আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া থেকে    |    
প্রকাশ : ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১১:৩৯:৩৯ প্রিন্ট
মালয়েশিয়ায় অবৈধদের বৈধ হওয়ার সুযোগ ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত
মালয়েশিয়ায় থামছে না অবৈধভাবে পাড়ি জমানোর দৌরাত্ম্য। সম্প্রতি ‘বাংলাদেশ নাইটস’ নাম দিয়ে আদমপাচারের অভিযোগে এক বাংলাদেশি চলচ্চিত্র নির্মাতাকে গ্রেফতারের পর থেকে দেশটির সব কটি বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন বিভাগ কড়া নজরদারি আরোপ করেছে। 
 
তবে রি হায়ারিং কর্মসূচির মাধ্যমে অবৈধভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশি শ্রমিকদের বৈধ হওয়ার সুযোগ রয়েছে দেশটিতে। এ কর্মসূচির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর।
 
সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বৈধভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিকরা। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় এনে শাস্তি দাবি করেন প্রবাসীরা।
 
বাংলাদেশ দূতাবাস বলছে, তারা মানবপাচার রোধে মালয়েশিয়া সরকারের পদক্ষেপগুলোতে নজর রাখছে। 
 
মালয়েশিয়ায় অবৈধভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশি শ্রমিকদের রি হায়ারিং কর্মসূচির পাশাপাশি চলছে ইমিগ্রেশন পুলিশের ব্যাপক ধরপাকড়। এর পরও থামছে না অবৈধভাবে (ট্যুরিস্ট ও ভিজিট ভিসার নামে) দেশটিতে পাড়ি জমানোর সংখ্যা।
 
প্রায় সময়ই কুয়ালালামপুরসহ দেশটির বিভিন্ন এলাকায় কাগজপত্রবিহীন বাংলাদেশিসহ বিদেশিরা ধরা পড়ছেন। গ্রেফতারকৃতদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বিভিন্ন ডিটেনশন ক্যাম্পে।  
 
এ পর্যন্ত প্রায় ৮৫০ বাংলাদেশি বিভিন্ন ক্যাম্পে আটক রয়েছেন বলে একটি সূত্রে জানা গেছে। 
 
নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আটককৃতরা টিকিটের টাকা ও হাইকমিশন থেকে আউট পাস সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হলে তাদের সেখান থেকে পাঠানো হচ্ছে সেন্ট্রাল জেলে। অবৈধভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশি শ্রমিকদের রি হিয়ারিং কর্মসূচির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর। নির্ধারিত ডেটলাইনের মধ্যেই বাংলাদেশিসহ অবৈধভাবে কর্মরত বিদেশিদের বৈধতার জন্য নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। 
 
অন্যথায় ৩১ ডিসেম্বরের পরপরই শুরু হবে সাঁড়াশি অভিযান। রি হায়ারিং কর্মসূচির আওতার বাইরে থেকে যাওয়া কোনো অভিবাসীকর্মী ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলে তার ১০ হাজার রিঙ্গিত জরিমানাসহ এক বছর জেল হতে পারে।
 
মূলত যারা উড়োজাহাজে করে দেশটির ইমিগ্রেশন পার হয়ে মালয়েশিয়ায় ছয় মাস অবৈধভাবে রয়েছেন, তারাই এ কর্মসূচির আওতায় বৈধ হতে পারবেন। এ ছাড়া যারা সমুদ্রপথে কিংবা অবৈধ পথে দেশটিতে প্রবেশ করেছেন এ সুযোগের মধ্যে তাদের রাখা হয়নি।
 
তাদের জন্য চালু ছিল ই-কার্ড (এনফোর্সমেন্ট কার্ড) প্রোগ্রাম। ই-কার্ড কর্মসূচির মেয়াদ ছিল চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত। ই-কার্ড কর্মসূচিতে নিবন্ধিত হলেও দীর্ঘমেয়াদে বৈধতা পেতে প্রত্যেককে অবশ্যই রি হায়ারিং কর্মসূচিতেও নিবন্ধন করতে হবে এ সময়ের মধ্যে। 
 
এ দুই কর্মসূচি সম্পর্কে বাংলাদেশের শ্রমিকদের অবহিত করতে প্রক্রিয়ার শুরু থেকে হাইকমিশন সচেতনতামূলক প্রচারপত্র বিলি করে আসছিল।
 
সর্বশেষ তথ্যমতে, চলমান রি হায়ারিংয়ের আওতায় প্রায় সাড়ে ৫ লাখ অবৈধ বাংলাদেশি নিবন্ধিত হয়েছেন। এর মধ্যে এক লাখ ৬৫ হাজার কর্মী ভিসা পেয়েছেন।
 
ই-কার্ড কর্মসূচির আওতায় এসেছেন প্রায় এক লাখ ২০ হাজার। যার মেয়াদ রয়েছে ২০১৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত।
 
অপর একটি সূত্রে জানা গেছে, নাম ও বয়স জটিলতার কারণে কমপক্ষে ৫৫ হাজার কর্মী ভিসা পাননি। তারা মালয়েশিয়ায় থাকতে পারবেন কিনা বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয়। 
 
তবে নিবন্ধিত প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার শ্রমিকের ভিসাসহ বৈধতার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। নিবন্ধন শেষ হওয়ার পর পরবর্তী ৬ মাসের মধ্যে তাদের ভিসাসহ অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সুযোগ দিয়েছে সে দেশের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ।
 
বুধবার মাদারীপুরের জুয়েল নামে এক যুবক এ প্রতিবেদককে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এখন মালয়েশিয়ায় ট্যুরিস্ট, ভিজিট ও স্টুডেন্ট ভিসায় আসা লোকদের কোম্পানিতে মালিকরা কাজে রাখছে না। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, ইমিগ্রেশনের অভিযানে এমন কাউকে পাওয়া গেলে ওই মালিককেও পুলিশ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত