সাদিয়া ন্যান্সী    |    
প্রকাশ : ২০ এপ্রিল, ২০১৭ ০৩:৩৪:৩৮ প্রিন্ট
ব্যবসায়িক দিক বিচারে মিডিয়া নতুনদের ব্যবহার করছে : তুহিন

শিরোনামহীন। বাংলাদেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড দলগুলোর একটি। ১৯৯৬ সালে পথচলা শুরু করে এ ব্যান্ডটি। ক্লাসিক্যাল এবং ফোঁক ধাঁচের গান করে শ্রোতাদের মাঝে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেন খুব অল্প সময়ে। তারপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি তাদের।

২০০০ সালে সফল এ ব্যান্ড দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান জিয়ার হাত ধরে পথচলা শুরু করেন ব্যন্ডের প্রধান ভোকালিস্ট তানজির তুহিন। গেয়েছেন একের পর এক শ্রোতাপ্রিয় গান। কণ্ঠ দেয়ার পাশাপাশি গান লেখা, সুর করা এবং সঙ্গীত পরিচালনায় দেখা গেছে তাকে।

এছাড়া মাঝে মধ্যে অভিনয়েও দেখা মিলে তার। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে সঙ্গীতের নানা দিক নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা এবং মতামত ভাগ করে নিয়েছেন যুগান্তরের সঙ্গে। শুনিয়েছেন সঙ্গীতের পথ শুরুর গল্প।

ব্যান্ডের সঙ্গে পথচলা শুরু কীভাবে?
তখন খুব সম্ভবত ২০০০ সালের কথা। জিয়া শিরোনামহীন দলের প্রধান। বুয়েটে পড়তাম তখন। হঠাৎ একদিন আমাকে বলল তাদের দলে যোগ দিতে। গান গাইতে। ভাবছিলাম কি সিদ্ধান্ত নেয়া যায়। তারপর তাদের সঙ্গে গান করা শুরু। এখনও শিরোনামহীনের সঙ্গেই হাঁটছি।

সঙ্গীতের এত ধারা থাকতে ব্যান্ডকে বেছে নিয়েছেন কেন?
কোন ধারায় গান করব সেটি ভেবে গান শিখিনি। ছোটবেলায় মনে হয়েছে গান করব, তাই শিখেছি। ব্যান্ডের সঙ্গে গান করতে বিশেষ কোনো কারণ খুঁজিনি কখনও।

ব্যান্ডসঙ্গীতের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আপনার মন্তব্য কী?
ব্যান্ডের সুবর্ণ সময় নেই কথাটির সঙ্গে আমি পুরোপুরি একমত। কারণ একসময় একজন শিল্পী কষ্ট করে ক্যাসেট প্রকাশ করত। শ্রোতারা তা কিনত। সুরকার, গীতিকার, শিল্পী সবাই তাদের পারিশ্রমিক পেত। পুরোদমে একটি উৎসবময় পরিবেশ ছিল। এখন সে সময় নেই। সে আনন্দটুকু এখনকার শ্রোতারা পান না। এখন সব কিছু ঘটার আগেই পাইরেসি হয়ে যাচ্ছে।

এমন অস্থিরতার কারণ কী বলে মনে করছেন আপনি?
শিল্পী তো সরাসরি একজন শ্রোতার কাছে গিয়ে গান বিক্রি করে আসেন না। তার কাজ গান করা। পৌঁছে দেয়ার জন্য মাঝে অনেকগুলো ধাপ পার হতে হয়। সে জন্য কিছু সিস্টেম আছে। সমস্যা হচ্ছে সেখানে। হয়তো যে সিস্টেমে আগানো উচিত সেভাবে হচ্ছে না। একতরফাভাবে কারও কথা বলে বা কোনো বিষয় বলে অসঙ্গতিগুলোকে দায়ী করা সম্ভব না।

আগের মতো আপনাদের নিয়মিত পাওয়া যায় না কেন?
আমরা একটু সময় নিয়েই সব সময় গান করেছি এবং এখনও তাই করি। সেটিকে অনিয়মিত বলা যায় না। একটা অ্যালবাম প্রকাশ করতে আমাদের প্রায় দেড় থেকে দুই বছর সময় লেগে যায়। আমরা চাইলে পারি ছয় মাস অন্তর একটি অ্যালবাম প্রকাশ করতে। কিন্তু আমার কাছে মনে হয় এত কম সময়ে গান প্রকাশ করলে তা শ্রোতাদের কাছে একই রকম মনে হবে। আমরা চাই ৮টি বা ১০টি গানের মধ্যে ৬টি হলেও যেন সবার আলোচনায় আসে। তাই সময় নিয়ে গান প্রকাশে বিশ্বাসী।

অনেক ব্যান্ড দলই তৈরি হয়ে ভেঙে যাচ্ছে সেটার কারণ কী মনে করছেন?
একটি ব্যান্ড দল হচ্ছে একটি পরিবারের মতো। সেটিকে সবাই মিলে ধরে রাখতে হয়। তাছাড়া যখন একটি বনে হরিণের সংখ্যা বেড়ে যায় তখন কিন্তু সামলানো কঠিন। বিষয় হচ্ছে তখন বাঘ তাদের খাবেই। এত ব্যান্ড তৈরি হচ্ছে ঠিক কিন্তু মানের একটা প্রশ্ন থেকে যায়। ভাঙা-গড়ার চেইন থাকবেই। সেটা নিয়ে না ভেবে মানসম্মত এবং তাদের শিক্ষা এসব নিয়ে আমাদের ভাবা উচিত। এছাড়া মিডিয়াও এরজন্য কিছুটা দায়ী বলে আমার কাছে মনে হয়।

সেটা কেমন?
এখন অনেকে ব্যান্ড দল তৈরি করছে। মিডিয়া তাদের সেই সুযোগটা নিচ্ছে। তাদের ডেকে এনে বিভিন্ন চ্যানেলে অনুষ্ঠান করাচ্ছে। সেখানে গানের মান থাকুক আর না থাকুক। ব্যবসায়িক দৃষ্টিতে বিচার করে নতুনদের ব্যবহার করছে মিডিয়াগুলো। তারাও তারকা হওয়ার মোহে পড়ে অনুষ্ঠান করে যাচ্ছে। সে সময় মনে হয় অন্য শিল্পীরা কোথায় যারা মানসম্মত গান করেন?

বর্তমান ব্যস্ততা কী নিয়ে?
এ পহেলা বৈশাখে আমাদের দলের ২১ বছর পূর্তি হল। এখন কিছু নতুন গানের কাজ করছি। আমাদের নিজেদের একটি অ্যাপস তৈরি করবো, সেখানেই পাওয়া যাবে শিরোনামহীনকে। প্রায় আটটির মতো গান প্রকাশের ইচ্ছা আছে।

 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত