যুগান্তর রিপোর্ট    |    
প্রকাশ : ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
বামদলগুলোর সমাবেশে বক্তারা
চরম হুমকিতে আর্থিক খাত
বছরে পাচার হচ্ছে ৭০ হাজার কোটি টাকা * নেতাদের খুশি করতে ব্যাংক উপঢৌকন দিচ্ছে সরকার
আর্থিক খাতকে চরম হুমকিতে ফেলেছে সরকার। ব্যাংক লুট, শেয়ারবাজারে লুটপাট ও ডাকাতি এবং আর্থিক খাতে অরাজকতার মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করা হচ্ছে। অথচ সরকার লুটপাটকারীদের প্রশ্রয় দিচ্ছে। লুটপাটকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে অর্থমন্ত্রী তাদের নিয়ে অনুষ্ঠান করছেন। সরকার যাদের মন্ত্রী বানাতে পারেনি তাদের খুশি করতে একটি করে ব্যাংক উপঢৌকন দিচ্ছে। বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে বাম নেতারা এসব অভিযোগ করেন। ব্যাংক ও আর্থিক খাতে অরাজকতা ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে বুধবার সারা দেশে বাংলাদেশ ব্যাংকের শাখা ও ঢাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সদর দফতর অভিমুখী বিক্ষোভ কর্মসূচি ও সমাবেশের আয়োজন করে বামদলগুলো। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) আয়োজিত সমাবেশে বাম মোর্চার প্রধান সমন্বয়ক সাইফুল হক সভাপতিত্ব করেন।
সাইফুল হক বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাসউদ্দিন হিসাব করে দেখিয়েছেন, প্রতি বছর দেশ থেকে ৭০ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে। ব্যাংক লুট, শেয়ারবাজারে লুটপাট ও ডাকাতি এবং আর্থিক খাতে অরাজকতার মধ্য দিয়ে এই টাকা পাচার করা হচ্ছে। অথচ সরকার লুটপাটকারীদের প্রশ্রয় দিচ্ছে। অর্থমন্ত্রী লুটপাটকারীদের সঙ্গে উচ্চাঙ্গসঙ্গীত উদ্বোধন করেছেন। সাইফুল হক আরও বলেন, মহিউদ্দীন খান আলমগীরের পরিবার, ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম, অধ্যাপক মুনতাসির মামুন, পরিকল্পনামন্ত্রীর মেয়ে নাফিজা কামালরা ফারমার্স ব্যাংক লুট করেছেন। অথচ এখন বলা হচ্ছে, জনগণের করের টাকায় নাকি এই ব্যাংক চালু রাখতে হবে। এর আগে সোনালী ব্যাংক লুট করা হয়েছে। বেসিক ব্যাংক লুট করা হয়েছে।
দুই দফায় শেয়ারবাজার লুট করা হয়েছে জানিয়ে সাইফুল হক বলেন, ইসলামী ব্যাংক ও সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের মতো একাধিক ব্যাংককে চট্টগ্রামের একটি পরিবারের হাতে তুলে দিয়ে জনগণের আমানতকে হুমকিতে ফেলা হয়েছে। লুটপাটের আরও সুবিধার জন্য ব্যাংকিং আইনে পরিবর্তন আনা হয়েছে। যাদের মন্ত্রী বানাতে পারেনি তাদের খুশি করতে একটি করে ব্যাংক উপঢৌকন দিচ্ছে সরকার। তিনি বলেন, এর মধ্য দিয়ে সরকার দেশের সমগ্র আর্থিক খাতকে বিপদের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে এর প্রমাণ মেলে। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ‘বর্তমানে ব্যাংকিং খাত আর ব্যাংকিং নিয়মে চলছে না, চলছে রাজনৈতিক নিয়মে।’
বাম নেতা রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, দেশ আজ লুটপাটকারীদের হাতে। তারা একের পর এক ব্যাংক লুট করছে। যারা লুটকারী তারা সরকারের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থেকে লুটপাট করছে। তাদের সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে হবে। তাদের গ্রেফতার করতে হবে। তারা যে কোনো সময় দেশ থেকে পালিয়ে যেতে পারে। লুটকারীরা যাতে দেশ থেকে পালাতে না পারে সেজন্য সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। সমাবেশে কাফি রতন, খালেকুজ্জামান, রুহিন হোসেন প্রিন্স প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ শেষে মিছিল নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক অভিমুখে রওনা হোন বামদলগুলোর নেতাকর্মীরা।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত