প্রিন্ট সংস্করণ    |    
প্রকাশ : ২০ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০৪:৩১:৫৬ প্রিন্ট
উত্তর সিটির উপনির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ
প্রার্থী চূড়ান্তে ব্যস্ত দু’দল

ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে উপনির্বাচন। একইদিন উত্তর ও দক্ষিণ সিটির নতুন ৩৬ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদেও ভোট হবে। ইসির এ ঘোষণার পর নড়েচড়ে বসেছে দেশের বড় দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। দল দুটি ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীরাও দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন।

আগামী সংসদ নির্বাচনের আগে রাজধানীর অভিজাত এলাকায় দু’দলই জয় হাতছাড়া করতে নারাজ। জয়কে টার্গেট করেই প্রার্থী বাছাই ও দলীয় প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত তারা। আওয়ামী লীগের প্রার্থী বাছাইয়ে এবারও চমক থাকছে। অন্যদিকে গতবারের চমক জাগানো প্রার্থী তরুণ তাবিথ আউয়ালকে ঘিরেই আলোচনা চলছে বিএনপিতে। মেয়রের পাশাপাশি কাউন্সিলর পদের প্রার্থীরাও মাঠ নেমেছেন।

বেশি ভোটের ব্যবধানে জয় চায় ক্ষমতাসীনরা

সোহেল তাজের নাম এগিয়ে

মাহবুব হাসান

অনিশ্চয়তা কেটে যাওয়ায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) উপনির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে।

মনোনয়ন নিশ্চিত করতে মেয়র পদ প্রত্যাশীদের তৎপরতাও প্রায় দৃশ্যমান। এ পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে হাইকমান্ডের পছন্দের শুরুতেই আছেন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের ছেলে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ।

এছাড়া বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি আতিকুল ইসলাম, ঢাকা-৯ আসনের এমপি সাবের হোসেন চৌধুরী, আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি একেএম রহমতুল্লাহর নামও দলের বিভিন্ন
পর্যায়ে আলোচনা হচ্ছে।

এদিকে মেয়রের পাশাপাশি ৩৬টি নতুন ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে আগ্রহীরা জোর লবিং শুরু করেছেন। তারা এরই মধ্যে দলীয় কার্যালয় এবং বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের কাছে ছোটাছুটি করছেন। দলের সভাপতির ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়সহ শীর্ষনেতাদের অফিস ও বাসায়ও ঢু মারছেন।

সূত্র জানায়, এ মুহূর্তে সিটি উপনির্বাচনে জয় ছাড়া অন্য কিছু ভাবছে না আওয়ামী লীগ। অনেক বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করে মেয়র পদটি ধরে রাখতে চান দলের নেতাকর্মীরা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি ফ্রান্স সফরে এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগই জিতবে। প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় কয়েকদিন আগে জানিয়েছেন, আগামী নির্বাচনে ২০০৮ এর চেয়েও বেশি ভোটের ব্যবধানে জিতবে তাদের দল। তাদের বক্তব্যের সত্যতা প্রমাণ দেয়ার জন্য মরিয়া নেতাকর্মীরা।

তাদের বক্তব্যের প্রমাণ দেয়ার জন্য মেয়র পদের এ উপনির্বাচনকে প্রথম ধাপ হিসেবে ধরে নিয়েছেন নেতাকর্মীরা। তারা অনেক বেশি ভোটে জয়লাভ করে তাদের কথার প্রমাণ দিতে চান। সংসদ নির্বাচনের আগে রাজধানীর অর্ধেক আসনের (৮ আসন) এ সিটিতে বিজয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ যে এখন আরও বেশি জনপ্রিয়, ভোটারদের এ বার্তা দিতে চান ক্ষমতাসীনরা।

একই সঙ্গে দলটি যে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও অনেক বেশি ভোটে বিজয়ী হবে, সে মেসেজও জনগণের মাঝে আগাম পৌঁছে দিতে চান তারা। তাই ডিএনসিসি উপনির্বাচনকে বিশেষভাবে নিয়েছেন ক্ষমতাসীনরা। এ নির্বাচনে বিজয়ী হতে সর্বশক্তি নিয়োগ করতে তারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা মনে করছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে রাজধানীতে এ উপনির্বাচনের গুরুত্বই আলাদা। এ নির্বাচনের ফল প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে। কেননা ঢাকা উত্তরে আছে জাতীয় নির্বাচনের আটটি সংসদীয় আসন। এখানে জয় যেমন রাজধানীতে সরকারের জনপ্রিয়তার একটি স্মারক হবে, তেমনি জাতীয় নির্বাচনের জন্যও হবে একটি বার্তা। অনেকটা টেস্ট কেসের মতো।

এ আটটি সংসদীয় আসনের মানুষ কাকে চান, তা-ও দেখে নেয়া যাবে এ উপনির্বাচনের মাধ্যমে। তাছাড়া মনে করা হয়, ঢাকার নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে থাকে সারা দেশ। এর ফল প্রভাবিত করে অন্যান্য এলাকার নির্বাচনকে। তাই উত্তরের মেয়রসহ দুই সিটিতে যে ৩৬টি ওয়ার্ডে প্রথমবারের মতো ভোট হবে, সেগুলোর কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদেও জয় চাইবেন ক্ষমতাসীনরা।

কাউন্সিলর পদে দলীয় নির্বাচন না হলেও বাস্তবতা হচ্ছে, এসব পদে দলের নেতারাই প্রতিযোগিতা করবেন। আর ভোটাররাও আওয়ামী লীগ-বিএনপি বিবেচনা করে ভোট দিয়ে থাকেন। ক্ষমতাসীনরা বলছেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জয়ী হতে চান তারা। কারণ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এ ধরনের যে কোনো নির্বাচন ইসির জন্য এসিড টেস্ট।

কারচুপির অভিযোগ উঠলে ইসিকে বিতর্কিত করার অস্ত্র পেয়ে যাবে বিএনপিসহ অন্য দলগুলো। আর সেটা দেশ-বিদেশে প্রচার করে এই ইসির অধীনে জাতীয় নির্বাচন সম্ভব নয় বলে আবার সুর তুলে সুযোগ নেয়ার চেষ্টা চালাবে তারা। এ ধরনের সুযোগ যাতে কেউ না নিতে পারে, সেদিকে সতর্ক থাকার জন্য দলের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেয়া হবে।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং গত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে উত্তরের সমন্বয়কারী কর্নেল (অব.) ফারুক খান যুগান্তরকে বলেন, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের কাছে প্রতিটি নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন এমন একটা বিষয়, এর ভোট দেয়ার মাধ্যমে মানুষ আসলে তার বক্তব্য তুলে ধরেন, তার মনোভাব বা ইচ্ছার কথা ব্যক্ত করেন।

তারা ভোট দিয়ে দেখাতে চান, প্রার্থী পছন্দ হয়েছে কিনা বা আমার দলের কর্মকাণ্ড পছন্দ করছেন কিনা। জাতীয় নির্বাচন খুব বেশি দূরে না হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ফল এক ধরনের ইঙ্গিত বহন করবে। আওয়ামী লীগ ডিএনসিসি উপনির্বাচনে অংশ নেবে এবং জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থী দেবে। এজন্য নানা প্রস্তুতিও নেয়া হচ্ছে।

ডিএনসিসি উপনির্বাচনে মেয়র পদে অনেকের নাম শোনা যাচ্ছে। এদের মধ্যে এগিয়ে আছে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজের নাম।

দলের হাইকমান্ডের পছন্দের তালিকায় প্রথমে আছে তার নাম। এছাড়া অনেকেই সম্ভাব্য প্রার্থীর হয়ে তদবির করছেন বলে জানা গেছে।

তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এক ব্যবসায়ী নেতা তার ঘনিষ্ঠ মহলে বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি আতিকুল ইসলামের নাম প্রস্তাব করেছেন বলে আভাস পাওয়া গেছে।

এছাড়া ঢাকা-৯ আসনের এমপি সাবের হোসেন চৌধুরী, এফবিসিসিআই’র সাবেক প্রেসিডেন্ট ও হা-মীম গ্রুপের কর্ণধার একে আজাদ, আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি একেএম রহমতুল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, সাবেক এমপি ডা. এইচবিএম ইকবালসহ অনেকের নামেই আলোচনা চলছে।

আওয়ামী লীগের নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোও এ ধরনের নামের বিষয়ে অস্বীকার করছে না। তাদের মতে, আওয়ামী লীগ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট করে কিছুই বলা যাবে না। তারা বলেন, আওয়ামী লীগ বড় দল, অনেক নেতা। তাদের প্রায় সবাই যোগ্য। তাদের ভেতর থেকেই একটি নাম চূড়ান্ত করা হবে।

বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, উপনির্বাচনের জন্য ভেতরে ভেতরে প্রস্তুতি নিচ্ছে আওয়ামী লীগ। এরই মধ্যে এ লক্ষ্যে বাড়ানো হয়েছে সাংগঠনিক তৎপরতা। দলের ঐক্য প্রতিষ্ঠায় নেয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতাভুক্ত থানা ও ওয়ার্ডগুলোয় প্রায় প্রতিদিন চলছে নতুন সদস্য সংগ্রহ এবং সদস্য নবায়ন কার্যক্রম।

উত্তরের বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্যকে দলের সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ডেকে কথা বলেছেন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। থানায় থানায় চলছে বর্ধিত সভা। এরই মধ্যে থানা সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের নিজ নিজ এলাকার ভোটার তালিকা সংগ্রহের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। রাজধানীর এ অংশে দলে নিজেদের মধ্যে কোনো বিরোধ থাকলে তা মিটিয়ে ফেলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ভোটের আগে উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতাভুক্ত সংসদীয় আসনের এমপিদের সঙ্গে বৈঠক করে তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেয়া হবে। নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে কেন্দ্রে একটি সমন্বয় টিম এবং থানা-ওয়ার্ড-পাড়া-মহল্লায় নির্বাচন সমন্বয় ও তদারকি কমিটি গঠন করা হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মঙ্গলবার দলের সভাপতির ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ছিল অস্বাভাবিক ভিড়। তাদের অধিকাংশই উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নতুন ওয়ার্ডভুক্ত নেতাকর্মী। উত্তরের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান যুগান্তরকে জানান, ইসি সিদ্ধান্ত ঘোষণা করার পর থেকেই এসব ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, রোববার নির্বাচন কমিশন তাদের ১৫তম সভা শেষে ঘোষণা দেয়, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) উপনির্বাচন নিয়ে কোনো জটিলতা নেই। জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে এর তফসিল ঘোষণা হবে এবং ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে ভোট গ্রহণ করা হবে। নতুন ৩৬টি ওয়ার্ডেও নির্বাচন হবে এবং এর কাউন্সিলরদের মেয়াদ হবে ২০২০ সালের মে পর্যন্ত।

মিন্টু পরিবার ঘিরেই আলোচনা

বিজয় নিশ্চিতে নানা পরিকল্পনা

হাবিবুর রহমান খান

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উপনির্বাচন নিয়ে আইনি জটিলতা কেটে যাওয়ায় নড়েচড়ে বসেছেন বিএনপির নীতিনির্ধারকরা।

ইসি ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে মেয়র উপনির্বাচন এবং নতুন ৩৬ ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচনের ঘোষণা দেয়ায় সম্ভাব্য প্রার্থীরাও দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন।

বিএনপির মেয়র প্রার্থী প্রায় চূড়ান্ত হলেও ৩৬ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নিয়েই চলছে তোড়জোড়। সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীদের নামের তালিকা তৈরি হচ্ছে।

তবে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী চূড়ান্ত করার পরই বিএনপি নাম ঘোষণা করবে। প্রার্থী বাছাইয়ের সঙ্গে সঙ্গে বিজয় নিশ্চিত করতে ছক সাজানো হচ্ছে। সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি জোটের শরিকদের সঙ্গে
সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছেন দলের হাইকমান্ড।

জানা গেছে, অনেক নেতা নানা মাধ্যমে দলের চেয়ারপারসনকে নিজের প্রার্থিতার বিষয়টি অবহিত করছেন। একাধিক প্রার্থীর নাম আলোচনায় থাকলেও গতবারের মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালকেই এবারও ধানের শীষের মনোনয়ন দেয়ার সম্ভাবনাই বেশি। এরই মধ্যে তাকে সবুজ সংকেত দেয়া হয়েছে।

সম্প্রতি খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন তাবিথ আউয়াল। কয়েকদিন আগে দলের সিনিয়র কয়েক নেতা খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন। তারা সিটি নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করেন। সেখানে প্রার্থীর বিষয়টি আলোচনায় উঠতেই চেয়ারপারসন বলেন, উত্তরে আমাদের প্রার্থী চূড়ান্ত আছে। এ নিয়ে ভাবতে হবে না বলে তাদের আশ্বস্ত করেন।

তবে ক্ষমতাসীনরা হাইপ্রোফাইল কাউকে প্রার্থী করলে বিএনপি তাবিথের পরিবর্তে অন্য কাউকে প্রার্থী করতে পারে। সেক্ষেত্রে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুকে মনোনয়ন দেয়া হতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে।

এদিকে মেয়র পদে সরাসরি প্রার্থী মনোনয়ন দেয়ার পাশাপাশি উত্তর ও দক্ষিণের নতুন ৩৬ ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদেও দলীয় নেতাকে সমর্থন দেবে বিএনপি।

এরই মধ্যে দলের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীদের একটি তালিকা তৈরির কাজ চলছে। প্রসঙ্গত, চলতি বছরের জুলাইয়ে ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে নতুন করে যুক্ত হওয়া ১৬টি ইউনিয়নকে ৩৬টি ওয়ার্ডে বিভক্ত করে স্থানীয় সরকার বিভাগ গেজেট জারি করে।

‘স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন-২০০৯’ অনুযায়ী এসব ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন হবে। মেয়র ও কাউন্সিলর পদে একই দিনে ভোট গ্রহণ করা হবে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুগান্তরকে বলেন, আমরা উত্তর সিটির নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ইসি তফসিল ঘোষণা করার পর দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। দলে একাধিক যোগ্য প্রার্থী রয়েছেন। তিনি বলেন, সিটি নির্বাচনে জয়ী হওয়ার ব্যাপারে আমরা আশাবাদী। কারণ সাধারণ ভোটাররা বর্তমান সরকারের নানা অপকর্মের জবাব দেয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

সূত্র জানায়, তাবিথ ছাড়াও উত্তরের মেয়র প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম আলোচনায় রয়েছে তারা হলেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মেজর (অব.) কামরুল ইসলাম, মহানগর উত্তর বিএনপির সভাপতি এমএ কাইয়ুম ও ২০ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান (পার্থ)। বিএনপির নির্বাহী কমিটির সহ-প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক শাকিল ওয়াহেদের নামও নতুন করে আলোচনায় রয়েছে। প্রার্থী হতে তিনি নানা মাধ্যমে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী চূড়ান্ত করার পরই বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা করা হবে।

সূত্র জানায়, সম্ভাব্য প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রাথমিক কাজ শুরু করেছেন। দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি নির্বাচনী মেনুফেস্টও তৈরি করছেন। নগরবাসীকে আকৃষ্ট করতে নতুন কিছুর প্রতিশ্রুতি নিয়ে ভাবছেন।

সূত্র জানায়, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে রাজধানীতে নৌকা ও ধানের শীষের লড়াইকে গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে বিএনপির হাইকমান্ড। নির্বাচনে জয়ী হতে নানা চিন্তাভাবনা করছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা। দলীয় এবং জোটগতভাবে নির্বাচনী কৌশল প্রণয়ন করা হচ্ছে।

দলটির নীতিনির্ধারকরা মনে করেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হলে দলীয় প্রার্থীর বিজয় সুনিশ্চিত। এ লক্ষ্যে নানা পরিকল্পনা নিয়ে অলআউট মাঠে নামতে চান তারা। ধানের শীষের পক্ষে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গণসংযোগে নামার চিন্তাভাবনা রয়েছে। বিগত সিটি নির্বাচনেও তিনি প্রচারে নামেন।

দলের পাশাপাশি জোটগতভাবেও এ নির্বাচনকে বেশ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। জোটগতভাবে আগামী নির্বাচন করার ক্ষেত্রে কোনো সংকট সৃষ্টি হতে পারে কিনা, তার ইঙ্গিতও পাওয়া যেতে পারে এ নির্বাচনে। তফসিল ঘোষণার আগে দল ও জোটের মধ্যে যেসব সমস্যা রয়েছে, তা মিটিয়ে ফেলা হবে।

জোটগতভাবে নির্বাচন করার মাধ্যমে সম্পর্ক অটুট- এমন বার্তা দিতে চাচ্ছেন। বিএনপির প্রার্থীকে জোটগতভাবে সমর্থন দেয়া হবে। তবে জামায়াতসহ অন্য শরিকদের কয়েকটি কাউন্সিলর পদ ছেড়ে দেয়ার চিন্তাভাবনা রয়েছে।

সূত্র জানায়, জোটের পাশাপাশি দলের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে তা সমাধানে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের নেতাদের এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। নতুন ওয়ার্ডগুলোয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বসে প্রার্থী বাছাই ও নির্বাচনী কৌশল চূড়ান্ত করার প্রাথমিক কাজ শুরু করা হয়েছে।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আমাদের গতবারের প্রার্থীও আছেন। আবার নতুন অনেকেও আগ্রহী। নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলে এ নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

নতুন ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যারা আলোচনায় আছেন : বিএনপি নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে জানা গেছে, নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি এরই মধ্যে নিয়ে রেখেছে বিএনপি। উত্তরে নতুন ওয়ার্ডে বিএনপির তালিকায় যাদের নাম রয়েছে তারা হলেন- ৩৭নং ওয়ার্ডে মো. আবুল বাশার, ৩৮নং ওয়ার্ডে আলী হোসেন, ৩৯নং ওয়ার্ডে নবিয়ার হোসেন, ৪০নং ওয়ার্ডে মো. আতাউর রহমান, ৪১নং ওয়ার্ডে মো. তাজুল ইসলাম, ৪২নং ওয়ার্ডে মো. মাহফুজুর রহমান, ৪৩নং ওয়ার্ডে মজিবুর রহমান, ৪৪নং ওয়ার্ডে আহসান হাবিব আছান, ৪৫নং ওয়ার্ডে মো. জাহাঙ্গীর ব্যাপারী, ৪৬নং ওয়ার্ডে সরকার রফিকুল ইসলাম মুকুল, ৪৭নং ওয়ার্ডে মো. মোতালেব হোসেন রতন, ৪৮নং ওয়ার্ডে হাজী খলিলুর রহমান, ৪৯নং ওয়ার্ডে কবি আতাউর রহমান, ৫০নং ওয়ার্ডে মো. সালাম সরকার, ৫১নং ওয়ার্ডে আফাজ উদ্দিন, ৫২নং ওয়ার্ডে মো. কুদরত এলাহী লিটন, ৫৩নং ওয়ার্ডে মো. মোস্তফা জামান ও ৫৪নং ওয়ার্ডে মো. হারুনুর রশিদ খোকন।

দক্ষিণে ১৮টি ওয়ার্ডের মধ্যে বিএনপির তালিকায় যাদের নাম রয়েছে তারা হলেন- ৫৮নং ওয়ার্ডে এসএম শাহিন লাল, ৫৯নং ওয়ার্ডে খোরশেদ আলম খোকন, ৬০নং ওয়ার্ডে আনোয়ার মজুমদার, ৬১নং ওয়ার্ডে মাজেদুর রহমান রনি, ৬২নং ওয়ার্ডে ফারুক খান রিপন, ৬৩নং ওয়ার্ডে হামিদ মোল্লা, ৬৪নং ওয়ার্ডে জাকির হোসেন জিকু, ৬৫নং ওয়ার্ডে আশরাফ উদ্দিন খান, ৬৬নং ওয়ার্ডে আকতার হোসেন মোল্লা, ৬৭নং ওয়ার্ডে শাখাওয়াত হোসেন সবুজ, ৬৮নং ওয়ার্ডে মোফাজ্জল হোসেন ভূঁইয়া, ৬৯নং ওয়ার্ডে মো. আবুল হাসেম, ৭০নং ওয়ার্ডে হাজী আসাদুজ্জামান আশা। বাকি ওয়ার্ডগুলোর তালিকাও তৈরি করা হচ্ছে।
 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত