রাজশাহী ব্যুরো    |    
প্রকাশ : ২১ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
পেট্রলবোমা হামলার আসামিকে স্কুলে চাকরি!
রাজশাহীতে নাশকতা মামলার আসামি ছাত্রদলের সাবেক এক নেতাকে স্কুলে চাকরি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। মোটা অঙ্কের উৎকোচের বিনিময়ে তানোর পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর পদে তাকে চাকরি দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। সাবেক এই ছাত্রদল নেতার নাম ফয়সাল সরকার অমি। তিনি যাত্রীবাহী বাসে পেট্রোলবোমা হামলা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি।
জানা যায়, চলতি বছরের ২৬ মার্চ তানোর পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর শূন্যপদে রাজশাহীর স্থানীয় একটি দৈনিকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ১৩ জন প্রার্থী আবেদন করেন। তবে নিয়োগ পরীক্ষার আগেই স্কুল পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি তারেক সরকারের ভাতিজা ফয়সাল সরকার অমির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেয়া হয়। এরপর অমিকে নিয়োগ দেয়ার জন্য দু’বার নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এলাকাবাসীর বাধার মুখে তা পণ্ড হয়ে যায়। এরপর ১৮ অক্টোবর হারুন-অর-রশিদ নামে এক চাকরিপ্রত্যাশী নিয়োগ বন্ধ চেয়ে রাজশাহী সহকারী জজ আদালতে আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত নিয়োগ বন্ধের নির্দেশ দেন। কিন্তু এই নির্দেশ অমান্য করে স্কুল কর্তৃপক্ষ ১৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার এ পদে নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন করে। প্রধান শিক্ষক আইয়ুব আলী এবং পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি তারেক সরকার ‘কথিত নির্বাচনী পরীক্ষা’ নিয়ে তাদের পছন্দের প্রার্থী অমিকে নিয়োগ দেন।
এদিকে নিয়োগপ্রাপ্ত ফয়সাল সরকার অমি সম্পর্কে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। উপজেলার আমশো গ্রামের আরফান সরকারের ছেলে অমি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল তানোর আবদুল করিম ডিগ্রি কলেজ শাখার সাবেক সভাপতি। ২০১৫ সালের ২৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় বিএনপি-জামায়াতের ক্যাডাররা সরকারবিরোধী লাগাতার হরতাল চলাকালে তানোর উপজেলা সদর থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ব্র্যাক অফিসের সামনে ‘ইয়া-রব্বি’ নামে একটি যাত্রীবাহী বাসে পেট্রোলবোমা হামলা চালায়। এতে নারী ও শিশুসহ অন্তত নয়জন মারাত্মকভাবে দগ্ধ হন। এ ঘটনায় তানোর থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) হাসমত আলী বাদী হয়ে ছাত্রদল নেতা অমিসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। অমি এ মামলার দুই নম্বর আসামি। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পরদিন বিশেষ অভিযান চালিয়ে অমি সরকারকে গ্রেফতার করা হয়। মামলার বাদী হাসমত আলী বদলি হলে তদন্তভার পান এসআই মোস্তফা। চলতি বছরের জানুয়ারিতে রাজশাহী জজ আদালতে এ মামলায় তিনি যে চার্জশিট দাখিল করেন তাতে অমির নাম রয়েছে। অমি বর্তমানে জামিনে আছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে নিয়োগে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক আইয়ুব আলী। তিনি বলেন, ‘নিয়োগ বোর্ডের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অমিকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে কোনো অনিয়মের আশ্রয় নেয়া হয়নি। এছাড়া অমি মামলায় জড়িত থাকার বিষয়টি নিয়োগ কর্তৃপক্ষ অবহিত নয়।’
নিয়োগ কমিটির অন্যতম সদস্য ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আমিরুল ইসলাম বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি না হলেও স্কুল পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি তারেক সরকার জানান, নিয়োগ কমিটির সুপারিশক্রমেই অমিকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্ত অমি তার ভাতিজা কিনা- এ ধরনের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অমি আমার ভাইয়ের ছেলে। তার কাছ থেকে উৎকোচ নেয়ার যে অভিযোগ আনা হচ্ছে, তা সঠিক নয়। যথাযথ নিয়ম মেনেই তাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।’ এ ব্যাপারে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘আমি তানোরের বাইরে আছি। যাত্রীবাহী বাসে পেট্রোলবোমা হামলার ঘটনার সময় আমি তানোরের ওসির দায়িত্বে ছিলাম না। অমি ওই মামলার আসামি কিনা- সে বিষয়ে খোঁজ নিতে হবে।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত