যুগান্তর রিপোর্ট    |    
প্রকাশ : ২৪ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
কর্মশালায় তথ্য
বিশ্বে প্রতি ৩৯ সেকেন্ডে ১ বার সাইবার হামলা হয়
২০১৬ সালে ক্ষতি ১ বিলিয়ন ডলার * বাংলাদেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা বাড়নোর তাগিদ

প্রতি ৩৯ সেকেন্ডে বিশ্বের কোনো না কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে একবার সাইবার হামলা চালাচ্ছে হ্যাকাররা। আর এ কারণে ২০১৬ সালে ক্ষতি হয়েছে ১ বিলিয়ন ডলার। ২০২১ সাল নাগাদ সাইবার অপরাধজনিত ক্ষতির মাত্রা বেড়ে দাঁড়াতে পারে ৬ ট্রিলিয়ন ডলার। বিষয়টি নিয়ে বিশ্বজুড়ে এখন উদ্বেগ বিরাজ করছে। রোববার রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) অডিটোরিয়ামে ‘ব্যাংকের তথ্য নিরাপত্তা ঝুঁকি প্রস্তুতি’ শীর্ষক কর্মশালায় উপস্থাপিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন তথ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ রুবাইয়াত আকবর। বিআইবিএম ও ট্রান্স আইটি সল্যুশন যৌথভাবে কর্মশালার আয়োজন করে।

কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বলেন, ‘সাইবার নিরাপত্তা বিশ্বব্যাপী উদ্বিগ্নের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যে প্রধান আইটি কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে। একই সঙ্গে আইটি নিরাপত্তা বিষয়ে একটি গাইডলাইনও প্রস্তুত করেছে।’ তিনি বলেন, ‘ক্রমবর্ধমান সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবেলায় এবং নিরাপদ ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে ব্যাংকের সব কর্মীদের সচেতন হতে হবে। এ ছাড়া প্রত্যেকটি ব্যাংককে আলাদা আলাদাভাবে সাইবার সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজি প্রণয়ন করতে হবে।’ ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আনিস এ খান বলেন, ‘ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকতে হবে। ব্যাংকারদের সচেতনতা বাড়ানো এবং প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিতে হবে।’

ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কাশেম মো. শিরিন বলেন, ‘মাঝারি মাপের প্রাকৃতিক বিপর্যয় হলে অনেক ব্যাংকের গ্রাহক সেবা বন্ধ হয়ে যাবে। আর বড় ধরনের বিপর্যয় হলে কোনো ব্যাংকেরই সেবা দেয়া সম্ভব হবে না। কারণ ডেটা সেন্টারে যে ধরনের নিরাপত্তা থাকা দরকার তা ব্যাংকগুলোর নেই।’

ট্রান্স আইটি সল্যুশনের সিইও আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোতে তথ্য নিরাপত্তায় সচেতনতা বাড়াতে হবে। বর্তমানে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুধু ঢাকা বা বড় শহরে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। প্রতিটি জেলা পর্যায়ে ব্যাংক কর্মীদের জন্য এরকম ভিন্নধর্মী কর্মশালা আয়োজন করতে হবে।’

কর্মশালায় ট্রান্স আইটির পক্ষ থেকে দেড় ঘণ্টাব্যাপী সেশনে সাম্প্রতিককালের চাঞ্চল্যকর কয়েকটি সাইবার ঝুঁকি র‌্যানসমওয়্যার আর ফিশিং আক্রমণ কিভাবে পরিচালিত হয়, তার বাস্তব নমুনা প্রদর্শন করা হয়। অনিরাপদ ওয়াই-ফাই ব্যবহার করে ল্যাপটপ হ্যাক করার মাধ্যমে হ্যাকাররা কিভাবে দুর্বলতার সুযোগ নেয় তাও অংশগ্রহণকারীদের সামনেই তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা নিয়ে হ্যাকাররা প্রথমেই টার্গেট করে ব্যাংকের সাধারণ কর্মীদের। তাদেরকে ভুলের ফাঁদে ফেলে গ্রাহক তথ্য চুরি এবং পেমেন্ট সিস্টেমে অনধিকার প্রবেশ করার জন্য নিরন্তর চেষ্টা চালায় হ্যাকাররা। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০১৭ সালে সাইবার ঝুঁকি মোকাবেলা করতে ব্যাংকের সর্বস্তরে অধিকতর সচেতন করার কোনো বিকল্প নেই। হ্যাকারদের আক্রমণের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে আর্থিক ও ব্যাংকিং খাত। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। এ জন্য ব্যাংকগুলোতে কর্মরত সবার সাইবার আক্রমণের ধরন সম্পর্কে ধারণা লাভ ও এর প্রতিরোধের জন্য প্রস্তুত থাকা জরুরি। কর্মশালায় বক্তারা বলেন, প্রচলিত ধারায় প্রশিক্ষণ না দিয়ে সাইবার হামলার চিত্র ও উত্তরণের উপায় সরাসরি দেখালে সেটা বেশি কার্যকর হবে। সচেতন কর্মীরাই আর্থিক খাতের সাইবার ঝুঁকি মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ। স্বাগত বক্তব্য দেন বিআইবিএমের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) ড. শাহ মো. আহসান হাবীব।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত