যুগান্তর রিপোর্ট    |    
প্রকাশ : ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ২১:১৮:৪৩ প্রিন্ট
আইনজীবীকে সাজা দেয়া এসিল্যান্ডকে তলব
ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে আইনজীবীকে সাজা দেয়ার ঘটনায় দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (এসিল্যান্ড তৎকালীন) বিরোদা রানী রায়কে তলব করেছেন হাইকোর্ট। ২৭ ডিসেম্বর  হাজির হয়ে তাকে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলেছেন আদালত।
 
রোববার সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী সৈয়দ মহিদুল কবির ও কাজী হেলাল উদ্দিন বিষয়টি আদালতের নজরে আনলে স্বপ্রণোদিত হয়ে বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি কামরুল কাদেরের অবকাশকালীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। 

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে এসিল্যান্ডের কক্ষে বসা নিয়ে বাকবিতণ্ডার জের ধরে জ্যেষ্ঠ অ্যাডভোকেট নিরোদ বিহারী রায়কে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে সাজা দেন সহকারী কমিশনার বিরোদা রানী রায়। ১২ ডিসেম্বর একটি নামজারির মামলায় শুনানি করতে গেলে ৫০০ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে একদিনের কারাদণ্ড দেয়া হয়।
 
সাজা দেয়ার সময় এসিল্যান্ড তার বক্তব্যে, ‘আমি আমার ক্ষমতা দেখালাম, পারলে আপনি আপনার ক্ষমতা দেখান’ এমন উক্তি করেছেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী ওই আইনজীবী। 
 
পরে বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করে স্থানীয় আইনজীবী সমিতি। এ ঘটনায় বিরোদা রানী রায়কে কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলায় বদলি করা হয়। যদিও এখনও নতুন কর্মস্থলে যোগ দেননি তিনি।
 
জানা গেছে, মো. সাহেব আলী নামের এক ব্যক্তির একটি জমির খারিজ আবেদনের (পুরাতন নাম বাতিল করা বা নামজারি) শুনানি ছিল এসিল্যান্ড অফিসে। সাহেব আলীর প্রতিপক্ষ হলেন মো. খায়রুল ইসলাম গং। সাহেব আলীর আইনজীবী হচ্ছেন নিরোদ বিহারী রায়। প্রতিপক্ষ খায়রুল ইসলাম গংয়ের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম ও শিক্ষানবিস আইনজীবী মোহাম্মদ ওয়ারিস উল ইসলাম অলি।
 
আইনজীবী নিরোদ বিহারী রায়ের প্রতিপক্ষ আইনজীবী ওয়ারিস উল ইসলাম জানান, বীরগঞ্জ উপজেলার ভোগনগর ইউনিয়নের গোপালপুর মৌজার একটি জমির খারিজ বাতিলের মামলা চলমান রয়েছে। সেই মামলার শুনানি ছিল ওই দিন। সেদিন সকালে মামলার প্রার্থী মো. সাহেব আলীর পক্ষে শুনানিতে অংশগ্রহণের জন্য উপস্থিত হন নিরোদ বিহারী। শুনানির জন্য আগেই কক্ষে বসা ছিলেন ওয়ারিস উল ইসলাম ও তার সিনিয়র। 
 
পরে আইনজীবী নিরোদ বিহারী যখন আসেন, তখন এসিল্যান্ডের কক্ষে আরেকটি মামলার শুনানি চলছিল। ওই সময় নিরোদ বিহারী নিজের পরিচয় দিয়ে এসিল্যান্ডের অনুমতিক্রমে ভেতরে প্রবেশ করে বসতে চান। তখন বিরোদা রানী রায় তাকে বাইরে যেতে বলেন। কিন্তু নিরোদ বিহারী নিজের পরিচয় দিয়ে বসার অনুমতি চান। তখন প্রতিপক্ষের আইনজীবী ওয়ারিস উল ইসলাম এসি ল্যান্ডকে বলেন, ‘ম্যাডাম, আমরা আইনজীবীরা তো এভাবেই বসে থাকি।’

এ কথা শুনে এসিল্যান্ড বলেন, ‘আপনি চুপ থাকুন।’ তাতে চুপ হয়ে যান ওয়ারিস উল ইসলাম। তখন সিনিয়র আইনজীবী নিরোদ বিহারী এসিল্যান্ডকে এমন ব্যবহার করছেন কেন জানতে চান। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্ক বেঁধে যায়। তখন এসিল্যান্ড নিজের ক্ষমতাবলে নিজ কক্ষে ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘোষণা করেন এবং এ আদালতের ১৮৬ ধারা অনুযায়ী আইনজীবীকে ৫০০ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক দিনের কারাদণ্ডের রায় দেন। এসব কারণে জমির ওই খারিজ আবেদনটির ওপর শুনানি হয়নি। 
 
পরে জেলা আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে অভিযোগ করা হয়। বিভাগীয় কমিশনার তাৎক্ষণিকভাবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিরোদা রানী রায়কে ভুরুঙ্গামারী উপজেলায় বদলি করে যোগদানের নির্দেশ দেন।

আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত