অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সাইফউল্লাহ    |    
প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর, ২০১৭ ০৮:১৩:৫৬ প্রিন্ট
গর্ভাবস্থায় পরিচর্যা
যখন ডাক্তারের পরামর্শ নিতেই হবে
গর্ভাবস্থায় বিভিন্ন জটিলতা এড়াতে গর্ভকালীন পরিচর্যা নেয়া খুবই প্রয়োজন। একজন মেয়ে যখন গর্ভবতী হন, তখন তার শারীরিক ও মানসিক যে পরিবর্তন আসে। যখনই তার ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যাবে, তখনই তার অতিদ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত। এছাড়া পরিবারের প্রতিটি সদস্যের মানসিক প্রস্তুত হতে হবে একজন গর্ভবতী নারীর পরিচর্যা সম্পর্কে। 
 
‘জন্মপূর্ব পরিদর্শনের সময়’ বা অ্যান্টি ন্যাটাল কেয়ার (গর্ভকালীন পরিচর্যা) :
 
গর্ভাবস্থায় স্বাস্থ্যের যত্ন প্রদানকারী চিকিৎসক আপনার ওজন, রক্তচাপ, রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা করবেন। হার্টের ফাংশন নির্ণয়ের জন্য তিনি বিভিন্ন পরীক্ষা করতে পারেন।
 
ইকোকাডিওগ্রাম শব্দ তরঙ্গ ব্যবহার করে হার্টের ছবি পর্যবেক্ষণ করা। আপনার শিশুর হার্ট ঠিক আছে কিনা, তা নিশ্চিত হতে পারেন।
 
কী লক্ষণ বা উপসর্গ দেখলে ডাক্তারকে জানাবেন-
 
শ্বাসকষ্ট , বুক ধড়ফড় ও কাশি:
শ্বাসকষ্ট , বুক ধড়ফড়, দ্রুত হৃদস্পন্দন, অনিয়মিত নাড়ি, বুক ব্যথা, কাশির সঙ্গে রক্ত বা রাতে কাশি। 
 
প্রসব বেদনা ও প্রসবের সময় : 
ডেলিভারি আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন হাসপাতালে করা প্রয়োজন। যেখানে নির্দিষ্ট বিশেষজ্ঞরা আছেন। বিশেষ সরঞ্জামের মাধ্যমে হৃদযন্ত্রের ঝুঁকির ওপর নজর রাখতে পারবে।
 
বুকের দুধ খাওয়ানো ও শিশুর যত্ন নেয়া : 
হৃদরোগ আছে এমন অধিকাংশ নারীই শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে পারবেন।
 
সুস্থ গর্ভাবস্থা নিশ্চিন্ত করার ভালো উপায় :
আপনি গর্ভবতী হওয়ার জন্য চেষ্টা শুরু করার আগে আপনার হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। আপনার বিশেষজ্ঞ গর্ভাবস্থা নিতে পরামর্শ দেয়া এবং শিশুর যে কোনো ঝুঁকি কমানোর জন্য চিকিৎসা সমন্বয় করবেন।
 
গর্ভাবস্থার জন্য মার শরীরকে প্রস্তুত করতে করণীয় : 
 
মাত্রাতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণ, ধূমপান নিষেধ, সুনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ, 
 
গর্ভবতী থাকাকালীন করণীয় :  
সুষম খাবার গ্রহণ , ওজন নিয়ন্ত্রণ,  ব্যায়াম (কোনো নতুন ব্যায়াম করার আগে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলবেন) ও ধূমপান বন্ধ।
 
গর্ভকালীন উচ্চরক্তচাপ : 
অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় উচ্চরক্তচাপ মা ও গর্ভস্থ শিশুর জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। গর্ভাবস্থায় তাই নিয়মিত রক্তচাপ পরিমাপ করা জরুরি। রক্তচাপ বেশি হলে তার চিকিৎসা নিয়ে অবহেলা করা উচিত নয়। গর্ভাবস্থায় প্রথম পাঁচ মাসের মধ্যে রক্তচাপ বেড়ে গেলে সেই মায়ের আগে থেকেই খানিকটা উচ্চরক্তচাপ ছিল বলে ধরে নেয়া যায়। যাদের আগে থেকেই উচ্চরক্তচাপ আছে এবং ওষুধ খাচ্ছেন, তারা সন্তান নেয়ায় আগে অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নেবেন। কিছু রক্তচাপের ওষুধ গর্ভাবস্থায় খাওয়া যায় না। তাই প্রয়োজনে চিকিৎসক আগে থেকেই ওষুধ পরিবর্তন করে দিতে পারেন। সেইসঙ্গে রক্তচাপ পুরোপরি স্বভাবিক আছে কিনা এবং উচ্চরক্তচাপের কোনো জটিলতা আছে কিনা, তাও পরীক্ষা করে নেয়া যাবে।
 
গর্ভাবস্থার পাঁচ মাস পর যদি রক্তচাপ বেড়ে যায় :
 
গর্ভাবস্থার পাঁচ মাস পর যদি রক্তচাপ বেড়ে যায় তবে একে জেসটেশনাল হাইপারটেনশন বা গর্ভকালীন উচ্চরক্তচাপ বলা হয়। এটি সন্তান প্রসবের তিন মাসের মধ্যে স্বভাবিক হয়ে যায়। নিয়মিত রক্তচাপ মেপে নিয়ন্ত্রণে না রাখলে নানা জটিলতা হতে পারে। মায়ের পা ফোলা, শরীরে পানি জমা, মাথাব্যথা, চোখে ঝাপসা দেখা, শ্বাসকষ্ট, হার্ট ফেইলিওর, রক্তক্ষরণ, খিঁচুনি ইত্যাদি হতে পারে। যাদের ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ, থাইয়য়েড সমস্যা আছে তাদের ঝুঁকি বেশি। ওজনাধিক্য, পরিবারের গর্ভকালীন উচ্চরক্তচাপের ইতিহাস থাকলে বা ২০ বছরের কম বা ৪০-এর বেশি বয়সে মা হলে উচ্চরক্তচাপের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
 
লবণ:
আলাদা লবণ খাবেন না, অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবারও নয়, যেমন- সালাদ বা ফলের সঙ্গে লবণ দেয়া হয়। আচার, চানাচুর, সয়াসস ও টেস্টিং সল্টযুক্ত খাবার প্রক্রিয়জাত খাবারে লবণ থাকে।
 
অতিরিক্ত চর্বিজাতীয়
অতিরিক্ত চর্বিজাতীয় খাবার, গরু-খাসির মাংস, ভাজাপোড়া এড়িয়ে চলুন, প্রচুর তাজা শাকসবজি, ফলমূল খান, দুধ, ডিম, মাছ খান।
 
লেখক : বিভাগীয় প্রধান, হৃদরোগ বিভাগ, মুন্নু মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল।
 
 
[প্রিয় পাঠক, আপনিও দৈনিক যুগান্তর অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইলবিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, এখন আমি কী করব, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- [email protected] এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
 
 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত