চট্টগ্রাম ব্যুরো    |    
প্রকাশ : ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
চার নারী ধর্ষণ : আরেক আসামির স্বীকারোক্তি
মূল পরিকল্পনাকারী মেম্বার প্রার্থী হান্নান
চট্টগ্রামে প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি ও চার নারীকে ধর্ষণের ঘটনায় আবু সামা নামে আরও একজনকে গ্রেফতারের পর সে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এ ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে আবদুল হান্নান নামে একজনের নাম প্রকাশ করেছে আবু সামা। হান্নান বড় উঠান এলাকার বাসিন্দা ও ইউপি নির্বাচনে মেম্বার প্রার্থী ছিলেন বলে জানায় সে। নগরীর কোতোয়ালি থানার জলসা মার্কেট থেকে মঙ্গলবার রাতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) আবু সামাকে গ্রেফতার করে। বুধবার বিকালে তাকে আদালতে হাজির করা হলে সে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আবু সালেম মো. নোমান সন্ধ্যায় তার ৬ পৃষ্ঠার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। আবু সামা পটিয়া উপজেলার আনু মিয়ার ছেলে। সে নগরীর জলসা মার্কেটে পুরাতন মোবাইল ফোন কেনাবেচা করে।
জবানবন্দিতে আবু সামা জানায়, প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির সময় সে বাইরে পাহারায় ছিল। নিজে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত না।
নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি-প্রসিকিউশন) নির্মলেন্দু বিকাশ চক্রবর্তী যুগান্তরকে বলেন, ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনায় আবু সামা নিজেসহ ছয়জন জড়িত বলে তথ্য দিয়েছে। এর মধ্যে আবু সামা ও আরেকজন স্থানীয়, চারজন বহিরাগত। ওই চারজনের মধ্যে দু’জনের নাম সে বলেছে।
আবু সামা তার জবানবন্দিতে বলেছে, কর্ণফুলী থানার বড় উঠান এলাকার মেম্বার প্রার্থী আবদুল হান্নানকে ৪ থেকে ৫ বছর ধরে আমি চিনি। বিভিন্ন প্রজেক্টে মাছ চুরি করতে গিয়ে তার সঙ্গে পরিচয়। ডাকাতির ঘটনার ৭ থেকে ৮ দিন আগে হান্নান মেম্বার আমাকে বলে এসব ছোটখাটো মাছ চুরি করে তেমন লাভ নেই। এবার বড় কাজ করব। হান্নান মেম্বার আমাকে বলে বড় উঠান এলাকায় পুরুষশূন্য একটা দুবাইওয়ালার বাড়ি আছে। ওই বাড়ি ডাকাতি করতে পারলে অনেক টাকা ও স্বর্ণালংকার পাওয়া যাবে। টাকার লোভে আমি তার প্রস্তাবে রাজি হলে তিনি আমাকে ডাকাতির জন্য লোক জোগাড় করতে বলেন। আমি বলি, আমার একজন পরিচিত লোক আছে তাকে সঙ্গে নিয়ে আসব। এরপর হান্নান মেম্বার আমাকে ওই বাড়ি দেখিয়ে দেন। এর ৬-৭ দিন পর আমার পূর্বপরিচিত ইলিয়াছের সঙ্গে যোগাযোগ করি। ইলিয়াছ বাড়ি দেখে ডাকাতির দিনক্ষণ ঠিক করে। এরপর ইলিয়াছ তার সঙ্গে দাঁড়িওয়ালা এক লোককে নিয়ে ঘটনার দিন সকালে নগরীর নিউমার্কেট এলাকায় এলে আমরা বৈঠক করি। সেখান থেকে দুবাইওয়ালার ওই বাড়ি ডাকাতির সব প্রস্তুতি নেয়া হয়। রাতে মইজ্জ্যারটেক যাওয়ার পর হান্নান মেম্বারকে ফোন দেই। সে দুবাইওয়ালার বাড়ির পাশে থাকবে বলে জানায়। ওখানে গিয়ে দেখি আগে থেকেই ইলিয়াছ, মিজানসহ আরও দু’জন আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। তবে হান্নান মেম্বার তখনও আসেনি। রাত ১টার দিকে দুবাইওয়ালার বাড়ি ডাকাতির উদ্দেশ্যে ইলিয়াছ, মিজানসহ অপর দু’জন যায়। আমি একা বাইরে অপেক্ষা করে পাহারা দিয়েছি। ভোর সাড়ে ৩টার দিকে ইলিয়াছসহ অন্যরা ডাকাতি শেষ করে বের হয়। ইলিয়াছ জানায়, ওই বাড়িতে ৭৫ হাজার নগদ টাকা ও কিছু স্বর্ণালংকার পেয়েছে। স্বর্ণগুলো ৩৫ হাজার টাকা দাম ধরে অন্য মালামাল ভাগ করা হয়। এতে আমার ভাগে ২১ হাজার টাকা পাই। এরপর আমরা সিএনজি অটোরিকশায় ঘাটে যাই। পরে নৌকায় করে ১৫ নম্বর ঘাট পার হয়ে চট্টগ্রাম শহরে আসি। এরপর আমরা যে যার মতো চলে যাই। পরদিন হান্নান মেম্বারের সঙ্গে ফোনে কথা হয় এবং পরে মিয়ারহাটে সরাসরি দেখা হয়। তখন আমি তাকে ভাগের ২১ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা দিই। সে আরও টাকা চাইলে বলি আমার মা অসুস্থ তার জন্য টাকা লাগবে।
ওসিকে শোকজ : চট্টগ্রামে প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি ও চার নারীকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা নিতে বিলম্ব এবং এজাহারে ত্রুটি থাকায় নগরীর কর্ণফুলী থানার ওসিকে শোকজ করেছেন আদালত।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত