jugantor
ভিডিও করলেও খাদিজাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি কেউ

  অনলাইন ডেস্ক  

০৪ অক্টোবর ২০১৬, ১৮:১৯:২১  |  অনলাইন সংস্করণ

একজন নারীকে মাটিতে ফেলে চাপাতি দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে রক্তাক্ত করছে এক দুর্বৃত্ত। দূর থেকে মোবাইল ফোনে এই দৃশ্যের ভিডিও করছে অনেকেই। অথচ তাদের কেউ এই নারীকে বাঁচাতে এগিয়ে আসল না।

প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে কথা বলে মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন করেছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি বাংলা।

প্রেম নিবেদনে ব্যর্থ হয়ে সিলেটের এমসি কলেজ প্রাঙ্গণে সোমবার বিকালে খাদিজা আক্তার নার্গিস নামের এক ছাত্রীকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করেছে এক ছাত্রলীগ নেতা। গুরুতর আহত ওই ছাত্রী স্কয়ার হাসপাতালে এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।

খাদিজাকে কোপানোর একটি ভিডিও ফেসবুকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা যাচ্ছে, দূরে একজন ব্যক্তি মাটিতে পড়ে থাকা একজনকে ক্রমাগত আঘাত করছেন। এ ভিডিওতে হামলাকারী এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে পরিষ্কারভাবে সনাক্ত করা যাচ্ছে না।

মোবাইলফোনে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, দূর থেকে অনেকে ঘটনাটি দেখছিলেন এবং এক পর্যায়ে অনেকে ছুটোছুটি শুরু করে। দূর থেকে দাঁড়িয়ে অনেকে মোবাইলফোনে ভিডিও করলেও আক্রান্ত ব্যক্তিকে রক্ষার জন্য কেউ এগিয়ে যায়নি।

একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ঘটনার সময় তিনি অনেকের সঙ্গে ভলিবল খেলছিলেন। হঠাৎ মেয়েদের চিৎকার শুনে তিনি এবং তার খেলার সঙ্গীরা এগিয়ে যান।

তিনি বলেন, 'ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি যে, পুকুরের উত্তর পাশে একটি ছেলে একটি মেয়েকে কোপাচ্ছে। প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে মেয়েটি চিৎকার করছিল।'

আশেপাশে এত ছাত্র-ছাত্রী থাকলেও তারা কেউ খাদিজাকে রক্ষার জন্য এগিয়ে যায়নি কেন? দূর থেকে দাঁড়িয়ে মোবাইলফোনে ভিডিও করলেও খাদিজাকে বাঁচানোর জন্য কেউ কি প্রয়োজন বোধ করেনি?

অবশ্য প্রত্যক্ষদর্শী বলছিলেন, 'সাধারণ ছাত্ররা চেয়েছিল যেতে, কিন্তু চাপাতি হাতে ছেলেটা তেড়ে আসছিল বারবার। সেজন্য সাহস করে কেউ মেয়েটাকে রক্ষার জন্য যেতে পারেনি। ঘটনাস্থলে না থাকলে বুঝতে পারবেন না যে ছেলেটা কিভাবে চাপাতি হাতে তেড়ে আসছিল।'

খাদিজাকে কোপানোর পর হামলাকারী বদরুল আলম যখন পালিয়ে যাচ্ছিল, তখন ছাত্র-ছাত্রীরা তাকে পেছন থেকে ধাওয়া করে। এক পর্যায়ে কলেজ ক্যাম্পাসের সামনে দায়িত্বরত পুলিশ এগিয়ে আসে।

হামলাকারী বদরুলকে হাত থেকে চাপাতি ফেলে দেয়ার জন্য পুলিশ আহ্বান জানালেও সে তাতে সাড়া দিচ্ছিল না । পুলিশ যখন তাকে গুলি করার হুমকি দেয়, তখন সে চাপাতি ফেলে দেয়।

সিলেট এমসি কলেজের অধ্যক্ষ নিতাই চন্দ্র চন্দ বলেছেন, আহত ছাত্রী খাদিজা সিলেট মহিলা কলেজের ছাত্রী। ডিগ্রি পরীক্ষা দিতে তিনি এমসি কলেজে এসেছিলেন। কারণ এমসি কলেজ ছিল তার পরীক্ষা কেন্দ্র।
 
খাদিজার পারিবারিক সূত্রগুলো বলছে, পাঁচ-ছয় বছর আগে বদরুল আলম খাদিজাদের বাড়িতে গৃহশিক্ষক হিসেবে ছিল। কিন্তু তখন খাদিজাকে প্রেম নিবেদনের কারণে বদরুলকে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে হয়।

এরপর থেকে বিভিন্ন সময় খাদিজাকে নানাভাবে উত্ত্যক্ত করতো বলে অভিযোগ করছেন খাদিজার চাচা জাহিদ আহমেদ। বিভিন্ন সময় খাদিজার কলেজ ক্যাম্পাসে গিয়ে বদরুল আলম হুমকি দিয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

হামলাকারী বদরুল আলম সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির বিভাগের ছাত্র এবং সে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র লীগের সহ-সম্পাদক।

সাবমিট

ভিডিও করলেও খাদিজাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি কেউ

 অনলাইন ডেস্ক 
০৪ অক্টোবর ২০১৬, ০৬:১৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

একজন নারীকে মাটিতে ফেলে চাপাতি দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে রক্তাক্ত করছে এক দুর্বৃত্ত। দূর থেকে মোবাইল ফোনে এই দৃশ্যের ভিডিও করছে অনেকেই। অথচ তাদের কেউ এই নারীকে বাঁচাতে এগিয়ে আসল না।

প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে কথা বলে মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন করেছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি বাংলা।

প্রেম নিবেদনে ব্যর্থ হয়ে সিলেটের এমসি কলেজ প্রাঙ্গণে সোমবার বিকালে খাদিজা আক্তার নার্গিস নামের এক ছাত্রীকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করেছে এক ছাত্রলীগ নেতা। গুরুতর আহত ওই ছাত্রী স্কয়ার হাসপাতালে এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।

খাদিজাকে কোপানোর একটি ভিডিও ফেসবুকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা যাচ্ছে, দূরে একজন ব্যক্তি মাটিতে পড়ে থাকা একজনকে ক্রমাগত আঘাত করছেন। এ ভিডিওতে হামলাকারী এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে পরিষ্কারভাবে সনাক্ত করা যাচ্ছে না।

মোবাইলফোনে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, দূর থেকে অনেকে ঘটনাটি দেখছিলেন এবং এক পর্যায়ে অনেকে ছুটোছুটি শুরু করে। দূর থেকে দাঁড়িয়ে অনেকে মোবাইলফোনে ভিডিও করলেও আক্রান্ত ব্যক্তিকে রক্ষার জন্য কেউ এগিয়ে যায়নি।

একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ঘটনার সময় তিনি অনেকের সঙ্গে ভলিবল খেলছিলেন। হঠাৎ মেয়েদের চিৎকার শুনে তিনি এবং তার খেলার সঙ্গীরা এগিয়ে যান।

তিনি বলেন, 'ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি যে, পুকুরের উত্তর পাশে একটি ছেলে একটি মেয়েকে কোপাচ্ছে। প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে মেয়েটি চিৎকার করছিল।'

আশেপাশে এত ছাত্র-ছাত্রী থাকলেও তারা কেউ খাদিজাকে রক্ষার জন্য এগিয়ে যায়নি কেন? দূর থেকে দাঁড়িয়ে মোবাইলফোনে ভিডিও করলেও খাদিজাকে বাঁচানোর জন্য কেউ কি প্রয়োজন বোধ করেনি?

অবশ্য প্রত্যক্ষদর্শী বলছিলেন, 'সাধারণ ছাত্ররা চেয়েছিল যেতে, কিন্তু চাপাতি হাতে ছেলেটা তেড়ে আসছিল বারবার। সেজন্য সাহস করে কেউ মেয়েটাকে রক্ষার জন্য যেতে পারেনি। ঘটনাস্থলে না থাকলে বুঝতে পারবেন না যে ছেলেটা কিভাবে চাপাতি হাতে তেড়ে আসছিল।'

খাদিজাকে কোপানোর পর হামলাকারী বদরুল আলম যখন পালিয়ে যাচ্ছিল, তখন ছাত্র-ছাত্রীরা তাকে পেছন থেকে ধাওয়া করে। এক পর্যায়ে কলেজ ক্যাম্পাসের সামনে দায়িত্বরত পুলিশ এগিয়ে আসে।

হামলাকারী বদরুলকে হাত থেকে চাপাতি ফেলে দেয়ার জন্য পুলিশ আহ্বান জানালেও সে তাতে সাড়া দিচ্ছিল না । পুলিশ যখন তাকে গুলি করার হুমকি দেয়, তখন সে চাপাতি ফেলে দেয়।

সিলেট এমসি কলেজের অধ্যক্ষ নিতাই চন্দ্র চন্দ বলেছেন, আহত ছাত্রী খাদিজা সিলেট মহিলা কলেজের ছাত্রী। ডিগ্রি পরীক্ষা দিতে তিনি এমসি কলেজে এসেছিলেন। কারণ এমসি কলেজ ছিল তার পরীক্ষা কেন্দ্র।
 
খাদিজার পারিবারিক সূত্রগুলো বলছে, পাঁচ-ছয় বছর আগে বদরুল আলম খাদিজাদের বাড়িতে গৃহশিক্ষক হিসেবে ছিল। কিন্তু তখন খাদিজাকে প্রেম নিবেদনের কারণে বদরুলকে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে হয়।

এরপর থেকে বিভিন্ন সময় খাদিজাকে নানাভাবে উত্ত্যক্ত করতো বলে অভিযোগ করছেন খাদিজার চাচা জাহিদ আহমেদ। বিভিন্ন সময় খাদিজার কলেজ ক্যাম্পাসে গিয়ে বদরুল আলম হুমকি দিয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

হামলাকারী বদরুল আলম সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির বিভাগের ছাত্র এবং সে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র লীগের সহ-সম্পাদক।

 
প্রিন্ট সংস্করণ অনলাইন সংস্করণ
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র