ডা. গোপেন কুমার কুণ্ডু    |    
প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর, ২০১৭ ১০:৪১:৪১ প্রিন্ট
শিশুর খিঁচুনি রোগ ও করণীয়
মস্তিষ্ক-কোষ বা নিউরনের তড়িৎ বেগের (Electric discharge) অস্বাভাবিকতার কারণে যে কোনো ধরনের ক্ষণস্থায়ী শারীরিক প্রতিক্রিয়া বা বাহ্যিক লক্ষণকে খিঁচুনি বলা হয়। যদি ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই বা ততোধিকবার খিঁচুনি হয়, তা হলে এটিকে মৃগীরোগ (Epilepsy) হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। মৃগীরোগ স্নায়ুতন্ত্রের একটি দীর্ঘস্থায়ী জটিল রোগ। যে কোনো বয়সের পুরুষ ও নারী এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। তবে বাচ্চাদের এই রোগ হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।
 
কী ধরনের খিঁচুনি রোগ হয়
১. পুরো শরীরে খিঁচুনি- জেনারেলাইজড এপিলেপ্সি।
২. শরীরের কোন দিকের খিঁচুনি- ফোকাল এপিলেপ্সি।
৩. শরীরের এক জায়গা থেকে শুরু হয়ে সব জায়গায় ছড়িয়ে যায় খিঁচুনি। তবে বাচ্চাদের ক্ষেত্রে সিনড্রোম আকারে খিঁচুনি রোগ আসতে পারে।
 
শিশুদের খিঁচুনি রোগ কেন হয়
পরিবারে এ রকম ইতিহাস থাকলে।
 
গর্ভকালীন জটিলতা-
১. জন্মের সময় অতিমাত্রায় ওজন স্বল্পতা।
২. জন্মের পরই শ্বাসনালীতে কষ্ট।
৩. গর্ভকালীন মাথায় আঘাতজনিত কারণে।
৪. জন্মের পরই জন্ডিসের মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়া।
ছোটবেলায় কোনো কারণে মস্তিষ্কে ইনফেকশনের কারণে পরবর্তীতে খিঁচুনি হতে
পারে।এ ছাড়া অনেক অজানা কারণেও খিঁচুনি রোগ হতে পারে।
 
চিকিৎসাব্যবস্থা
বাজারে অনেক ধরনের খিঁচুনি রোগের ওষুধ রয়েছে যেমন- ফেনোবারবিটল, ফেনিটয়েন, ভ্যালপ্রোয়েট ইত্যাদি প্রায় সব ধরনের খিঁচুনি রোগের জন্যই কার্যকরী। এসব ওষুধের কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। বর্তমানে নতুন ধরনের খিঁচুনিরোধক যে ওষুধ বাজারে এসেছে, সেগুলো অধিকতর কার্যকরী এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও কম। এসব ওষুধ অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খেতে হবে। খিঁচুনি রোগীর জন্য উপদেশ
 
১. রোগীকে নিয়মিত ও নির্দিষ্ট সময়ে ওষুধ খাওয়ান।
২. জ্বর, ঠাণ্ডা, কাশি খিঁচুনিকে বাড়িয়ে দিতে পারে, তাই জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা করানো।
৩. আগুন ও পানি থেকে এ ধরনের শিশুদের দূরে রাখা।
৪. পুকুরে ডুব দিয়ে গোসল করতে না দেয়া। বাসায় বাথরুমে গোসল করলে দরজা লক না করা (ছিটকানি বন্ধ না করা)।
৫. মনে রাখতে হবে, এই রোগের ওষুধ কমপক্ষে ২-৩ বছর খিঁচুনি বন্ধ থাকলে (Seizure free) তবেই বন্ধ করা যেতে পারে (চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী)।
৬. খিঁচুনি রোগীদের ক্ষেত্রে একটা কার্ড ব্যবহার করা যেতে পারে (কার্ডের মধ্যে রোগীর নাম, রোগের নাম, ওষুধের নাম ও পরিমাণ এবং পূর্ণ ঠিকানা উল্লেখ করতে হবে)।
 
প্রতিরোধ করার উপায়
১. শিশুর জন্মের আগে গর্ভাবস্থায় মাকে নিয়মিত ডাক্তারের চেকআপ করান।
২. গর্ভকালীন জটিলতা দূর করার জন্য ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে প্রসব করান।
৩. পরিবারে এ ধরনের ইতিহাস থাকলে নিয়মিত চেকআপ করাতে হবে।
 
খিঁচুনি রোগীকে কখন হাসপাতালে নেবেন 
 
১. খিঁচুনি যদি ৫ মিনিটের বেশি স্থায়ী হয়।
২. একনাগারে অনেকক্ষণ খিঁচুনি চলতে থাকে।
৩. একবার খিঁচুনির পর জ্ঞান না ফিরেই বারবার খিঁচুনি হলে।
৪. মারাত্মক খিঁচুনি যদি ওষুধ দিয়েও নিয়ন্ত্রণে না থাকে।
 
খিঁচুনি রোগীর জরুরি অবস্থায় করণীয়
১. জোরপূর্বক দাঁত খোলার চেষ্টা না করা।
২. শর্ট বা টাইট কাপড় পরা থাকলে ঢিলা করে দেয়া।
৩. সম্ভব হলে রোগীকে নিরাপদ স্থানে নেয়া।
৪. রোগীর পাশে থাকা আগুন, পানি ও ধারালো জিনিস সরিয়ে ফেলা।
 
 
[প্রিয় পাঠক, আপনিও দৈনিক যুগান্তর অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইলবিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, এখন আমি কী করব, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- [email protected] এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত