মেহেরপুর প্রতিনিধি    |    
প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
মেহেরপুরে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রাম্য সালিশ
রায়ে দুই ধর্ষকের অর্থদণ্ড একজনের বিয়ের সাজা
মেহেরপুরের পল্লীতে ধর্ষণের শিকার এক বিধবা ৭ মাসের গর্ভবতী। তার আগের দুটি সন্তান রয়েছে। সামাজিক সালিশে গ্রামের মাতুব্বররা ওই নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে একজনের ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, একজনের ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং অরেকজনকে বিয়ের রায় দিয়েছেন। ২৫ দিনের মধ্যে অভিযুক্ত হাসেম আলী ও বাবলুকে টাকা পরিশোধ এবং ইমাদুল হককে বিয়ের নির্দেশ দিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে রায় বাস্তবায়ন না হলে আরও বড় ধরনের সাজা দেয়া হবে বলে সাদা কাগজে অভিযুক্তদের স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের তিনজনই বিএনপি সমর্থক। গত ১৬ সেপ্টেম্বর গ্রামের বাজারে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন কুতুবপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার আখতার হোসেন, একই ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ ওয়ার্ড সভাপতি গোলাম মোস্তফা, সাবেক মেম্বার মোতালেব হোসেন ও ফকির মোহাম্মদ, ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি আরিফ হোসেন, আওয়ামী লীগ নেতা মশিউর রহমান কালু ও সুবেহ সাদেক বিশ্বাস। ধর্ষিতা ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করে। সম্প্রতি তার গর্ভবতী হয়ে পড়ার বিষয়টি তার ভাই-ভাবীদের নজরে আসে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারেন হাসেম আলী, বাবুল সর্দার ও ভূমিহীন ইমাদুল নামের তিন লম্পট বিভিন্ন সময়ে তাকে ধর্ষণ করেছে। ধর্ষিতার ভাই গ্রামের মাতুব্বরদের কাছে বিচার চান। ১৬ সেপ্টেম্বর তিন ধর্ষককে অভিযুক্ত করে উপরোক্ত রায় দিয়েছেন মাতুব্বররা।
এদিকে মেহেরপুর সদর থানার পরিদর্শক (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, এ সম্পর্কে কোনো অভিযোগ তিনি পাননি। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, গ্রামের মাতুব্বরদের এ ধরনের বিচার আইনসিদ্ধ নয়। বিচারের জন্য আদালত আছে।
বুধবার ওই এলাকায় সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, দরজাহীন একটি তালপাতার ছাউনি দেয়া ঘরে বসে আছে বিধবা রমিছা (ছদ্মনাম)। সে শারীরিক ও অনেকটাই মানসিক প্রতিবন্ধী। রমিছা জানায়, বিভিন্ন সময়ে অভিযুক্তদের বাড়িতে ভিক্ষা, ফিতরা চাইতে গিয়ে সে ধর্ষণের শিকার হয়।
অভিযুক্ত হাসেম আলী বলেন, রমিছা বিচারের সময় জানিয়েছিল সে আমার বাড়িতে ফিতরা নিতে এসে ধর্ষিত হয়েছে। মাত্র তিন মাস আগে ঈদুল ফিতর শেষ হয়েছে। অথচ সে এখন সাত মাসের গর্ভবতী। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি সমর্থক এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়া তার কাল হয়েছে। গ্রামের বিচারকদের মারধরের ভয়ে তিনি বিচার মেনে নিতে বাধ্য হয়েছেন বলেও জানান। অভিযুক্ত শ্রমজীবী বাবুল সর্দার জানান, রমিছা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। সে কখন কার নাম বলে ঠিক থাকে না। বিচারে রমিছার কাছে ভালোভাবে না শুনেই মাতুব্বররা তার জরিমানা করেছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, পক্ষপাতিত্বের বিচার করা হয়েছে। অভিযুক্ত ভূমিহীন ইমাদুল হকের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। ইমাদুলের স্ত্রী জানান, গ্রামের মাতুববররা যদি জোর করে তার স্বামীর সঙ্গে রমিছার বিয়ে দেয় তাহলে তিনি আইনের আশ্রয় নেবেন।
মাতুব্বর কুতুবপুর ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা আরিফ হোসেন এ প্রসঙ্গে বলেন, আসামিপক্ষই বিচার ডাকে। তাদের পীড়াপীড়িতেই বিচার করা হয়েছে।
কুতুবপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার মোতালেব এ প্রসঙ্গে বলেন, অনাগত সন্তানের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে জরিমানা করা হয়েছে। অভিযুক্ত তিনজনই রমিছার সঙ্গে দৈহিক সম্পর্কের বিষয়টি সালিশে স্বীকার করে। অভিযুক্ত হাসেম ও বাবুল বিচারে জরিমানা করার জন্য বলে। ফলে তাদের আর্থিক জরিমানা করা হয়। ইমাদুল ভূমিহীন হওয়ার কারণে সে নিজ ইচ্ছায় বিয়ে করার ইচ্ছা পোষণ করে। অভিযুক্তদের চাহিদামতোই বিচার করা হয়েছে। ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বার আখতার হোসেন অভিযুক্ত হাসেম আলী সম্পর্কে বলেন, হাশেম কয়েক বছর আগেও এক মেয়ের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক করে। গর্ভবতী হয়ে পড়লে ওই মেয়ে বিষপানে আত্মহত্যা করে।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত