অনলাইন ডেস্ক    |    
প্রকাশ : ০২ নভেম্বর, ২০১৭ ১২:১৯:৩৪ প্রিন্ট
ডিকাব টক অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের সমন্বয়কারী
বাংলাদেশে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চায় জাতিসংঘ

জাতিসংঘ বাংলাদেশে অংশগ্রহণমূলক এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেখতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত সংস্থাটির আবাসিক সমন্বয়ক রবার্ট ডি ওয়াটকিনস।

তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আশা করি। আমি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মিশে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে বলে ইঙ্গিত পেয়েছি। তবে বাংলাদেশের গণতন্ত্র খুবই নতুন। এই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে নির্বাচন কমিশনসহ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।

বৃহস্পতিবার বারিধারায় একটি হোটেলে কূটনৈতিক সংবাদদাতাদের সংগঠন ডিকাব আয়োজিত ‘ডিকাব টক’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ডিকাব সভাপতি রেজাউল করিম লোটাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক পান্থ রহমান। রবার্ট ওয়াটকিনস বাংলাদেশে তিন বছর দায়িত্ব পালন শেষ করে আজ নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়ে যাচ্ছেন। বিদায়ের আগে তিনি বাংলাদেশের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন।

এ সময় রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে মিয়ানমারের ওপর আরও বেশি আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগের কথা তুলে ধরেন জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী।

তিনি বলেন, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থাকে রাখাইনে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের এখনই উপযুক্ত সময়।

ওয়াটকিনস বলেন, রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘ অংশ হতে চায়। রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে ফেরত যাওয়ার প্রক্রিয়ায় এই অংশ হওয়াটা জরুরি।
 
জাতিসংঘের এই আবাসিক সমন্বয়কারী বলেন, বাংলাদেশে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুধু অবাধ ও সুষ্ঠুই নয়; অংশগ্রহণমূলক হওয়া প্রয়োজন। বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মিশে আগামী নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে এমন ইঙ্গিত পেয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জাতিসংঘের বিদায়ী এই আবাসিক সমন্বয়কারী বলেন, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোই যথেষ্ট নয়। রাখাইন রাজ্যে তাদের থাকার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। শুধু কফি আনান কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়ন করলেই হবে না। সমস্যা আরও অনেক গভীরে নিহিত। মিয়ানমারের মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন করাও জরুরি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের নিয়ে অনেক বড় সংকট মোকাবেলা করছে । ১৯৭১ সালে এক কোটি বাংলাদেশি শরণার্থী হিসেবে ভারতে আশ্রয় নেয়ার ফলে এ দেশের মানুষের একটা অভিজ্ঞতা হয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের প্রতি এতটা সহানুভূতিশীল। রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে জাতিসংঘ বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে চায় না বলে মিয়ানমারের এক মুখপাত্রের মন্তব্য  সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা স্পষ্ট, রোহিঙ্গা সংকট দ্রুত সমাধানে বাংলাদেশের জোরালো আগ্রহ রয়েছে। যদিও রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি মিলেছে; তবুও বাংলাদেশ শুধু নয়; কোনো দেশই ১০ লাখ লোককে নিজের দেশে এনে রাখতে চাইবে না। তবে প্রশ্ন হলো, কীভাবে ফেরত পাঠানো হবে- সেটা নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছতে হবে। এই সংকট নিরসনে বাংলাদেশ সবকিছুই করবে। তবে মিয়ানমারকে সব রোহিঙ্গাকেই ফিরিয়ে নিতে হবে। শুধু গত বছরের অক্টোবরের পরে আসা রোহিঙ্গাদের ফেরত নিলে চলবে না’।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা সত্য, রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ কোনো প্রস্তাব পাসে একমতে পৌঁছতে পারেনি। তবে এই সংকট নিরসনে নিরাপত্তা পরিষদ তিনবার বৈঠকে বসে আলোচনা করেছে। এসব আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে’।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে ওয়াটকিনস বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘ অংশ হতে চায়। রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে ফেরত যাওয়ার প্রক্রিয়ায় এই অংশ হওয়াটা জরুরি। এখন দেখতে হবে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া কতটা কীভাবে অগ্রসর হয়’।

রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের প্রস্তাব-সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে জাতিসংঘ সমন্বয়কারী বলেন, ‘বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে একটি ক্যাম্পে রাখা উদ্বেগের বিষয়। এটা শুধু রোহিঙ্গাদের জন্য নয়; স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্যও দুশ্চিন্তার কারণ। এই দুই জনগোষ্ঠীর মধ্যে বৈরী সম্পর্ক গড়ে ওঠার আশংকা সম্পর্কেও আমরা সচেতন। তাই এই বিষয়টি মাথায় রেখেই আমরা পরিকল্পনা প্রণয়ন করছি। ফলে সাহায্য ও সেবা শুধু রোহিঙ্গাদের জন্যই নয়; স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্যও ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে আমরা চাই রোহিঙ্গাদের অন্য জায়গায় স্থানান্তর করা হোক। ভাসানচরটি আমরা এখনও দেখিনি। এই চরের সম্ভাব্যতা যাচাই এখনও সম্পন্ন হয়নি। ফলে এ সম্পর্কে এখনই কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়’।
 
     
 

 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত