প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
পাঁচমিশালি
স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন: ফুটবলের কিংবদন্তি শিক্ষক
একজন স্কটিশ ফুটবলার, কোচ ও ম্যানেজার স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন। বিশ্বফুটবলের গণ্ডিতে তাকে বলা হয় সেরা শিক্ষক। স্ট্রাইকার হিসেবে যেমন ছিল তার সুনাম, তেমনি কোচ হিসেবে। এমনকি ম্যানেজার হিসেবেও তিনি ছিলেন সমান সফল। এই কিংবদন্তির জীবনকথা লিখেছেন সেলিম কামাল

জন্ম ও পরিবার

অ্যালেক্স ফার্গুসন ১৯৪১ সালের ৩১ ডিসেম্বর স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পুরো নাম আলেক্সান্ডার চ্যাপম্যান ফার্গুসন। তার বাবা আলেক্সান্ডার বিটন ফার্গুসন ছিলেন একটি জাহাজ নির্মাণ ইন্ডাস্ট্রির হেলপার। মা এলিজাবেথ হার্ডি। অ্যালেক্স জন্মেছিলেন তার নানির বাড়িতে। আর বড় হয়েছেন গোভান রোডের একটি ভাড়া করা বাড়িতে। এখানেই ছোট ভাই মার্টিন ও মা-বাবাকে নিয়ে ছেলেবেলা কাটিয়েছেন অ্যালেক্স। পড়ালেখা করেছেন ব্রুমলোন রোড প্রাইমারি ও পরে গোভান হাইস্কুলে।

ফুটবল খেলা যেভাবে শুরু

১৬ বছর বয়সে ফার্গুসন কুইনস পার্কে ফুটবল খেলতে শুরু করেন শখে। ছিলেন স্ট্রাইকার। কুইনস পার্কে ৩১ ম্যাচে তার গোলসংখ্যা ছিল ২০। রেঞ্জার্সের বিপক্ষে ওই সময়ে একটি হ্যাট্রিকও ছিল তার।

যখন হলেন পেশাদার

১৯৬৪ সালে তিনি পেশাদার ফুটবলার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন। এ সময়ে তিনি স্থানীয় ডানফার্মলিনের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন। ১৯৬৪-৬৫ মৌসুমে তার দল ফাইনালে পৌঁছলেও তিনি ওই ম্যাচ খেলতে পারেননি। এরপর ১৯৬৫-৬৬ মৌসুমের ৫১ ম্যাচে করেছিলেন ৪৫ গোল। আর ওই সিজনে স্কটিশ লিগে হয়েছিলেন সর্বোচ্চ গোলদাতা । গোল সংখ্যা ৩১।

কোচিং ক্যারিয়ারের শুরু

১৯৭৪ সালে মাত্র ৩২ বছর বয়সেই ফার্গুসন পেয়ে যান স্টার্লিংশায়ারের কোচিংয়ের দায়িত্ব। পার্ট টাইম জব হিসেবে কাজটি করার জন্য তিনি সাপ্তাহিক বেতন পেতেন ৪০ ইউরো। সে বছরই একই লিগের অন্য আরেকটি ক্লাব সেন্ট মার্টিন তাকে প্রস্তাব দেয় তাদের ক্লাবের কোচ হওয়ার জন্য। ১৯৭৪ সালে দ্বিতীয় বিভাগে খেলা এই ক্লাব ফার্গুসনের কারিশমায় ১৯৭৭ সালে প্রথম বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়। এরপর তিনি দায়িত্ব পান স্কটিশ জায়ান্ট আবার্ডিনের। প্রথম সিজনে লিগে চতুর্থ হয়ে শেষ করে আবার্ডিন এবং স্কটিশ কাপের সেমিতেই থেমে যায় তাদের যাত্রা। এর পরের সিজন ১৯৭৯-৮০তে তুলনামূলক ভালো খেলে স্কটিশ লিগ কাপের ফাইনাল পর্যন্ত গেলেও, শেষ পর্যন্ত ট্রুফিলেস হিসেবে এই মৌসুমটাও পার করতে হয় আবার্ডিনের। তার পরের সিজন থেকেই সবাই দেখল এক ভিন্ন আবার্ডিনকে। যেখানে গত ১৫ বছর যাবৎ সেল্টিক এবং রেঞ্জার্স ছাড়া কেউ ট্রুফি জিততে পারছিল না, সেখানে ১৯৫৫-এর পর প্রথম স্কটিশ লিগ জিতে নিল ফার্গুসনের আবার্ডিন।

ইংলিশ লিগে প্রবেশ

১৯৮৬ সালেই ফার্গুসনের কোচিং ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তটা আসে। রন অ্যাটকিনসন সবেমাত্র ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের দায়িত্ব ছেড়েছেন তখন।

লিগে দল ২১ নম্বর পজিশনে ধুঁকছে। অনেক ইউনাইটেড ফ্যান রেলিগেশনে যাওয়ার প্রস্তুতি এরই মধ্যেই নিয়ে ফেলেছেন। তখনই ইউনাইটেড ম্যানেজমেন্ট থেকে ঘোষণা করা হল নতুন কোচ নিয়োগের কথা। ফার্গুসন যখন দায়িত্ব নেন তখন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ভালোই টালমাটাল অবস্থায় ছিল। দল লিগের পজিশনে ছিল ২১ নম্বরে, কিন্তু সিজন শেষ করে ১১ নম্বরে থেকে।

স্যার হলেন যখন

১৯৯২-৯৩ সিজনে ফার্গুসন ফ্রেঞ্চ ফরোয়ার্ড এরিক ক্যান্টোনাকে কিনে আনেন। এই বছরেই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ২৬ বছর পর প্রথম প্রিমিয়ার লিগ টাইটেল জেতে। এরপর একপর্যায়ে ১৯৯৬-৯৭ সিজনে লিগ জিতে পাঁচ বছরের মাঝে চারবার লিগ জেতার কীর্তি গড়েন তিনি। ১৯৯৮-৯৯ সিজনে তিনি তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সেরা সাফল্যটা পান। এই সিজনে প্রিমিয়ার লিগ, এফএ কাপ আর চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড পায় ট্রেবল। এরপরই ইংল্যান্ডের রানী এলিজাবেথ দ্বিতীয়ের কাছ থেকে নাইটহুড উপাধি পান অ্যালেক্স ফার্গুসন। ফলে তার নামের আগে যুক্ত হয় সম্মানসূচক ‘স্যার’ উপাধি। এরপর থেকেই স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন নামেই ডাকা হয় তাকে।

কিভাবে সেরা

সর্বকালের সেরা বিবেচনায় প্রথম যে বিষয়টা জরুরি, তা হচ্ছে সেই খেলোয়াড় অথবা কোচকে তার খেলা থেকে অবসর নিতে হবে। ক্যারিয়ারের মাঝপথে কখনই বিবেচনা করা উচিত নয় তিনি সর্বসেরা কিনা। সর্বকালের সেরা কোচ নিয়ে এখন পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য একটা নির্বাচনই হয়েছে, সেটা ২০১৩ সালে, ওয়ার্ল্ড সকার পত্রিকার অধীনে। সেই নির্বাচনে ভোট দিয়েছিলেন ৭৩ জন এক্সপার্ট। প্রত্যেকে পাঁচজন করে গ্রেট হিসেবে বাছাই করার সুযোগ পেয়েছিলেন। সেই নির্বাচনে ৪৯ জনের ভোট পেয়ে আলেক্স ফার্গুসন প্রথম হয়েছিলেন। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যানেজারদের জন্য সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ অ্যাওয়ার্ড ধরা হয় ‘দ্য লিগ ম্যানেজার্স অ্যাসোসিয়েশন অ্যাওয়ার্ড’ । এই পুরস্কারে ভোট দিতে পারেন সহকর্মী পেশাদার পরিচালকরা। পুরস্কারটি সর্বোচ্চ চারবার জিতেছেন স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন। এছাড়া তিনি ‘প্রিমিয়ার লিগ ম্যানেজার অব দ্য সিজন’ পুরস্কার জিতেছেন সর্বোচ্চ ১১ বার। একমাত্র কোচ হিসেবেও টানা তিনবার এই পুরস্কার জিতেছেন তিনি। এছাড়া ‘প্রিমিয়ার লিগ ম্যানেজার অব দ্য মান্থ’ পুরস্কার জিতেছেন তিনি সর্বোচ্চ ২৭ বার, যেখানে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আর্সেন ওয়েঙ্গার জিতেছেন ১৫ বার।

ব্যক্তিজীবন

১৯৬৬ সালে ফার্গুসন বিয়ে করেন ক্যাথি হোল্ডিংকে। তিন ছেলে মার্ক, ডারেন, জেসন। প্রথম দুই ছেলে ক্যারিয়ার গড়েছেন ফুটবলেই। জেসন একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি চালান। তারা থাকেন চেশায়ারের উইল্মস্লোতে।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত