শরীয়তপুর প্রতিনিধি    |    
প্রকাশ : ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ২১:১০:৪১ প্রিন্ট
সেই ছাত্রলীগ নেতা আরিফের স্বীকারোক্তি
ছাত্রলীগ নেতা আরিফ
ভেদরগঞ্জ উপজেলার ৬ নারীকে ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ ও সেসব দৃশ্য গোপনে ভিডিও করে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে ছাত্রলীগের বহিস্কৃত নেতা আরিফ হোসেন হাওলাদার স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছেন। 
 
বুধবার সকালে শরীয়তপুর চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে বিচারকের নিকট ভিডিও ছড়ানোর কথা স্বীকার করেন আরিফ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভেদরগঞ্জ থানার ওসি।
 
আরিফ আদালতের বিচারক অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মুজাহিদুল ইসলাম এর নিকট সামাজিক যোগাযোগের কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়।  পরে আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করে। 
 
কোর্টের পুলিশ পরিদর্শক মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, আসামি আরিফ হোসেন হাওলাদার আদালতের বিচারকের নিকট ৬ নারীর অশ্লীল ভিডিও ছড়ানো ও গোপন ক্যামেরায় অশ্লীল ভিডিও ধারণের কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।  তাকে জেলা হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
 
ভেদরগঞ্জ থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, বুধবার সকালে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আরিফ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দী দিয়েছে। 
 
ভেদরগঞ্জ থানা ও কোর্ট  সূত্র জানায়, ভেদরগঞ্জ উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক আরিফ হোসেন হাওলাদার একই এলাকায় গোপন ক্যামেরায় ৬ নারীর অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে। ওই ভিডিও তিনি ফেইসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে ঐ সকল নারীদের ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ করে। এরপর আরিফ হাওলাদার ভুক্তভোগী নারীদের থেকে মোটা অংকের টাকাও হাতিয়ে নেয়। এটা করেই তিনি ক্ষ্যান্ত হননি। তিনি গত ১৫ অক্টোবর ৬ নারীর সঙ্গে তার অশ্লীল ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।  এ খবর এলাকায় জানাজানি হলে ক্ষতিগ্রস্থ নারীরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। এদের মধ্যে কেউ কেউ স্বামীর বাড়ি থেকে বিতাড়িত হয়েছে।  আবার কেউবা লোকলজ্জার ভয়ে গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলে গিয়ে নিজেকে লুকিয়ে রেখে বসবাস করছেন। 
 
একপর্যায়ে ঐ ক্ষতিগ্রস্থ ৬ নারীর আপত্তিকর অশ্লীল ভিডিও’র সঙ্গে নারায়ণপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজাহিদ মাঝি ও সাধারণ সম্পাদক আবুল মাদবরের ছবিও মোইলের মাধ্যমে ফেইসবুকে ছড়ানো হয়েছিল।  নারয়ণপুর ইউনিয়নের ইকরকান্দি গ্রামের আমিনুল হক মাদবরের ছেলে রাজিব মাদবরের ফেইসবুক থেকে এ সকল ভিডিও ও ছবি পোস্ট করে ছড়িয়ে দেয়।  যদিও রাজিব মাদবর বর্তমানে মালয়েশিয়া প্রবাসী। 
 
১০ নভেম্বর সন্ধ্যায় সাইফুল ইসলাম নামের এক যুবকের আইডি থেকে প্রথমে ৬ নারীর সঙ্গে আরিফের আপত্তিকর ছবি ছড়ানো হয়।  এরপর ঐ দিন রাত ৮টা ৪০ মিনিটে ও রাত ৮টা ৪২ মিনিটে রাজিব মাদবরের আইডি থেকে পর পর ২টি ভিডিও আপলোড করা হয়। 
 
এ সকল অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক মহসিন মাদবর ও যুগ্মআহবায়ক রাশেদুজ্জামান যৌথ স্বাক্ষরে এক বিজ্ঞপ্তিতে অভিযুক্ত নারয়ণপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন হাওলাদারকে গত ১১ নভেম্বর দলীয় সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিস্কার করে। 
 
এরপর নারায়ণপুর এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ এক নারী বাদী হয়ে ১১ নভেম্বর সন্ধ্যায় আরিফ হাওলাদারের বিরুদ্ধে ভেদরগঞ্জ থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করেন।  মামলা দায়ের করার দেড়মাস পরে অবশেষে গত মঙ্গলবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আরিফকে গ্রেফতার করে পুলিশ। 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত