প্রকাশ : ৩০ জুলাই, ২০১৬ ০২:১৯:৫৩ প্রিন্ট
১৩ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি
বিপদসীমার ওপরে ১২ নদীর পানি
বেড়েছে নদীভাঙন* জামালপুরে তিন শিশুর মৃত্যু নিখোঁজ এক * শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ * অনেক এলাকায় পৌঁছেনি ত্রাণ
জামালপুরের ইসলামপুরে আশ্রয়ের খোঁজে নারী-শিশুসহ অন্যান্যরা। ছবি: যুগান্তর

টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে দেশের ১২টি নদ-নদীর পানি ১৯টি পয়েন্টে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে উত্তরাঞ্চলসহ দেশের কয়েকটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে। প্রায় প্রতি ঘণ্টায় পানি বাড়ছে। ফলে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। বেড়েছে নদী ভাঙন। নতুন করে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন ১৩ লাখ মানুষ।

যার মধ্যে কুড়িগ্রামে সাড়ে ছয়, জামালপুরে আড়াই ও সিরাজগঞ্জে লক্ষাধিক মানুষ রয়েছে। বসতভিটা হারিয়ে খোলা মাঠে আর রাস্তার ধারে আশ্রয় নেয়া মানুষের দুর্ভোগের অন্ত নেই। অনেক জায়গায় খোলা হয়েছে আশ্রয় কেন্দ্র। ত্রাণের অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বন্যাদুর্গতরা। দেখা দিয়েছে পানিবাহিত রোগ।

সরকারিভাবে ত্রাণের ব্যবস্থা করা হলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। কোনো কোনো এলাকায় ত্রাণ পৌঁছেনি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনেক এলাকায় ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে গো-খাদ্যের। বাড়ি-ভিটা হারিয়ে মাঠের ফসল ডুবে আর পুকুরে ভেসে যাওয়ার পর শেষ সম্বল গবাদি পশু নিয়ে এখন কৃষকরা রয়েছেন দুর্ভাবনায়। বন্যার পানি নামতে আরও দু’দিন সময় লাগবে। অব্যাহত ভাঙনের ফলে বিলীন হচ্ছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, রাস্তা, ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা। বন্ধ রয়েছে শত শত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। জামালপুরে তিন শিশু বন্যার পানিতে ডুবে মারা গেছে। নিখোঁজ রয়েছে আরও এক শিশু।

ঢাকার আশপাশের এলাকার নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ধলেশ্বরী নদীর এরাসিন পয়েন্টে বিপদ সীমার ১২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের (এফএফডব্লিউসি) তথ্যমতে, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদ-নদী সংলগ্ন গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ জেলার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। এছাড়া ৪৮ ঘণ্টায় গঙ্গা-পদ্মা নদী সংলগ্ন রাজবাড়ি, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও শরীয়তপুরের নিুাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত থাকবে। তবে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। বর্তমানে ১৯টি পয়েন্টে নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রভাবিত হচ্ছে। ধরলা নদীর কুড়িগ্রাম পয়েন্টে বিপদসীমার ৮৮ সেন্টিমিটার, ঘাঘট নদীর গাইবান্ধা পয়েন্টে ৯০ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্র নদের নুনখাওয়া ও চিলমারি পয়েন্টে যথাক্রমে ১ ও ৯৭ সেন্টিমিটার, যমুনা নদীর বাহাদুরাবাদ, সারিয়াকান্দি, কাজিপুর, সিরাজগঞ্জ ও আরিচা পয়েন্টে, গুর নদীর সিংড়া পয়েন্টে, আত্রাই নদীর বাঘাবাড়ি পয়েন্টে, ধলেশ্বরী নদীর এরাসিন পয়েন্টে, কালিগঙ্গা নদীর তারাঘাট পয়েন্টে, পদ্মা নদীর গোয়ালন্দ, ভাগ্যকুল, সুরেশ্বর পয়েন্টে, সুরমা নদীর সুনামগঞ্জ পয়েন্টে, কংস নদীর জারিয়াজঞ্জাইল পয়েন্টে এবং তিতাস নদীর ব্রাহ্মণবাড়িয়া পয়েন্টে পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ড. একেএম সাইফুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ভারতে বৃষ্টির সম্ভাবনা না থাকায় আগামী দু’দিন পর থেকে বন্যার পানি কমতে পারে। এখন সবচে বেশি প্রয়োজন বন্যা পরবর্তী ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসন। খাবার, বিশুদ্ধ পানি বিতরণে সরকারি সব সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে। যুগান্তরের ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

জামালপুর, ইসলামপুর, দেওয়ানগঞ্জ, বকশীগঞ্জ ও মাদারগঞ্জ : যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জামালপুরের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। যমুনার পানি ৯ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে বিপদসীমার ১২১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে করে পাঁচ উপজেলার ৪০টি ইউনিয়নের দু’শতাধিক গ্রামের আড়াই লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, বন্ধ হয়ে গেছে ৩৯৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বন্যার পাানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও এক শিশু এখনও নিখোঁজ রয়েছে।

বন্যার পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় জেলার ইসলামপুর, দেওয়ানগঞ্জ, মাদারগঞ্জ, মেলান্দহ ও সরিষাবাড়ী উপজেলার দুই শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বন্যার পানি নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় ইতিমধ্যেই আড়াই লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। মেলান্দহ-মাহমুদপুর সড়কসহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে স্থানীয় সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। বসতঘরে বন্যার পানি ঢুকে যাওয়ায় বিভিন্ন বাঁধ এবং উঁচুস্থানে আশ্রয় নিয়েছে বন্যাদুর্গতরা। সেই সঙ্গে দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় জেলার ৩৯৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও ৪ হাজার ৯০ হেক্টর জমির ফসল বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যাদুর্গত এলাকায় এখন পর্যন্ত ২২৭ টন চাল, ১৭শ’ প্যাকেট শুকনো খাবার, ২ লাখ ২০ হাজার নগদ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ইসলামপুর ও দেওয়ানগঞ্জের ৮টি ফ্লাট সেন্টারে ৫শ’ পরিবারকে আশ্রয় দেয়া হয়েছে। তবে প্রতিদিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ করা হলেও বন্যার পানিতে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় সেই ত্রাণ প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে জানিয়েছে দুর্গত এলাকার মানুষ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইসলামপুর উপজেলার গামারিয়ার বাসিন্দা ছাবেদ আলীর ছেলে সোলায়মান, চরপুটিমারীর আইরমরীর মনোহারের ছেলে ইয়াছিন এবং একই বাড়ির মুনছের আলীর ছেলে রাকিব বন্যার পানিতে পড়ে মারা গেছে। এছাড়াও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় আশিক নামে আরও এক শিশু বন্যার পানিতে ডুবে নিখোঁজ রয়েছে।

কুড়িগ্রাম, রৌমারী, চিলমারী, উলিপুর, ফুলবাড়ী ও নাগেশ্বরী : জেলায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি নেই। ১২তম দিনে বানভাসির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাড়ে ৬ লাখে। পানিবন্দি মানুষের ভোগান্তি পৌঁছেছে চরমে। জেলার ৭৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫৭টি ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ বন্যার্ত। খাদ্য ও পানির তীব্র সংকটের পাশাপাশি এসব মানুষ পড়েছে চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে। শুক্রবার চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ছিল বিপদসীমার ৯৭ সেন্টিমিটার ওপরে এবং কুড়িগ্রাম সেতু পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি ছিল বিপদসীমার ৮৮ সেন্টিমিটার ওপর।

রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহরূপ ধারণ করেছে। ভারত থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে শুক্রবার সীমান্ত এলাকায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। চরনতুন বন্দরে অবস্থিত রৌমারী স্থলবন্দর, গবাদিপশুর করিডর ও রাজিবপুরের বালিয়ামারী বর্ডার হাট ডুবে গেছে। ওই সীমান্তে পাঁচটি বিজিবি ক্যাম্পের চারপাশে পানি উঠেছে। ফলে বিজিবি জোয়ানরা এখন পানিবন্দি।

রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন তালুকদার জানান, কয়েকটি গণমাধ্যমে রৌমারীকে দুর্যোগপূর্ণ এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে মর্মে যে রিপোর্ট প্রকাশ করা হচ্ছে তা পুরোপুরি মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর। প্রকৃতপক্ষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এরকম কোনো ঘোষণা দেয়া হয়নি। বন্যা পরিস্থতি সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
চিলমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শওকত আলী বীরবিক্রম জানান, চিলমারীতে বুরুজের পাড় নামক স্থানে শুক্রবার ভোরে কাঁচকোল বাজার সড়ক ভেঙে প্রায় ১০টি গ্রাম নতুন করে প্লাবিত হয়। পানির তোড়ে ভেসে গেছে ৮টি ঘর।

গাইবান্ধা : ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা, ফুলছড়ি ও সদর উপজেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। ওই ৪ উপজেলার ৩৩টি ইউনিয়নের আরও নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুক্রবার বেলা ১২টা পর্যন্ত ১৮ ঘণ্টায় বহ্মপুত্রের পানি ৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৯০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। ঘাঘট নদীর পানিও এসময় অপরিবর্তিত থেকে বিপদসীমার ৯০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

সিরাজগঞ্জ ও শাহজাদপুর : চৌহালী উপজেলার প্রায় ১১০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের ৭৫টি গ্রামে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। নদীতে বিলীন হয়েছে ৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এসব কারণে উপজেলার অন্তত সাড়ে ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বন্যার্তদের মাঝে এখনও পৌঁছায়নি পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা। কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ সবাইকে ভোগান্তিতে পড়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত সিরাজগঞ্জের যমুনার পানি বিপদসীমার ৮৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। চৌহালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী জানান, বন্যায় যমুনা চরের অন্তত সাড়ে ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তাদের ত্রাণ সহায়তার জন্য সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত ৬০ টন চাল ও ১ লাখ ২০ হাজার টাকার শুকনো খাবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে বৃহস্পতিবার থেকে বিতরণ শুরু হয়েছে। শাহজাদপুর উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। ১৩টি ইউনিয়নে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ।

শেরপুর : ব্রহ্মপুত্র ও দশআনী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় শেরপুর সদর উপজেলার চরাঞ্চলের কামারেরচর, চরপক্ষীমারী,বলাইরচর, বেতমারী-ঘুঘুরাকান্দি ও চরমুচারিয়া ইউনিয়নের কমপক্ষে ৩০টি গ্রামের নিুাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এসব গ্রামের অনেক স্থানে বোনা আউশ, তরিতরকারির ক্ষেত ও বীজতলা তলিয়ে গেছে। প্রতি মুহূর্তেই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি বাড়ছে। তবে শেরপুর ব্রহ্মপুত্র সেতুর কাছে পানি বিপদসীমার ১.৫৫ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ফরিদপুর : প্রতিদিনই হু হু করে বাড়ছে ফরিদপুরে পদ্মা নদীর পানি। বর্তমানে পদ্মার পানি গোয়ালন্দ পয়েন্টে ১৯ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে শুক্রবার বিপদসীমার ৭৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। অব্যাহত পানি বৃদ্ধির ফলে ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল, ডিক্রিরচর এবং আলিয়াবাদ ইউনিয়ন ১৫টি গ্রামের নিুাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। চরভদ্রাসন উপজেলার বন্যা পরিস্থিতিরও অবনতি হয়েছে। এতে পানিবন্দি পরিবারের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বৃহস্পতিবার উপজেলা রক্ষা বেড়িবাঁধের ফাজেলখাঁর ডাঙ্গী-বালিয়াডাঙ্গী গ্রামের সংযোগস্থলের কালভার্ট পয়েন্টের বেড়িবাঁধ প্রায় ৭০ ফুট এলাকায় ধস দেখা দিয়েছে। এছাড়া উপজেলা সদরে পদ্মা পাড়ে পানির তোড়ে খালাসী ডাঙ্গী গ্রামের প্রায় ১০০ মিটার এইচবিবি রাস্তার ৫ ফুট প্রশস্থতা নিয়ে ভেঙে গেছে। রাস্তাটি ভাঙতে পারলেই পদ্মার পানি উপজেলা সদরে ঢুকে যেতে পারে।

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) : ঈশ্বরগঞ্জের উচাখিলা ইউনিয়নের গ্রামে ব্রহ্মপ্রুত্র নদের তীরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধে ভাঙন ফসলি জমি, ঘরবাড়ি, বসতভিটে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় দিশেহারা মানুষ। গত এক সপ্তাহে নদী ভাঙনে প্রায় শতাধিক একর ফসলি জমি ঘরবাড়ি বিলীন গেছে।

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) : গোয়ালন্দ উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। দুর্গতদের জন্য শুক্রবার পর্যন্ত কোনো সহযোগিতা মেলেনি। পদ্মার নদীর পানি গোয়ালন্দ পয়েন্টে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫ সেমি পনি বৃদ্ধি পেয়ে শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত বিপদসীমার ৭৫ সেমি ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

পানির তীব্র চাপে দেবগ্রাম ইউনিয়নের কাটাখালীগামী প্রধান সড়কটির বিশাল অংশ তেনাপচা এলাকায় শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ভেঙে যায়। এতে ইউনিয়নের ৮ ও ৯নং ওয়ার্ডের অন্তত ৮টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে কয়েক হাজার পরিবার নতুন করে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

পীরগাছা (রংপুর) : পীরগাছায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। নতুন করে প্লাবিত হয়েছে আরও ৩টি গ্রাম। তিস্তার ভাঙনে নদীগর্ভে চলে গেছে আরও ২টি গ্রামের কমপক্ষে ৩০টি বসতবাড়ি ও ১শ’ হেক্টর ফসলী জমি। বন্যার্ত ও নদী ভাঙনের শিকার প্রায় ৩ শতাধিক পরিবার বেড়িবাঁধ, বন্যা আশ্রয়ণ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের মধ্যে বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্য সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। নারী ও শিশুসহ অনেকেই পানিবাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন। বানের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চর ছাওলা কামারের হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ কমপক্ষে ৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

মাদারীপুর : শিবচরের পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমার ৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে করে পদ্মা নদীর চরাঞ্চলের ৪টি ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। দুটি ইউনিয়নে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করলেও এসব এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় এখনও কোনো ত্রাণ পৌঁছায়নি। এদিকে বৃহস্পতিবার বিকালে নদীভাঙন আক্রান্ত সন্ন্যাসীরচর পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান আহমেদ। পানিবন্দি ও নদীভাঙনকবলিত এসব ইউনিয়নের অধিকাংশ ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় মানুষ অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

লালমনিরহাট : জেলায় তিস্তার পানি কিছুটা কমলেও অব্যাহত ভাঙনের মুখে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ নানা স্থাপনা। গোটা জেলায় প্রায় সহস্রাধিক পরিবার তাদের বসতভিটা হারিয়ে খোলামাঠ আর রাস্তার ধারে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তবে সবচেয়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার ডাউয়াবাড়ি ও সানিয়াজান ইউনিয়নে।
 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত