রাজশাহী ব্যুরো    |    
প্রকাশ : ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
ভারতীয় গরুতে চাঁদাবাজি ক্ষতিতে ব্যবসায়ীরা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তপথ। এ পথ দিয়ে ভারত থেকে আসা গরুতে চলছে চাঁদাবাজি। শুধু চাঁদাবাজির লক্ষ্যে গরু-মহিষের রুট নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। ফলে ব্যবসায়ীরা ব্যাপক হয়রানির মুখে পড়ছেন। ঘাটে ঘাটে আদায় করা হচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। অভিযোগে জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের একজন এমপির নেতৃত্বে সীমান্ত খাটাল, পথঘাট ও হাট দখলে নিয়ে গরু থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা আদায় করছে একাধিক সিন্ডিকেট। গরু ব্যবসায়ীরা হয়রানির পাশাপাশি বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়লেও তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত বিজিবি, কাস্টমস ও জেলা প্রশাসন রহস্যজনক নীরবতা পালন করছে।

অভিযোগে জানা গেছে, সম্প্রতি চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার জোহরপুর ট্যাক নামক সীমান্ত পয়েন্টে বিট খাটাল চালু হয়েছে। এ খাটালে প্রতি রাতে দুই হাজার করে গরু-মহিষ আসে ভারত থেকে। গরু ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, জোহরপুর ট্যাক খাটালের চার কিলোমিটার দূরত্বে চরবাগডাঙ্গা ইউপি ভবনে কাস্টমসের একটি শুল্ক স্টেশন রয়েছে। গরু ব্যবসায়ীরা সহজপথ বিবেচনায় চরবাগডাঙ্গা কাস্টমসে রাজস্ব দিয়ে ছাড়পত্র নিয়ে বাখের আলী পথে গরু-মহিষ নিয়ে যেতে চাইলেও এলাকার বিএনপি নেতা শরীয়তুল্লাহ লাহুর নেতৃত্বাধীন সিন্ডিকেট বাধা দিচ্ছে। এ সিন্ডিকেটের হোতা আজিম ও রবু মেম্বারের নেতৃত্বে চাঁদাবাজদের একটি দল জোহরপুর খাটাল থেকে ১০ কিলোমিটার ঘুরপথে ধুলাউড়ি ঘাট অথবা ১৫ কিলোমিটার ঘুরে পাঁকা ঘাট দিয়ে গরু নিয়ে যেতে বাধ্য করছে। গরু-মহিষের নৌকাগুলো পদ্মার চার নম্বর বাঁধে নামিয়ে বাধ্যতামূলকভাবে রামচন্দ্রপুর হাটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এতে সীমান্ত পয়েন্ট থেকে রামচন্দ্রপুর হাটে গরু-মহিষ নিতে ৬-৭ ঘণ্টা সময় লাগছে। গরু ব্যবসায়ী এহসান আলী বলেন, একটি গরুতে সরকারি রাজস্ব ৫০০ টাকা। কিন্তু আজিম-রবু মেম্বারের সিন্ডিকেট গরু ব্যবসায়ীদের নিজেদের রাজস্ব ছাড়পত্র সংগ্রহ করতে দিচ্ছে না। তারা গরু প্রতি ৫০০ টাকার বদলে ৬০০ টাকা করে নিচ্ছে এবং ৩৫ কিলোমিটার দূরের কানসাট শুল্ক স্টেশন থেকে কাগজ এনে দিচ্ছে। এই সিন্ডিকেট প্রতিদিন দুই হাজার গরুতে দুই টাকা করে হাতিয়ে নিচ্ছে।

অন্যদিকে প্রতি গরুতে খাটাল ফি ২০ থেকে ৫০ টাকা হলেও ‘লাহু সিন্ডিকেট’ আদায় করছে ২৫০ টাকা। ফলে প্রতিদিন দুই হাজার গরুতে অতিরিক্ত চার লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তারা। একই ভাবে প্রতি জোড়া গরুর সরকারি ভাড়ার হার ১২০ টাকা হলেও শুধু নৌকা ভাড়া জোড়াতে আদায় হচ্ছে ৬০০ টাকা। এদিকে ঘাট ইজারাদাররা আলাদাভাবে প্রতি নৌকায় (আটটি গরু থাকে) অতিরিক্ত ৫০০ টাকা করে নিচ্ছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, রামচন্দ্রপুর হাটে বেআইনিভাবে বিট স্থাপন করে সেখানে ক্রেতা-বিক্রেতার কাছ থেকে ২২০ টাকা এবং প্রতি ট্রাকে ৮০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। একজোড়া গরু-মহিষ আনতে সীমান্তের ওপারে ভারতীয় সিন্ডিকেটকে ৪০ হাজার টাকা করে দিয়ে সীমান্ত পার করতে হচ্ছে। ফলে ভারতে একজোড়া গরু-মহিষ যে দামে কেনা হয়, শুধু সীমান্ত পার করতেই বখরা লাগছে কেনা মূল্যের সমান টাকা। এতে তারা বিপুল আর্থিক ক্ষতিতে পড়ছেন।

শুল্ক ছাড়পত্রের জন্য ৫০০ টাকার বদলে ৬০০ টাকা আদায় প্রসঙ্গে কানসাট শুল্ক স্টেশনের পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন যুগান্তরকে বলেন, গরু চলাচলে বহু চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট সক্রিয় আছে। ব্যবসায়ীরা নিজেরা কাগজ নিতে আসে না বা আসতে দেয়া হয় না। দু-তিনজন লোক এসে দুই হাজার গরু-মহিষের রাজস্ব একসঙ্গে পরিশোধ করে কাগজ নিয়ে যায়। কিন্তু কাস্টমস গরুতে ৫০০ টাকা করে নিয়ে থাকে। অতিরিক্ত ১০০ টাকা তাদের নামে কারা নিচ্ছে সেটা তারা জানেন না।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত