• শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০
তারিকুল হাসান    |    
প্রকাশ : ১৬ অক্টোবর, ২০১৭ ১৫:৫১:৪৬ প্রিন্ট
জিভে জল আনে বশির খাঁর টক-ঝাল-মিষ্টি আচার

টক-ঝাল-মিষ্টি আচার মুখের স্বাদ যেন বাড়িয়ে দেয়। মুখরোচক এই সম্পূরক খাদ্য প্রাচীনকাল থেকেই প্রিয় ভোজনরসিক বাঙালির। আচারওয়ালার কাচঘেরা গাড়িতে সিলভারের বাটিতে সুন্দরভাবে সাজানো রুচিবোধক আচার দেখলেই জিভে যেন জল এসে যায় আচারপ্রিয় মানুষদের।


শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী, যুবক-বৃদ্ধসহ সব বয়সের মানুষকে রসনা তৃপ্ত করে জীবিকা নির্বাহ করেন অনেক আচার ব্যবসায়ী। আচারওয়ালা বশির খাঁ তাদের মধ্যে একজন। আচার বিক্রি করে দুই ছেলে, এক মেয়ে, স্ত্রী এবং বোবা মাকে নিয়ে রায়েরবাজার পাবনা হাউস গলিতে একটি ভাড়াবাড়িতে অতি সাধারণ জীবনযাপন করেন তিনি।

রাজধানীর জিগাতলা, রায়েরবাজার, পপুলার, ছাতা মসজিদ, মুক্তি হল এলাকায় বেশ জনপ্রিয়তা বশির খাঁর আচারের। আচারপ্রিয় মানুষকে তৃপ্ত করতে, সন্ধার পর কাচঘেরা একটি ভ্যানে সিলভারের বাটিতে সুন্দরভাবে সাজানো বিভিন্ন পদের আচার নিয়ে বেরিয়ে পড়েন বশির।

আচার বিক্রি করে আয় রোজগার কেমন হয় জানতে চাইলে বশির খাঁ বলেন,  কোনো দিন ৮০০ আবার কোনো দিন ১২০০ টাকার আচার বিক্রি হয়। প্রতিদিন গড়ে ২  থেকে আড়াই কেজি আচার বিক্রি হয়। লাইটিং, পলি, কাগজ, টিস্যু, গাড়ি ইত্যাদির খরচ বাদে মাসে গড়ে ২০-২৫ হাজার টাকা থাকে।

তরুণ-তরুণীরা সব থেকে বেশি খায় বশিরের আচার। কোনো দিন ৬০-৭০ জন, আবার কোনো দিন ৪০-৫০ জনের কাছে ১০-২০ টাকার আচার বিক্রি তিনি। এখন বেশি বিক্রি হচ্ছে চালতা, আমড়া ও তেঁতুলের আচার জানান, বশির।

হোমমেড বিচিত্র আয়োজন ভ্যানে আচার কিনতে আসা ধানমণ্ডি সরকারি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী ও আচারপ্রেমী সাবরিনা হকের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, আচার আমার খুব প্রিয়। বশির মামার আচার ভালো লাগে। প্রায় দিনই ছাতা মসজিদ থেকে প্রাইভেট শেষে বাসায় যাওয়ার পথে আমি ১০-২০ টাকার  আচার কিনে খাই। আজকেও ২০ টাকার কিনলাম ৫০ গ্রাম চালতার আচার।
 
চালতা, আমড়া, তেঁতুল, বড়ই, আমসত্ত, আমলকী, কতবেল, জলপাই, টক-ঝাল-মিষ্টি, পাঁচমিশালীসহ যখন যে ফল বাজারে আসে, সেই ফলেরই আচার পাওয়া যায় বশির খাঁর ‘হোমমেড বিচিত্র আয়োজন’ নামক আচারের ভ্যানে। বশিরের আচারে স্বাদ, গুণ ও বৈশিষ্ট্যে নতুনত্ব এবং আকর্ষণীয়তা থাকায় দিন দিন আরও বেড়ে যাচ্ছে জনপ্রিয়তা।  

রাতে আচার বিক্রি করলেও সকাল ও দুপুরে রিকশা চালিয়ে ২০০-২৫০ টাকা উপার্জন করেন বশির। কিভাবে আচারের ব্যবসায় শুরু করলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন,  পাবনা হাউস গলির আচার ব্যবসায়ী বদরুলের গাড়ির আচার মাঝেমধ্যে বিক্রি করে দিতাম এবং উনার বাড়িতে গিয়েই শিখি কিভাবে আচার বানাতে হয়। ২০১৫ সালে তিনি গাড়ি বিক্রি করতে চাইলে বাজারের এক মহাজনের কাছে ২০ শতাংশ সুদে ২০ হাজার টাকা নিয়ে গাড়িটি কিনে ফেলি। রিকশা চালিয়ে জমানো ৫ হাজার টাকা এবং ১০ হাজার কাঁচামাল বাকিতে কিনে আচার বানিয়ে গাড়িতে তুলে বিক্রি শুরু করি।      
স্ত্রী রুমানা আক্তারের সাহায্যে দুই বছর ধরে আচার বানিয়ে বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করে সন্তান ও বোবা মাকে সুখ-শান্তিতে দিনাতিপাত করছেন বশির।

বশিরকে আচার বানাতে কীভাবে সাহায্য করেন, এ বিষয়ে কথা রুমানা আক্তারের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমি ফল কেটে, বেছে, ধুয়ে সিদ্ধ করে দিই। মসলা বেটে দিই।  অনেক সময় বানানো আচার বাটিতে সাজিয়ে দিই। সংসারের কাজের পাশাপাশি সময় পেলে সেলাইয়ের কাজ করি।

মুখরোচক টক-ঝাল-মিষ্টি আচার বানিয়ে আচারপ্রেমীদের তৃপ্ত করে বাসা ভাড়া, সন্তানদের পড়াশোনা এবং সংসারের খরচ দিয়ে ২ বছরে ১ লাখ টাকা জমিয়েছেন বশির খাঁ। গচ্ছিত পুঁজি দিয়ে আচারের ব্যবসা আরও বাড়াতে চান রসনা প্রিয় এই আচারওয়ালা।   

লেখক:
তারিকুল হাসান

[প্রিয় পাঠক, আপনিও দৈনিক যুগান্তর অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইলবিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার পরামর্শ, এখন আমি কী করব, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- [email protected] এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]


 

           

 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত