প্রিন্ট সংস্করণ    |    
প্রকাশ : ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০৯:৩৬:৪০ প্রিন্ট
আ’লীগের পথের কাঁটা জাসদ, বিএনপিতে একক মঈন খান
মনোনয়ন দৌড়ে জাতীয় পার্টির আজম খান

পলাশ উপজেলাসহ সদর উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন নিয়ে নরসিংদী-২ আসনে বইতে শুরু করেছে নির্বাচনী আমেজ।

প্রযুক্তি কাজে লাগিয়েও চলছে প্রচার-যুদ্ধ। বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের পোস্টার-ব্যানারে ছেয়ে গেছে নির্বাচনী এলাকা। নানা কৌশলে প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে যাওয়ার চেষ্টায় লিপ্ত। কেন্দ্রের সঙ্গেও সমান তালে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন প্রার্থীরা।

নব্বইয়ের পটপরিবর্তনের পর আসনটি মূলত দখলে ছিল বিএনপির। এ আসনে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. মঈন খান।

তিনি ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে বিপুল ভোটে প্রতিপক্ষকে হারিয়ে এ আসন থেকে এমপি হন। তবে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ২০০৮ সালের নির্বাচনে আসনটি দখলে নেয় আওয়ামী লীগ।

বিজয়ী হন পলাশ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. আনোয়ারুল আশরাফ খান। আগামী নির্বাচনেও তিনি প্রার্থী।

২০১৪ সালে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) জায়েদুল কবির। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগের কামরুল আশরাফ খান পোটন।

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্থানীয় আওয়ামী লীগ তাকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চায়। এমপি হওয়ার পর থেকেই পোটন এলাকার উন্নয়নে ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং ব্যাপক উন্নয়ন করে তৃণমূলের দৃষ্টি কাড়েন।

বিশেষ করে নব্বইয়ের পটপরিবর্তনের পর টানা তিনটি নির্বাচনে আ’লীগ হারে বিপুল ভোটে। দীর্ঘ পরাজয়ের এ গ্লানি এবং সাংগঠনিক দুর্বলতা নিয়ে ২০০৪ সালে সম্মেলনের মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগ।

ওই সম্মেলনে ডা. আনোয়ারুল আশরাফ খান দিলিপকে সভাপতি করা হয়। তখন থেকেই পাল্টে যেতে থাকে পলাশের রাজনৈতিক চিত্র। খুব অল্পসময়েই আওয়ামী লীগ শক্তি সঞ্চয় করে। এর প্রতিফলন ঘটে ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। বিএনপির ঘাঁটি গণতান্ত্রিক পন্থায় ছিনিয়ে নেয় আশরাফ খান পোটন।

বিপুল ভোটে হারেন মঈন খান। এখানেই থেমে থাকেনি আওয়ামী লীগ। পলাশ উপজেলা চেয়ারম্যান বিজয়ী হন যুবলীগের সভাপতি সৈয়দ জাবেদ হোসেন। ঘোড়াশাল পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি শরীফুল হক শরীফ জয় পান পৌর চেয়ারম্যান পদে।

তবে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে মহাজোট থেকে নৌকা প্রতীকে জাসদ নেতা জায়েদুল কবিরকে মনোনয়ন দিলে হোচট খায় আওয়ামী লীগ। এ পদক্ষেপে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা বিভ্রান্তিতে পরে যান। ডা. আনোয়ারুল আশরাফের ছোট ভাই কামরুল আশরাফ খান পোটনকে স্বতন্ত্র প্রার্থী করা হয়।

পোটন সহজেই জায়েদুল কবিরকে হারিয়ে জয় ঘরে তোলেন। সে সময় যেসব নেতাকর্মী স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নেন, তাদের অনেকেই আওয়ামী লীগ থেকে বিতারিত।

আগামী নির্বাচন সামনে রেখে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে জাসদ নেতা জায়েদুল কবির সক্রিয় রয়েছেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়াতে পারে জাসদ।

কথা হয় এমপি কামরুল আশরাফ খান পোটনের সঙ্গে। আগামী নির্বাচনে তিনি তার বড় ভাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. আনোয়ারুল আশরাফ খান দিলিপকে আসনটি ছেড়ে দেয়ার কথা বলছেন। তিনি বলেন, আমি চাই আগামী নির্বাচনে এ আসন থেকে আমার বড় ভাই আশরাফ খান দিলিপ নির্বাচন করুক।

তবে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনে পোটনকে চাচ্ছেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা যুগান্তরকে জানিয়েছেন।

ডা. আনোয়ারুল আশরাফ খান বলেন, দশম সংসদ নির্বাচনে দল থেকে প্রথমে আমাকে মনোনয়ন দেয়া হলেও পরে মহাজোটের শরিক দল জাসদকে আসনটি ছেড়ে দিতে হয়। এবার এ আসনে নেত্রী আমাকে মনোনয়ন দেবেন বলে আমি আশাবাদী।

নব্বইয়ের পটপরিবর্তনের পর ২০০৮ সালের নির্বাচনে পলাশে বিএনপি প্রথম পরাজয়বরণ করে। এরপর থেকে একে একে উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র ও ইউনিয়ন পরিষদগুলোও চলে যায় আওয়ামী লীগের কব্জায়। এতে বিএনপির নেতাকর্মীদের মনোবল ভেঙে যায়। কয়েক বছর ধরে অব্যাহত হামলা-মামলায় বিএনপি এখনও কোণঠাসা।

তবে ধীরে ধীরে শক্তি সঞ্চয় করার পাশাপাশি নিজেদের ঘাঁটি ফিরে পেতে বিভিন্ন সভা-সমাবেশ করাসহ দলের নতুন সদস্য সংগ্রহের মাধ্যমে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে উপজেলা বিএনপি। কথা হয় পলাশ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এরফান আলীর সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, পলাশ এখনও বিএনপির ঘাঁটি।

একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হলেই তার প্রমাণ মেলবে। নতুন সদস্য সংগ্রহের কাজ চলছে। পলাশে বিএনপির একক প্রার্থী ড. মঈন খান।

মনোনয়ন সম্পর্কে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মঈন খান বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার কিংবা সহায়ক সরকার ছাড়া এ দেশে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না।

নির্বাচনের পরিবেশ স্বচ্ছ রাখতে লেভল প্লেয়েং ফিল্ড তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে সংসদ, মন্ত্রিসভা, তথা সরকারকে ক্ষমতা হস্তান্তর করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করতে হবে। পলাশে বিএনপির ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। আগামী নির্বাচনে আমরা জয়ী হব। ক্ষমতায় থাকাকালে পলাশে ব্যাপক উন্নয়ন কাজ হয়েছে।

আগামী নির্বাচন নিয়ে কথা হয় জাসদ নেতা জায়েদুল কবিরের সঙ্গে। তিনি বলেন, দশম সংসদ নির্বাচনে মহাজোট থেকে আমাকে মনোনয়ন দেয়া হলেও এমপি পরিবারের চাপে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আমার বিপক্ষে অবস্থান নেয়। তবে একাদশ নির্বাচনে হবে ভিন্ন চিত্র।

একসময় পলাশের রাজনৈতিক মাঠে জাতীয় পার্টি ছিল দ্বিতীয় অবস্থানে। অভিযোগ রয়েছে, জাতীয় পার্টির বেশিরভাগ নেতাকর্মী ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সঙ্গে লিয়াজোঁ করে চলছেন।

জাতীয় পার্টি নবম ও দশম নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে অবস্থান নেয়। দলের নেতারা জানান, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মঈন খানকে পরাজিত করে আওয়ামী লীগের বিজয় অর্জনে জাতীয় পার্টি বিরাট ভূমিকা পালন করে।

এ আসনে জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য আজম খান। আগামী নির্বাচন নিয়ে কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, আসনটি জাতীয় পার্টির ঘাঁটি ছিল।

এ আসন থেকে জাতীয় পার্টি দুইবার জয়লাভ করে। গত নির্বাচনে দল আমাকে মনোনয়ন দেয়। কিন্তু শেষ মুহূর্তে পার্টির চেয়ারম্যানের নির্দেশে আমি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াই।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে আমি নির্বাচন করতে চাই। কেন্দ্র থেকে আমাকে সংকেতও দেয়া হয়েছে। সেই থেকে আমি দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করে যাচ্ছি। ভোটারদের সঙ্গেও আমার যোগাযোগ রয়েছে।

এ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় যুববিষয়ক যুগ্ম সম্পাদক আবু সাঈদের নামও শোনা যাচ্ছে।


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত