বরগুনা (দক্ষিণ) প্রতিনিধি    |    
প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অর্ধকোটি টাকার অডিট আপত্তি
পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদ

পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদে দেড় কোটি টাকারও বেশি আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম রিপন এবং উপজেলা প্রকৌশলী মো. আজিজুর রহমানসহ কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ ওঠেছে। সবচেয়ে বেশি অভিযোগ রয়েছে উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ মো. কামরুল হুদা ওই চেয়ারম্যানকে ৫ সেপ্টেম্বর একটি পত্র দিয়ে ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অডিট আপত্তি নিষ্পত্তি করতে বলেছেন। চিঠিতে এও উল্লেখ করেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ৪৯ লাখ ২৯ হাজার ৪৩৮ টাকার অডিট আপত্তি নিষ্পত্তি করতে না পারলে পরবর্তী নির্বাচনে তার অযোগ্য হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। সম্প্রতি স্থানীয় ও রাজস্ব অডিট অধিদফতরের প্রতিবেদনে এ অনিয়ম, দুর্নীতি ও রাজস্ব ফাঁকির তথ্য পাওয়া গেছে।

পাথরঘাটার ইউএনও শাহ মো. কামরুল হুদা বলেন, ২০১৪-১৫ ও ২০১৫-১৬ অর্থবছরে পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদের বিপরীতে ১ কোটি ৬৩ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৫ টাকার অডিট আপত্তি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রিপনের বিরুদ্ধে ৪৯ লাখ ২৯ হাজার ৪৩৮ টাকা ও উপজেলা প্রকৌশলী মো. আজিজুর রহমানের বিরুদ্ধে ৩৫ লাখ ৭৫ হাজার ৭১৯ টাকার জন্য তাগিদপত্র দেয়া হয়েছে। যার জবাব ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চাওয়া হয়েছে। প্রাপ্ত এ আর্থিক অনিয়ম ও সরকারের রাজস্ব ক্ষতি ব্যক্তিগত দায় হিসেবে বিবেচিত হবে।

সরকারি নিরীক্ষা পরিদর্শন প্রতিবেদনে (এআইআর) দেখা গেছে, উপজেলা চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম রিপন, উপজেলা প্রকৌশলী মো. আজিজুর রহমান ও ৭ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের সমন্বয়ে সৌর প্যানেল স্থাপন, গরিব মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের বৃত্তি, খেলাধুলার সামগ্রী, রাজস্ব তহবিলের উদ্বৃত্ত অর্থ, মেরামত ও কেনাকাটা, সেলাই মেশিন ও পাইপ বিতরণ, ক্লাব নির্মাণ, হাটবাজারের ভ্যাট ও আয়কর সরকারি কোষাগারে জমা না দেয়া এবং অপ্রত্যাশিত খাতে অর্থ ব্যয়সহ ২৬টি খাতে ১ কোটি ৬৩ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৫ টাকার অনিয়ম, দুর্নীতি ও রাজস্ব ফাঁকি দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম রিপন ও পাথরঘাটা উপজেলা প্রকৌশলী মো. আজিজুর রহমান বেশি জড়িত রয়েছেন। ২০১৪-১৫ ও ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ওই দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে এ অনিয়ম, দুর্নীতি ও রাজস্ব ফাঁকির প্রমাণ পাওয়া গেছে। শুধু তা-ই নয়, ২০১৪ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত এ চার মাসের ক্যাশ বইয়ে আয়-ব্যয়ের কোনো হিসাব নেই। একই সঙ্গে বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব ও বাজেট ছাড়াই আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে, যা উপজেলা পরিষদ আইনের লঙ্ঘন।

পাথরঘাটার ইউএনও কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ১ কোটি ৬৩ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৫ টাকার অডিট আপত্তিতে সাত ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানও জড়িত।

ইউএনওর তাগিদপত্র পাওয়ার কথা স্বীকার করে উপজেলা প্রকৌশলী মো. আজিজুর রহমান বুধবার যুগান্তরকে বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমাকে চিঠি দেননি। চিঠি দিয়েছেন আমার দফতরকে। যথা সময়ে চিঠির জবাবসহ বিষয়টি ফয়সালা করা হবে। এ ব্যাপারে পাথরঘাটা উপজেলা চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম রিপন যুগান্তরের ফোন রিসিভ করেননি। তবে অন্য এক সাংবাদিককে বলেন, অডিট কর্মকর্তারা মোটা অঙ্কের ঘুষ চেয়েছিল, ওই টাকা না দেয়ায় আমাদের ওপর অডিট আপত্তি দিয়ে রাখা হয়েছে। তবে আমরা এগুলোর কাগজপত্রসহ জবাব দেয়ার চেষ্টা করছি।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত