সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানতে চাইলে খনির উপ-মহাব্যবস্থাপক (সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং) খান মো. জাফর সাদিক বলেন, কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ১৯ জুলাই থেকে কয়লা বিক্রি বন্ধ রয়েছে। তবে একদিনে ৩২ হাজার টন কয়লা বিক্রির কথা স্বীকার করেন তিনি।

খনির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. হাবিব উদ্দীন আহমেদ গত ১৮ জুলাই অস্ট্রেলিয়া যাওয়ায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

এদিকে প্রকল্পের জন্য চড়া মূল্যে অর্থাৎ ১ লাখ ৯ হাজার ৫০০ টাকা করে দুটি মাইক্রোবাস ভাড়া নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে জাতীয় পত্রিকায় টেন্ডার আহ্বান করা হলেও জমা দেয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এটি বাগিয়ে নেন খনির ব্যবস্থাপক (প্রশাসন ও নিরাপত্তা) মাসুদুর রহমান হাওলাদার। পরিকল্পনামাফিক মাসুদুর রহমান মাইক্রোবাস দুটি (ঢাকা মেট্রো চ-১৪-২৬৯০ এবং ঢাকা মেট্রো-ম-৬৪৭) তার স্ত্রীর নামে ক্রয় করেছিলেন আগেভাগে। তবে মাইক্রোবাস দুটি ফুলবাড়ী উপজেলার তাসমিন এন্টারপ্রাইজের নামে এক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ভাড়া নেয়া দেখানো হলেও ওই নামে ফুলবাড়ীতে কোনো প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব নেই। অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) এবিএম কামরুজ্জামান জানান, দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই মাইক্রোবাস দুটি ভাড়া নেয়া হয়েছে। খনির ব্যবস্থাপক (প্রশাসন ও নিরাপত্তা) মাসুদুর রহমান হাওলাদার জানান, মাইক্রোবাস দুটি তার স্ত্রীর নামে কেনা হলেও ইতিমধ্যে তা বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের কথা অস্বীকার করেন তিনি। এদিকে খনির অবস্থান বড়পুকুরিয়ায় হলেও মহাব্যবস্থাপক ও কোম্পানি সচিব আবুল কাশেম প্রধানিয়া প্রভাব খাটিয়ে ঢাকার লিয়াজোঁ অফিসে অফিস করছেন। খনির জিপটি (ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৩-২৫২০) ব্যবহার করছেন তিনি ঢাকায়। জানতে চাইলে আবুল কাশেম জানান, কোম্পানি সচিব হলেও তার কর্মস্থল খনিতে নয়, ঢাকার লিয়াজোঁ অফিসে।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত