মো. গালিব মেহেদী খান    |    
প্রকাশ : ০১ নভেম্বর, ২০১৭ ১০:৪৩:২৮ প্রিন্ট
ব্লু-হোয়েল থেকে বাঁচাতে সন্তানকে সময় দিন

দেশের কিশোর সমস্যায় নতুন যুক্ত হয়েছে ব্লু-হোয়েলের মতো মরণ নেশা গেম। এ নেশায় কারা আচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে একবার ভেবে দেখেছেন? একাকিত্ব যাদের সারাক্ষণ ঘিরে রাখে। পরিবারের সঙ্গে হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক যাদের নেই। তাই ব্লু-হোয়েল থেকে বাঁচাতে সন্তানকে সময় দিন।
 

উঠতি বয়সের কিশোর-কিশোরীরা, যারা চায় পরিবারের সাহচর্য অথচ পায় না। যাদের সামনে কোনো আদর্শ নেই, লক্ষ্য নেই। তারাই এসব সমস্যায় বেশি জড়িয়ে পড়ছে। এরা আমার-আপনার, আমাদেরই সন্তান। তাদের এসব সমস্যা থেকে বের করে আনতে অভিভাবকদেরই উদ্যোগী হতে হবে।
 
১২-১৩ বছর বয়সে এসে ছেলেমেয়েরা একইসঙ্গে তাদের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের ধাক্কা সামলায়। এ সময় তার মনে হাজারটা প্রশ্ন ভিড় করে। তারা সেই প্রশ্নের উত্তর অভিভাবকদের কাছ থেকে পায় না। লজ্জা, ভয়, জড়তা তাকে তা প্রকাশে বাঁধা দেয়। অভিভাবকরা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে সন্তানের সে প্রশ্নের উত্তর দেন না। ফলে তারা সমবয়সীদের সঙ্গে আলাপ করে বেশিরভাগ সময়েই ভুল সিদ্ধান্তে উপনীত হয়।
 
ছেলেমেয়েদের এই নতুন জীবনের একদিকে থাকে বাঁধভাঙা উল্লাস অন্যদিকে একটা দুর্বিনীত ভাব। জয় করার একটা অদম্য স্পৃহা তখন তাদের পেয়ে বসে। এ সময় যদি সে সঠিক মানসিক পরিচর্যা না পায়, তাহলে নানা রকম গোল বাঁধতে পারে।
 
দেখবেন এ বয়সে হঠাৎ করে, কেউ কেউ মনমরা হয়ে থাকছে। কেউবা শাসন মানছে না। কেউ কেউ একাকিত্বকে বেছে নিচ্ছে। এর সবটারই সুদূরপ্রসারী প্রভাব আছে। আর তা মোটেও ভালো নয়।
 
কৈশোরে আপনার সন্তানের আচরণ যেমনই হোক না কেন, তাকে সময় দিন। তার সমস্যা, ভালো লাগা - মন্দ লাগা জানতে চেষ্টা করুন। তার সঙ্গে একমত হতে পারলে ভালো, না পারলে উপযুক্ত কারণ দেখিয়ে যুক্তিতর্কের মাধ্যমে তাকে সঠিকটা বোঝাতে চেষ্টা করুন। বিশেষ করে তাকে বলতে দিন এবং তার কথা শুনুন। তাকে গুরুত্ব দিন। তার সঙ্গে বন্ধুবৎসল হন।
 
আপনার সন্তানকে কখনোই এটা ভাবতে দেবেন না, আপনার কাছে তার মতামতের গুরুত্ব নেই। এটা বলবেন না যে, তুমি ছোট তুমি বুঝবে না। বরং তার কাছ থেকে প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে পরামর্শ নিন, এতে সে নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ ভাবতে শিখবে। নিজের ওপর তার আস্থা বাড়বে।
 
আমরা যেন আমাদের সন্তানদের আরেকটু সময় দেই। তাদের আরেকটু কাছে টেনে নেই। তাদের অলস সময়টাকে আনন্দময় করে তোলার চেষ্টা করি। সময়ের প্রয়োজনে তারা আলাদা শোবে, একটু দূরত্ব তৈরি হবে- এটাই স্বাভাবিক কিন্তু সেটা যেন কোনোভাবেই তাদের একাকী করে না ফেলে। তারা যেন কোনোভাবেই হতাশাগ্রস্ত না হয়ে পড়ে। সেটা খেয়াল রাখতে হবে। এ সময় তাদের নিত্যনতুন বন্ধু যুক্ত হবে, তাদের সেই নতুন বন্ধুদের খোঁজ রাখতে হবে। তারা অলস সময়টা কীভাবে কাটায় সে খবর রাখতে হবে।
 
সর্বোপরি একটা আনন্দমুখর পারিবারিক পরিবেশ তাদের দিতে হবে। যদি সেটা করা যায় তাহলে, ব্লু-হোয়েল কেন, কোনো নেশাই তাকে আচ্ছন্ন করতে পারবে না। দায়িত্বটা অভিভাবকদেরই নিতে হবে।

 

প্রিয় পাঠক, আপনিও দৈনিক যুগান্তর অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফ স্টাইলবিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, এখন আমি কী করব, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- [email protected] এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত