• বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২০
প্রিন্ট সংস্করণ    |    
প্রকাশ : ২৪ জুন, ২০১৭ ০৯:০৩:০৫ প্রিন্ট
১০৮ বছরে সলিমুল্লাহ এতিমখানা

স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম এতিমখানা প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী সামাজিক প্রতিষ্ঠান। ১৯০৯ সালে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সমাজের অসহায় ও পিতৃ-মাতৃহীন শিশু-কিশোরদের আশ্রয়, ভরণ-পোষণ ও শিক্ষা-দীক্ষাসহ যাবতীয় গঠনমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অভিভাবকসুলভ ভূমিকা পালন করে আসছে।

জানা যায়, বাল্যকাল থেকেই আভিজাত্যের প্রাচীর ডিঙিয়ে খাজা সলিমুল্লাহ সব শ্রেণীর মানুষের সঙ্গে মিশতেন। ১৯০৯ সালে পিতা নওয়াব স্যার খাজা আহসানুল্লাহর মৃত্যুর পর জ্যেষ্ঠপুত্র হিসেবে তিনি ঢাকা নওয়াবের কর্তৃত্ব লাভ করেন। ১৯০৯ সালে ঢাকার তদানীন্তন মরহুম নবাব স্যার সলিমুল্লাহ আহসান মঞ্জিলের পাশে কুমারটুলির একটি ভাড়া বাড়িতে এতিমখানাটি প্রতিষ্ঠা করেন।

এতিমখানার পরিসর বাড়লে ১৯১৩ সালে এটিকে লালবাগের কাছে আজিমপুরে স্থানান্তর করা হয়। ওই বছরই গভর্নর লর্ড কারমাইকেল এতিমখানাটি পরিদর্শন করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নবাব সলিমুল্লাহ এতিমখানার যাবতীয় খরচ দিতেন।

১৯১৫ সালে নবাব বাহাদুরের মৃত্যুর পর এতিমখানাটি অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে। তখন ঢাকার অনেকেই আর্থিক সহযোগিতা করেন। ১৯১৫ সালে এতিমখানাটির দায়িত্ব একটি ব্যবস্থাপনা কমিটির ওপর অর্পণ করা হয়। এ সময়ে এতিমখানার নামকরণ করা হয় স্যার সলিমুল্লাহ এতিমখানা।

১৯২৩ সালে প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় আর্থিক সংকটে পড়লে সলিমুল্লাহর প্রথম সন্তান নওয়াব খাজা হাবিবুল্লাহ বাহাদুরকে এতিমখানার কমিটির সভাপতি এবং মৌলভী চৌধুরী ফরিদ উদ্দিনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। এ কমিটি আজিমপুরের বর্তমান জায়গায় ২১ বিঘা জায়গা কিনে সেখানে এতিমখানাটি প্রতিষ্ঠা করেন।

১৯৩০ সালে আজিমপুরে এতিমখানার মূল ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছিল। ১৯৩১ সালের ১০ আগস্ট বাংলার গভর্নর স্যার স্ট্যানলি জ্যাকসনের স্ত্রী লেডি জ্যাকসন এ ভবনের উদ্বোধন করেন।

১৯৫৮ সালে নওয়াব হাবিবুল্লাহর মৃত্যুর পর তার ছেলে নবাব খাজা হাসান আসকারী এতিমখানাটি চালালেও পরে তিনি দেশ ছেড়ে চলে যান।

ইতিমধ্যে কয়েক দফা কমিটি বদলেছে। ২০০৩ সালে সেই সময়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি এতিমখানার দুই বিঘা জমি একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে দিলে শিক্ষার্থীরা আদালতে যায়। আদালত ওই ভবনসহ জায়গা এতিমখানাকে ফিরিয়ে দিতে বলেন।

২০০৮ সালে ২ জানুয়ারি সরকার কমিটি বিলুপ্তি করে সমাজসেবা অধিদফতরের অধীনে সলিমুল্লাহ এতিমখানা পরিচালনার দায়িত্ব দেয়। বর্তমানে ঢাকা জেলা প্রশাসক এতিমখানাটি দেখভাল করছেন।

সমাজের নিঃস্ব, বিপন্ন, অসহায়, সহায়-সম্বলহীন এতিম বালক-বালিকাদের যাবতীয় ভরণ-পোষণের মাধ্যমে যুগোপোযোগী শিক্ষা-দীক্ষায় শিক্ষিত করে আদর্শ নাগরিকরূপে গড়ে তুলছে। তা ছাড়া নির্ধারিত বয়সসীমা পর্যন্ত শুধু ছেলেমেয়েদের ভরণ-পোষণ ও শিক্ষা দিয়েই ছেড়ে দেয়া হয় না। বরং তাদের পুনর্বাসনে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে যথাসাধ্য চেষ্টা করা হয়ে থাকে। সমাজের বিত্তশালী ও সহৃদয়বান ব্যক্তিদের সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটি এতিমদের ভরণ-পোষণ ও জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে।

স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম এতিমখানা দুটি শাখায় বিভক্ত। একটি ছেলেদের এবং অপরটি মেয়েদের। এই এতিমখানায় কেজি থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত অনাথ ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করতে পারে। এখানকার শিক্ষার্থীরা এখন রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় কর্মরত আছেন। যে কেউ এতিম শিশুদের প্রতি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে পারেন।


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত