ডা. মো. হারুনুর রশীদ    |    
প্রকাশ : ৩১ অক্টোবর, ২০১৭ ১৩:৩৫:১৭ প্রিন্ট
ইন্টারনেট অ্যাডিকশন একবিংশ শতাব্দীর অভিশাপ
ইন্টারনেটের প্রতি আসক্তি আজকের যুগের একটি অত্যন্ত জটিল সমস্যা ও অভিশাপ। অন্যান্য নেশার মতোই এটি একটি সর্বনাশা নেশা, যা ব্যক্তির সামাজিক, পারিবারিক ও পেশাগত জীবনকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করে। ইন্টারনেট ব্যতীত বর্তমান যুগে চলা অসম্ভব। আবার এর মাত্রাতিরিক্ত আসক্তি জীবনকে ধ্বংস করে দেয়।
 
❏ কখন ইন্টারনেট অ্যাডিকশন বলব-
▷ মাথার মধ্যে যখন প্রধান চিন্তা থাকে ইন্টারনেট
▷ সপ্তাহে ৩৮ ঘণ্টা বা তার বেশি ইন্টারনেট ব্যবহার করা
▷ ইন্টারনেট ছাড়া থাকতে না পারা, বাদ দিতে গেলে দুশ্চিন্তা, বিষণ্ণতা ও অন্যান্য সমস্যা আসা
▷ মাত্রাতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে স্বাভাবিক, পারিবারিক, সামাজিক ও পেশাগত জীবনকে ব্যাহত করা
▷ ইন্টারনেট যদি হয় বিনোদনের প্রধান উৎস
▷ ইন্টারনেটের ব্যবহার যারা লুকিয়ে রাখতে চান এবং তা নিয়ে মিথ্যা কথা বলেন
▷ বাস্তব জীবনের চেয়ে ইন্টারনেটের ভার্চুয়াল জীবন যাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ
 
❏ ইন্টারনেট অ্যাডিকশনের প্রকারভেদ
▷ সাইবার সেক্স
▷ সাইবার রিলেশন প্রবলেম
▷ পর্নোগ্রাফি
▷ অনলাইন গ্যাম্বলিং বা জুয়া
▷ ইন্টারনেট গেমিং
▷ ফেসবুক আসক্তি
▷ কম্পালসিভ ডেবিলিটেটিং ডিসঅর্ডার
 
❏ শারীরিক প্রতিক্রিয়া
▷ ঘাড় ও কোমর ব্যথা
▷ মাথা ব্যথা
▷ আই স্ট্রেন (চোখে অস্বাভাবিক চাপজনিত সমস্যা)
 
❏ মানসিক প্রতিক্রিয়া
▷ অনিদ্রা
▷ অতিরিক্ত টেনশন বোধ
▷ বিষণ্ণতা
▷ যৌন সমস্যা
▷ অপরাধ প্রবণতা
▷ মনোযোগ কমে যাওয়া
 
❏ পারিবারিক সমস্যা
সম্পর্কের ভয়াবহ অবনতি। দাম্পত্য কলহের একটি প্রধান কারণ- এখন ফেসবুক চ্যাটিং ও সাইবার সেক্স। বিশেষ করে কিশোরীরা সহজেই অনাকাঙ্ক্ষিত বিভিন্ন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। এটি আসলেই ঝুঁকিপূর্ণ।
 
❏ পেশাগত সমস্যা
অতিরিক্ত টেনশন, বিষণ্ণতা, অনিদ্রার জন্য সারা রাত নেট চালায়, সারা দিন ঘুমায়। স্বাভাবিক জীবনযাপন অসম্ভব হয়ে পড়ে।
 
❏ পর্নোগ্রাফি আসক্তি
ইন্টারনেট অ্যাডিকশনের একটি ভয়াবহ কারণ হচ্ছে পর্নোগ্রাফি। কেবল প্রাপ্তবয়স্করা নয়, কিশোর-কিশোরীরাও এখন এতে আসক্ত হয়ে পড়ছে। এটি মস্তিষ্ককে চরমভাবে উত্তেজিত করে। ফলে অবৈধ যৌনাচার, ধর্ষণের প্রবণতাজনিত ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। একজন টিনএজার কখনই এই ভার তাদের মস্তিষ্কে বহন করতে পারবে না। ভয়াবহ নৈতিক অবক্ষয় দেখা দিয়েছে বর্তমান সমাজে পর্নোগ্রাফির ফলে। যদিও দৃশ্যাবলিতে ১৮+ লেখা থাকে, তবে সমাজে এই নিয়মের কোনো প্রতিফলন নেই।
 
❏ চিকিৎসা
☉ সাইকোলজিক্যাল
☉ ফিজিক্যাল
☉ সোশ্যাল
 
❏ সাইকোলজিক্যাল
▷ সাইকো এডুকেশন: ইন্টারনেটের কুফল সম্পর্কে জ্ঞানদান
▷ সেট আ লিমিট বা ইন্টারনেটের সীমিত ব্যবহার
▷ ইন্টারনেটে আনন্দ না খুঁজে বাস্তব জীবনে আনন্দ বের করা। যেমন- গল্প করা, আড্ডা দেওয়া, বাগান করা, ঘুরে বেড়ানো, বইপড়া ইত্যাদি।
▷ পরিবারকে অধিক সময় দেওয়া, বিশেষ করে স্বামী ও স্ত্রীদের
▷ পারিবারিক জীবনযাপন ইন্টারনেটে শেয়ার করাতে নিরুৎসাহিত করা
▷ ইন্টারনেটের কুফল সম্পর্কে মিডিয়ার সহায়তায় জনসচেতনতা সৃষ্টি
▷ বাস্তব জীবনকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া
▷ কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখা
 
❏ ফিজিক্যাল
সবক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। তবে মরবিডিটি মেন্টাল ইলনেস থাকলে টিসিএ, এসএসআরআই (বিষন্নতানাশক ওষুধ), বেঞ্জোডায়াজেপাইন (৩ সপ্তাহের বেশি নয়) ব্যবহার করা যেতে পারে। ভয়াবহ ক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তি করা যেতে পারে।
 
প্রয়োজন পড়বে
▷ দীর্ঘমেয়াদি কাউন্সেলিং
▷ নিয়মিত ডক্টর ফলোআপ
▷ মোরালিটি ইম্প্রুভমেন্ট (নৈতিক শিক্ষাদান)
 
উন্নত বিশ্বে ইন্টারনেট অ্যাডিকশন সেন্টার আছে। সময়ের প্রয়োজনে আমাদেরও এই উদ্যোগ নিতে হবে। আমাদের এই মানসিক রোগের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। যেন রোগীরা অন্তত চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ জীবনে ফিরে আসার সুযোগ পান। আপনাদের যে কোনো মানসিক সমস্যাসংক্রান্ত প্রশ্ন আমাদের কমেন্ট করে জানাতে পারেন অথবা যদি গোপনীয়তা চান, তা হলে [email protected]এ মেইল করতে পারেন। সাবজেক্টে লিখবেন- Psychiatry. আপনাদের সব প্রশ্নের উত্তর ভিডিওয়ের মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।
 
লেখক
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. হারুনুর রশীদ এমবিবিএস, এম.ফিল, এমসিপিএস, এফসিপিএস (সাইকিয়াট্রি), সহকারী অধ্যাপক ডেল্টা মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল, সাবেক সহকারী অধ্যাপক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।
ফোন ০১৭৫৯-৯১১৬১১


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত