• মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২০
মবরুর আহমদ সাজু    |    
প্রকাশ : ০৪ জুলাই, ২০১৭ ০৯:০২:২৯ প্রিন্ট
সিলেট প্রকৃতিতে স্বপ্নের হাতছানি

হাতে ঘড়ি নেই আছে মোবাইল, সময় ক’টা বাজে পকেট থেকে মোবাইল হাতে নিয়ে দেখলাম সময় মাত্র ১২টা। ঠিক দুপুর চারদিকে টিলা-পাহাড় আর দিগ দিগন্তজোড়া সবুজ বৃক্ষের আর নীল আকাশের নিচে যেন বর্ষায় সিলেটের মৌন ব্রত। এ সৌন্দর্য আর নতুন রঙের আলপনা ভ্রমণ প্রেমিকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।

বিচিত্র সৌন্দর্যে ভরপুর কোলাহলমুক্ত পরিবেশ, কোথাও সবুজ ক্ষেত, নিবিড় অরণ্য আবার কোথাও সুউচ্চ পর্বতমালা, দেখে মনে পড়ল কবি ফররুখ আহমদের সাত সাগরের মাঝির চরণ দুটি :

“শাহী দরজায় সকল কপাট অনেক আগেই খোলা অনেক আগেই সেখানে দ্বাদশী জোছনা দিয়েছে দোলা” আসলে, হযরত শাহজালাল (র.)-এর পুণ্যভূমি, মরমী কবি হাছন রাজা, বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিম, আলী আমজাদের ঘড়ি আর কিন ব্রিজের স্মৃতিবিজড়িত সিলেট তো প্রকৃতিপ্রেমীদের হাতছানি দিয়ে ডাকবেই। এবারের আয়োজন সিলেট নিয়ে।

শ্রী চৈতন্য দেব

ষোড়শ শতকে সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকা দক্ষিণে পণ্ডিত জগন্নাথ মিশ্রের কৃতী সন্তান শ্রী চৈতন্য (বিশ্বম্ভর মিশ্র) বাঙালির আধ্যাত্মিক জীবনে এক বৈপ্লবিক যুগের সূচনা করেন। ব্রাহ্মণ্যবাদ ও উগ্র বর্ণবাদের বিরুদ্ধে শ্রী চৈতন্য পরিচালিত গণবিপ্লবে বাংলার আপামর জনসাধারণ বিপুলভাবে সাড়া দিয়েছিলেন।

শ্রী চৈতন্যের সমকালে এবং এর বহুকাল পূর্ব থেকে নবদ্বীপে ঢাকা দক্ষিণের বহু বেদজ্ঞ অধ্যায়ন কিংবা অধ্যাপনার নিমিত্তে বসবাস করতেন। ঢাকা দক্ষিণ রত্নগর্ভ আচার্য্য সে সময় নবদ্বীপে বসবাসকারী এক পণ্ডিত ছিলেন। তার পুত্র যদুনাথ কবিচন্দ্র প্রসিদ্ধ বৈষ্ণব পদকর্তা ছিলেন।

তার রচিত “পদকল্পতরু” এক বিখ্যাত বৈষ্ণব কাব্য। পরবর্তীকালে ঢাকা দক্ষিণের প্রদ্যুন্ম মিশ্র (শ্রী চৈতন্যের জ্যেঠতুতো ভাই) রচিত “শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্যেদয়াবলী” এবং জগজ্জীবন মিশ্র রচিত “মনোঃসন্তোষিনী” বৈষ্ণব সাহিত্যে দুটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন।

অবস্থান : সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকা দক্ষিণ নামক স্থানে।

দূরত্ব : সিলেট শহর থেকে ৩০ কিমি।

যাতায়াত : সিলেট শহর থেকে জকিগঞ্জ বা বিয়ানীবাজার উপজেলাগামী যে কোনো বাস সার্ভিসে আপনি ঢাকা দক্ষিণ পর্যন্ত যেতে পারবেন। তারপর মহাপ্রভু শ্রী চৈতন্য দেবের বাড়ি যেতে আপনাকে ভ্যান বা রিকশা নিতে হবে।

কোথায় থাকবেন : আপনাকে থাকতে হবে গোলাপগঞ্জ অথবা সিলেট শহরে।

জাফলং

প্রকৃতি কন্যা হিসেবে সারা দেশে এক নামে পরিচিত সিলেটের জাফলং। খাসিয়া জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত জাফলং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি। পিয়াইন নদীর তীরে স্তরে স্তরে বিছানো পাথরের স্তূপ জাফলংকে করেছে আকর্ষণীয়।

সীমান্তের ওপারে ভারতের পাহাড় টিলা, ডাউকি পাহাড় থেকে অবিরাম ধারায় প্রবহমান জলরাশি, ঝুলন্ত ডাউকি ব্রিজ, পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ হিমেল পানি, উঁচু পাহাড়ে গহিন অরণ্য ও সুনসান নীরবতার কারণে এলাকাটি পর্যটকদের দারুণভাবে মোহাবিষ্ট করে। এসব দৃশ্যপট দেখতে প্রতিদিনই দেশি-বিদেশি পর্যটকরা ছুটে আসেন এখানে।

প্রকৃতি কন্যা ছাড়াও জাফলং বিউটি স্পট, পিকনিক স্পট, সৌন্দর্যের রানি- এসব নামেও পর্যটকদের কাছে ব্যাপক পরিচিত। ভ্রমণপিয়াসীদের কাছে জাফলংয়ের আকর্ষণই যেন আলাদা। সিলেট ভ্রমণে এসে জাফলং না গেলে ভ্রমণই যেন অপূর্ণ থেকে যায়।

সিলেট নগরী থেকে ৬২ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বদিকে গোয়াইনঘাট উপজেলায় জাফলংয়ের অবস্থান। জাফলংয়ে শীত ও বর্ষা মৌসুমের সৌন্দর্যের রূপ ভিন্ন। বর্ষায় জাফলংয়ের রূপ লাবণ্য যেন ভিন্ন মাত্রায় ফুটে ওঠে। ধূলি ধূসরিত পরিবেশ হয়ে উঠে স্বচ্ছ।

স্নিগ্ধ পরিবেশে শ্বাস-প্রশ্বাসে থাকে ফুরফুরে ভাব। খাসিয়া পাহাড়ের সবুজাভ চূড়ায় তুলার মতো মেঘরাজির বিচরণ এবং যখন-তখন অঝোর ধারায় বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি পথ হয়ে উঠে বিপদ সঙ্কুল। সেই সঙ্গে কয়েক হাজার ফুট ওপর থেকে নেমে আসা সফেদ ঝর্ণা ধারার দৃশ্য পর্যটকদের নয়ন জুড়ায়।

ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, হাজার বছর ধরে জাফলং ছিল খাসিয়া জৈন্তা-রাজার অধীন নির্জন বনভূমি। ১৯৫৪ সালে জমিদারি প্রথা বিলুপ্তির পর খাসিয়া জৈন্তা রাজ্যের অবসান ঘটে। তারপরও বেশ কয়েক বছর জাফলংয়ের বিস্তীর্ণ অঞ্চল পতিত পড়ে ছিল। ব্যবসায়ীরা পাথরের সন্ধানে নৌপথে জাফলং আসতে শুরু করেন। পাথর ব্যবসার প্রসার ঘটতে থাকায় গড়ে ওঠে নতুন জনবসতি।

আশির দশকে সিলেটের সঙ্গে জাফলংয়ের ৫৫ কিলোমিটার সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে জাফলংয়ের নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের কথা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। প্রকৃতিপ্রেমী দেশি-বিদেশি পর্যটকরা ভিড় করতে থাকেন জাফলংয়ে। জাফলং এখন দেশের অন্যতম সেরা পর্যটন স্পট।

কীভাবে যাওয়া যায়

অবস্থান : সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলায় অবস্থিত। সিলেট জেলা সদর থেকে সড়কপথে দূরত্ব মাত্র ৫৬ কিমি। সিলেট থেকে যাতায়াত : সিলেট থেকে আপনি বাস-মাইক্রোবাস-সিএনজিচালিত অটোরিকশায় যেতে পারেন জাফলংয়ে। সময় লাগবে ১ ঘণ্টা থেকে ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। ভাড়া : বাস জনপ্রতি ৫৫ টাকা, মাইক্রোবাস ১৭০০-২০০০ টাকা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা : ৭০০ টাকা।

কোথায় থাকবেন

থাকার তেমন সুব্যবস্থা জাফলংয়ে নেই। তবে যে কয়টি ব্যবস্থা আছে তার মধ্যে জেলা পরিষদের নলজুরী রেস্ট হাউস (থাকতে হলে আগে বুকিং দিতে হবে), শ্রীপুর পিকনিক স্পট উল্লেখযোগ্য। কিছু বোডিংয়ের ব্যবস্থা আছে। এছাড়া শ্রীপুর ফরেস্টের একটি বাংলো আছে পর্যটকদের থাকার জন্য।

লালাখাল

স্বচ্ছ নীল জল রাশি আর দু’ধারের অপরূপ সোন্দর্য, দীর্ঘ নৌপথ ভ্রমণের সাধ যে কোনো পর্যটকের কাছে এক দুর্লভ আকর্ষণ। তেমনি এক নির্জন মনকাড়া স্থান লালাখাল। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের স্থান এবং রাতের সৌন্দর্যে ভরপুর এ লালাখাল সিলেট জেলার জৈন্তাপুর উপজেলার সন্নিকটে অবস্থিত।

সারি নদীর স্বচ্ছ জলরাশির ওপর দিয়ে নৌকা অথবা স্পিডবোটে করে আপনি ঘুরতে পারেন লালাখালে। যাওয়ার পথে আপনি দু’চোখ সৌন্দর্য দেখতে দেখতে ক্লান্ত হয়ে যাবেন কিন্ত সৌন্দর্য শেষ হবে না।

৪৫ মিনিট যাত্রা শেষে আপনি পৌঁছে যাবেন লালখাল চা বাগানের ফ্যাক্টরি ঘাটে। মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকবেন নদীর পানির দিকে। কি সুন্দর নীল, তলদেশ পর্যন্ত দেখা যায়। ভারতের চেরাপুঞ্জির ঠিক নিচেই লালাখালের অবস্থান। চেরাপুঞ্জি পাহাড় থেকে উৎপন্ন এ নদী বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত।

কীভাবে যাওয়া যায়

সিলেট শহর থেকে লালাখাল যাওয়ার জন্য আপনাকে পাড়ি দিতে হবে ৩৫ কিমি রাস্তা। আপনি অনেকভাবে লালাখাল যেতে পারেন। বাস, মাইক্রো, টেম্পোযোগে সহজেই যাওয়া যাবে।

থাকবেন কোথায়

লালাখালে থাকার তেমন কোনো সুবিধা নেই। সাধারণত পর্যটকরা সিলেট শহর থেকে এসে আবার সিলেট শহরে হোটেলে রাত কাটান। সাম্প্রতিক নাজিমগড় রিসোর্ট নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত পিকনিক স্পট গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছে।

হযরত শাহজালাল (র.) মাজার

হযরত শাহজালাল (র.) ছিলেন উপমহাদেশের একজন বিখ্যাত দরবেশ ও পীর। তিনি ওলিকুল শিরোমণি হিসেবে খ্যাত। সিলেট অঞ্চলে তার মাধ্যমেই ইসলামের প্রসার ঘটে। সিলেটের প্রথম মুসলমান শেখ বুরহান উদ্দিনের ওপর রাজা গৌর গোবিন্দের অত্যাচার এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে হযরত শাহজালাল (র.) ও তার সফরসঙ্গী ৩৬০ আউলিয়ার সিলেট আগমন ইতিহাসের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এ কারণে সিলেটকে ৩৬০ আউলিয়ার দেশ বলা হয়। সিলেটকে পুণ্যভূমি অভিধায়ও অভিহিত করা হয়।

আরবের মাটি ও সিলেটের মাটি

কথিত আছে, প্রাচ্যদেশে আসার আগে শাহজালাল (র.)-এর মামা মুর্শিদ সৈয়দ আহমদ কবীর (র.) তাকে এক মুঠো মাটি দিয়ে বলেন, ‘স্বাদে বর্ণে গন্ধে এ মাটির মতো মাটি যেখানে পাবে সেখানে আস্তানা গেড়ে ইসলাম প্রচার করবে।’

হযরত শাহজালালের (র.) বিশিষ্ট শিষ্য শেখ আলীকে এ মাটির দায়িত্বে নিয়োগ করেন এবং নির্দেশ দেন যে, যাত্রাপথে বিভিন্ন জনপদের মাটি পরখের সঙ্গে যেন এ জনপদের মাটির মিল তিনি অনুসন্ধান করেন। পরে এ শিষ্যের উপাধি হয় চাষণী পীর। সিলেট শহরের গোয়াইপাড়ায় তার মাজার বিদ্যমান।

সিলেটের মাটির সঙ্গে আরবের মাটির মিল পাওয়ায় হযরত শাহজালাল (র.) সিলেটে বসতি স্থাপন করে ইসলাম প্রচারে মনোনিবেশ করেন। সিলেটে তেল ও গ্যাস পাওয়ায় আরবের মাটি ও সিলেটের মাটির মিল প্রমাণিত হয়েছে।

কীভাবে যাওয়া যায়

সিলেট রেলস্টেশন অথবা কদমতলী বাসস্ট্যান্ডে নেমে রিকশা বা সিএনজি অটোরিকশাযোগে মাজারে যাওয়া যায়। রিকশা ভাড়া ২০-২৫ টাকা, সিএনজি ভাড়া ৮০-১০০ টাকা। সুরমা নদী পার হয়ে মূল শহরে এসে মাজার এ পৌঁছতে হয়। মাজার গেট রোডে ভালো ভালো অনেক আবাসিক হোটেল রয়েছে।

মালনীছড়া চা বাগান

চা একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় পানীয়। সকালে এক কাপ গরম চা না পেলে বাঙালি সমাজের যেন একদম চলে না। বাংলাদেশের যে কয়টি অঞ্চলে চা বাগান পরিলক্ষিত হয় তার মধ্যে সিলেট অন্যতম। সিলেটের চায়ের রং, স্বাদ এবং সুবাস অতুলনীয়। উপমহাদেশের প্রথম চা বাগান সিলেট শহরে অবস্থিত। নাম মালনীছড়া। ১৮৪৯ সালে এ চা বাগান প্রতিষ্ঠিত। বর্তমানে বেসরকারি তত্ত্বাবধানে চা বাগান পরিচালিত হয়ে আসছে। ১৫০০ একর জায়গার ওপর এ চা বাগান অবস্থিত। চা বাগানের পাশাপাশি বর্তমানে এখানে কমলা ও রাবারের চাষ করা হয়।

মালনীছড়া চা বাগান ছাড়াও সিলেটে লাক্ষাতুড়া চা বাগান, আলী বাহার চা বাগান, খাদিম, আহমদ টি স্টেট, লালাখাল টি স্টেট উল্লেখযোগ্য।

অবস্থান : মালনীছড়া এবং লাক্ষাতুড়া চা বাগান দুইটিই সিলেট শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত। শহরের কেন্দ্রস্থল জিন্দাবাজার পয়েন্ট থেকে গাড়িতে মাত্র ১৫ মিনিটের পথ।

কী কী দেখবেন : পাহাড়ের গায়ে চা বাগানের দৃশ্য, ছায়া বৃক্ষ, চা শ্রমিকদের আবাসস্থল, কমলার বাগান, রাবার বাগান, চা তৈরির প্রক্রিয়া।

কোথায় অবস্থান করবেন : সাধারণত চা বাগানে থাকার তেমন কোনো সুব্যবস্থা নেই। আপনাকে সিলেট শহরেই থাকতে হবে।

কীভাবে যাওয়া যায়

সিলেট শহর থেকে রিকশাযোগে অথবা অটোরিকশা বা গাড়িতে বিমানবন্দর রোডে চা বাগানটি পাওয়া যাবে। গাড়িতে যেতে আম্বরখানা পয়েন্ট থেকে ১০ মিনিটের পথ। রিকশাযোগে যেতে আধ ঘণ্টা লাগবে।

জাকারিয়া সিটি

তথ্যসূত্র জেলা তথ্য বাতায়ন থেকে জানা যায় দেশে শীতের পর বর্ষায় নান্দনিক রূপে ভেসে উঠে পর্যটনের মৌসুম শুরু হয়ে গেছে। এখন ভ্রমণকারীর সংখ্যাও বেড়েছে প্রচুর। সিলেট ভ্রমণে দুটি মাজারসহ মূলত টার্গেট থাকে জাফলং আর মাধবকুণ্ড দর্শনের। সিলেটে এসে যেখানে থাকবেন সেটিও যদি হয় দেখার মতো, সময় কাটানোর মতো- তেমনই চমৎকার প্রকৃতির কাছাকাছি থাকার সুযোগ করে দিয়েছে জাকারিয়া সিটি।

সিলেট শহর থেকে প্রায় ১১ কিমি দূরে জাফলং রোডে খাদিমনগরে ৩টি টিলার সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে এ সিটি। প্রায় ১৭ একরের এ হলিডে রিসোর্টে রয়েছে থ্রি স্টার মোটেল, শিশুপার্ক, অডিটোরিয়াম, মিনি চিড়িয়াখানা ইত্যাদি। প্যাকেজ ট্যুরে জাফলং, মাধবকুণ্ড, শ্রীমঙ্গল, ছাতক, হাওর ও মাজারে ভ্রমণের ব্যবস্থা আছে।

দিনপ্রতি রুম ভাড়া বাবদ খরচ হবে ২৮৫০ থেকে ১২৬০০ টাকা। মাত্র ৫০ টাকা জনপ্রতি টিকিট কেটে আপনি পুরো এলাকা ঘুরে দেখতে পারেন। আর শিশুরা সঙ্গে থাকলে তাদের আনন্দটা হবে সীমাহীন।

বিছানাকান্দি

এ সময়ের সিলেটের আকর্ষণীয় জায়গাগুলোর মধ্যে বিছানাকান্দি উল্লেখযোগ্য। প্রকৃতির আপন লীলায় মেতে আছে বিছনাকান্দি। অবসরে বেড়ানোর আদর্শ জায়গা এটি। অপার সৌন্দর্যের জল পাথরের ভূমি বিছানাকান্দি! দৃষ্টির শেষ সীমানা পর্যন্ত রয়েছে শুধু পাথর আর পাহাড়।

মাইক্র করে রাতারগুল থেকে চলে এলাম হাদারপার বাজার- সময় লাগল ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। হাদারপার বাজার থেকে হেঁটেও বিছানাকান্দি যাওয়া যায়, মাঝে ১০ টাকায় নৌকা পারাপার। কিন্তু আমরা ১৬০০ টাকায় ঘাটে থাকা একমাত্র ট্রলারটি ভাড়া করে বিছানাকান্দি এলাম (সাধারণত আপ-ডাউন ভাড়া ৪০০-৫০০ টাকা, পরে বুঝতে পারলাম হেঁটে আসাই ভালো ছিল), দেখতে পেলাম গোয়াইন নদী থেকে সীমানার ওপারের পাহাড় থেকে ঝরে পড়ছে ৮-১০টি ঝরনা। এমন দৃশ্য আমি আগে কখনও দেখিনি। আকাশে অনেক বেশি মেঘ থাকায়, ঝরনাগুলো ছিল অনেক প্রাণবন্ত।

সবুজ পাহাড় বেয়ে ঝরেপড়া ঝরনাগুলো প্রকৃতিকে করে দিল আরও বেশি স্নিগ্ধ এবং মনোরম। ৩০ মিনিট এ মনোরম দৃশ্য দেখতে দেখতে পৌঁছে গেলাম স্বপ্নের বিছানাকান্দি। দূর থেকে চোখে পড়ল শত শত মানুষের ভিড়। তখনই বুঝে গেছি কাছ থেকে কতনা সুন্দর হবে বিছনাকান্দি।

ইদানীং পর্যটক বেশি দেখে নৌকার কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে নৌকা ভাড়া বেশি নিচ্ছে। সে ক্ষেত্রে ১০০০-২০০০ টাকা পর্যন্ত চাইতে পারে। তাই ওঠার সময় দামাদামি করে উঠবেন, কারণ হাদার বাজার থেকে বিছনাকান্দির দূরত্ব খুব একটা বেশি নয়। ইঞ্জিনচালিত নৌকায় যেতে সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট লাগে।

ঘাটে ট্রলার ভিড়ার সঙ্গে সঙ্গে লাফিয়ে পড়ি বিছানাকান্দির বালিতে। সামনে চোখে পড়ল অসংখ্য পাথর, মনে হচ্ছিল- এটি যেন পাথরের বিছানা। ছুটে চললাম পাহাড়ের মাঝ দিয়ে বয়ে আসা পানির দিকে। খুবই সাবধানতার সঙ্গে অনেক পাথর পেরিয়ে একদম শেষ প্রান্তে চলে গেলাম।

যেখানে মানুষের কোলাহল কম। ইতিমধ্যে ভারতের সীমানায় চলে এসেছি সবাই। কে দেখে সীমানার লড়াই, আমরা ব্যস্ত গা ভিজানোতে। মেঘালয় রাজ্যের পাহাড় থেকে নেমে আসা ঝরনার শীতল পানিতে পা ফেললেই মনে হবে পৃথিবীর সব শান্তি যেন এখানে।

প্রবল বেগে বয়ে আসা শীতল পানি আমাদের শরীর ও মনকে প্রশান্তিতে ভরে দিল। গা ভাসিয়ে প্রকৃতির নীরব সৌন্দর্য উপভোগ করলাম অনেকটা সময় ধরে । ফিরে এসে অনেক ক্লান্ত হয়ে পড়লাম। ঘড়িতে সময় তখন ৪টা। ভ্রাম্যমাণ হোটেলগুলোতে খাবার প্রয় শেষ।

৫০ টাকা করে ডিম দিয়ে ভাত, কেউ কেউ খেল ছোলা বিরিয়ানি (শুধু সিলেটে পাওয়া যায়)। খাওয়া-দাওয়া শেষে ট্রলার করে হাদারপার ফিরে আসতে ঘড়ি বলে দিল, এখন সময় বিকাল ৫টা। যেতে হবে পাং থু মাই- সময় লাগবে প্রায় ২ ঘণ্টা। ৫টা ১৫ মিনিটে রওনা হলাম পাং থু মাইয়ের উদ্দেশে।

যেভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে সিলেটে আপনি ট্রেনে বা বাসে করে যেতে পারেন। সিলেট শহরের যে কোনো প্রান্ত থেকে রিজার্ভ করা সিএনজি নিয়ে যেতে হবে হাদারবাজার, ভাড়া নেবে বড়জোর ৫০০ টাকা। সিলেটের আম্বরখানা থেকেও যাওয়া যায় আলাদাভাবে। সেখানে প্রতি সিএনজিতে চারজন করে নেয়া হয় হাদারবাজার পর্যন্ত। ভাড়া জনপ্রতি ৮০ টাকা। সময় লাগবে দেড় ঘণ্টার মতো। হাদারবাজার নেমে নৌকা ঠিক করতে হবে বিছনাকান্দি পর্যন্ত। ভাড়া নেবে ৪০০-৫০০ টাকা আপ ডাউন।

ছবি সুমন্ত গুপ্ত


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত