শরীয়তপুর প্রতিনিধি    |    
প্রকাশ : ২১ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
শরীয়তপুরে দফতরি নিয়োগে অনিয়ম
মামলা দায়ের : সংরক্ষণ হয়নি মুক্তিযোদ্ধা কোটা
শরীয়তপুর সদর উপজেলার ২৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দফতরি কাম নৈশপ্রহরী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে নিয়োগ বোর্ডের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে ৭ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে কেন এ নিয়োগ বাতিল করা হবে না জানতে চেয়েছেন। নিয়োগ বোর্ডের প্রধান ইউএনও মো. জিয়াউর রহমান বলেছেন, কোনো অনিয়ম হয়নি। মামলা আইনি প্রক্রিয়ায় মোকাবেলা করা হবে।
শরীয়তপুর সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের উদ্যোগে ২৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দফতরি কাম নৈশপ্রহরী নিয়োগে ২ আগস্ট পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দরখাস্ত আহ্বান করা হয়। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়- প্রার্থীকে অবশ্যই ৮ম শ্রেণী পাস ও বয়স ৩০ বছরের মধ্যে হতে হবে। তবে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের ক্ষেত্রে বয়সসীমা ৩২ বছর। ১৮২ প্রার্থী দরখাস্ত জমা দেন। যাচাই-বাছাই শেষে ৮০ জনের দরখাস্ত বৈধ বলে তাদের ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ডাকা হয়। ৬ সদস্যের নিয়োগ কমিটি পরীক্ষা গ্রহণ করে। নিয়োগ বোর্ডের প্রধান ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান। সদস্য সচিব পদাধিকার বলে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হামিদুল হক। ১১ সেপ্টেম্বর নিয়োগ বোর্ডের পক্ষ থেকে উত্তীর্ণদের একটি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করে তাদের নিয়োগ দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের নির্দেশ দেয়া হয়। এ তালিকায় মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংরক্ষণ করা হয়নি। এছাড়া এ ২৮ জনের কেউ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান নয়। এ সংবাদ পেয়ে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা পরদিন ১২ সেপ্টেম্বর শরীয়তপুর শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সদর উপজেলা পরিষদের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। এদিকে তালিকা অনুযায়ী ১৪ থেকে ২০ অক্টোবরের মধ্যে ২৮টি বিদ্যালয় দফতরি কাম নৈশপ্রহরী নিয়োগ নিশ্চিত করে। এসব দফতরি কাম নৈশপ্রহরীকে ৩ বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে কোনো কাগজপত্র যাচাই-বাছাই না করেই নিয়োগ বোর্ডের প্রধান ইউএনও মো. জিয়াউর রহমান ভুয়া ও জাল সনদে অনেককে চাকরি দিয়েছেন বলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করেছেন চাকরি বঞ্চিত মো. সুমন হাওলাদার। এ নিয়োগের বিরুদ্ধে ইউএনও এবং ভারপ্রাপ্ত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। ১৪ সেপ্টেম্বর শরীয়তপুর সদর (চিকন্দি) সহকারী জজ আদালতে মো. সুমন হাওলাদারসহ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান শরীয়তপুর সদরের ইউএনওসহ নিয়োগ বোর্ডের বিরুদ্ধে মামলা করেন। আদালতের বিচারক সহকারী জজ এম ইলিয়াস আলী মামলাটি আমলে নিয়ে কেন এ নিয়োগ বাতিল করা হবে না মর্মে ৭ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর জন্য আসামিদের নোটিশ দেন। এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত আসামিরা কোনো কারণ দর্শাননি।
এ ব্যাপারে সদর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হামিদুল হক বলেন, আমরা পরীক্ষা নিয়েছি। পরীক্ষায় যারা পাস করেছেন তাদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে। কার কাগজপত্র জাল-ভুয়া সেটা আমরা জানি না। অভিযোগের প্রমাণ পেলে নিয়োগ বাতিল করা হবে।
শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান মোবাইল ফোনে বলেন, ফোনে কোনো কথা বলা যাবে না। অফিসে আসেন।
জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল হোসাইন খান বলেন, প্রত্যেকটি বিদ্যালয়ে নিয়োগ কমিটি রয়েছে। এরই সঙ্গে এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যানের মনোনীত ব্যক্তিসহ নিয়োগ বোর্ড নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। এ বিষয়ে মামলা হয়েছে। মামলার রায় না হওয়া পর্যন্ত আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত