যুগান্তর রিপোর্ট    |    
প্রকাশ : ২২ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০৩:০৭:০৯ প্রিন্ট
ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়
রিভিউ আবেদন চূড়ান্ত আগামী সপ্তাহে দাখিল

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে দেয়া রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহের শুরুতেই রিভিউ আবেদন করবে রাষ্ট্রপক্ষ।

ইতিমধ্যে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি রিভিউ আবেদন করার বিষয়টি চূড়ান্ত করেছে। বৈঠক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এর আগে অ্যাটর্নি জেনারেল সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘আমি বলেছিলাম এ মাসের মধ্যে অর্থাৎ নভেম্বরের মধ্যে রিভিউ করব কিন্তু এখন মনে হচ্ছে নভেম্বরের মধ্যে করতে পারব না।

তবে ২৭ নভেম্বর (সোমবার) আমরা ষোড়শ সংশোধনীর পূর্ণাঙ্গ রায়ের সার্টিফাইড (সত্যায়িত) কপি পেয়েছি। এখন থেকে আমরা আরও ২৭ দিন সময় পাব। এ সময়ের মধ্যে রিভিউ করা হবে।’

রিভিউ করতে আপনাদের প্রস্তুতি কেমন জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, নিশ্চয় প্রস্তুত, প্রস্তুত না হলে ২ মাস ধরে কাজ করেছি কেন। যে গ্রাউন্ডে রিভিউ করা হবে সেগুলো আমরা আরও বেশি করে ঘষামাজা করছি।

ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে তোপের মুখে থাকা প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা ছুটি নিয়ে দেশত্যাগের ২৮ দিনের মাথায় সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশের হাইকমিশনে ১০ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরে রাষ্ট্রপতি এসকে সিনহার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন।

সূত্র জানায়, ১৮ ডিসেম্বর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের নেতৃত্বে বিশেষ কমিটি বসে রিভিউ আবেদন করার বিষয়টি চূড়ান্ত করে।

বৈঠকে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজাসহ অন্য সরকারি আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহে সুপ্রিমকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিভিউ দাখিল করা হবে।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের সঙ্গে বৃহস্পতিবার রাতে যোগাযোগ করা হলে তিনি যুগান্তরকে বলেন, রিভিউ প্রায় চূড়ান্ত। সবাইকে জানিয়ে এ রিভিউ আবেদন করা হবে।

এ বিষয়ে একজন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছেন, পুরো রায়ে আইনের যে ব্যত্যয় ঘটেছে সেই বিষয়ে বেশি জোর দেয়া হচ্ছে। কারণ আপিল বিভাগ যে রায় দিয়েছেন তা রিভিউ চাইতে গেলে ওই বিষয়গুলোতে বেশি জোর দিতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রায়ের সত্যায়িত কপি পাওয়ার আগেই সুপ্রিমকোর্ট থেকে কপি করে বিশেষ কমিটি প্রতিদিন সন্ধ্যায় আলোচনা করেছে।

এতে বেশ কয়েকটি গ্রাউন্ড তারা চূড়ান্ত করেছেন যা রিভিউ আবেদনের শুনানিতে তুলে ধরবেন। এর মধ্যে বিচারকদের অপসারণে তদন্ত করার জন্য আইন করার আগেই ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে দেয়া, সামরিক সরকারের সময়ে করা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল ফিরে আসা, জাতীয় সংসদ সদস্যদের নিয়ে মন্তব্যসহ বিভিন্ন গ্রাউন্ড আছে।

উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে নিতে করা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি ১ আগস্ট প্রকাশ করেন সুপ্রিমকোর্ট।

ওই রায়ের পর্যবেক্ষণে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা দেশের রাজনীতি, সামরিক শাসন, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি, সুশাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।

এর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় ১০ আগস্টের সংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রী বলেছিলেন, মামলার ফ্যাক্ট অব ইস্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত নয় এমন অনেক অপ্রাসঙ্গিক কথা প্রধান বিচারপতি তার রায়ে বলেছেন।

রায়ে জাতীয় সংসদ সম্পর্কে কটূক্তির পাশাপাশি পর্যবেক্ষণে বাংলাদেশের স্বাধীনতা কোনো একক ব্যক্তির কারণে হয়নি এমন বক্তব্যকে মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বকে অস্বীকার করার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।

১৮ আগস্ট রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করতে সরকার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানান আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

তিনি বলেন, রায়ের সত্যায়িত কপির জন্য আবেদন করা হয়েছে। রায় ভালোভাবে পড়া হচ্ছে, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেই রিভিউ আবেদন করা হবে।

১৪ সেপ্টেম্বর ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় এবং তার কিছু পর্যবেক্ষণের বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নিতে জাতীয় সংসদে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আদালত তার এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে সংসদে আনা সংবিধান সংশোধন বাতিলের এ রায় দিয়েছেন।

এরপর কী আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে, তা স্পষ্ট করা না হলেও আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, এ প্রক্রিয়ার কাজ তারা ইতিমধ্যে শুরু করেছেন।

আইনমন্ত্রী এর আগে সুপ্রিমকোর্টের এ রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করবেন বলে সংসদেই জানিয়ে বলেছিলেন, তাতে তারা ‘কামিয়াব’ হবেন বলে আশাবাদী।


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত